মধুমতির ভাঙনরোধ কাজে খুশি এলাকাবাসী

আপডেট: 01:57:31 01/05/2019



img

রূপক মুখার্জি, লোহাগড়া (নড়াইল) : লোহাগড়া উপজেলার কোটাকোল ইউনিয়নের ঘাঘা গ্রাম এলাকায় দীর্ঘ দশ বছর পর মধুমতি নদীর ভাঙনরোধে কাজ শুরু হওয়ায় খুশি এলাকাবাসী।
৪১০ মিটার স্থায়ী প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ শুরু করায় মধুমতি নদীর ভয়াবহ ভাঙন থেকে রক্ষা পেয়েছে ঘাঘা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, স্লুইসগেটসহ অন্তত ১০০ বাড়িঘর ও ৫০০ শতাধিক গাছপালা।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, লোহাগড়ার ভাঙনকবলিত ঘাঘা গ্রামে ৪১০ মিটার এলাকায় সাড়ে ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে স্থায়ী প্রতিরক্ষা কাজ চলছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রতিরক্ষা কাজ শুরু হয়। এ লক্ষ্যে জিও ব্যাগ ও ব্লক নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে আট হাজার জিও ব্যাগ ডাম্পিং করা হয়েছে। আরো জিও ব্যাগ ও ব্লক দেওয়া হবে। আগামী বছর (২০২০) মে মাসে এ কাজ শেষ হবে। কাজটি বাস্তবায়ন করছে কুমিল্লার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স মশিউর রহমান চৌধুরী’।
ঘাঘা গ্রামের নূরুল হক শেখ (৫৮) বলেন, দশ বছর ধরে নদী ভাঙনের কারণে পাকা রাস্তা, শত শত বাড়িঘর, গাছপালা ও ফসলি জমি নদীগর্ভে চলে গেছে। গত বছরও বর্ষা মওসুমে এ এলাকা ভেঙেছে। নদী ভাঙনে নিঃস্ব হয়ে অনেক পরিবার অন্যত্র চলে গেছে। অনেকে ভাড়া বাসায় আছেন। ইতিমধ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ড ভাঙনরোধে কাজ শুরু করায় গ্রামবাসী আনন্দিত। কাজটি যথাসময়ে শেষ হওয়া দরকার।
আলেয়া নামে এক নারী বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে নদী ভাঙনে এ এলাকার অনেক মানুষ নিঃস্ব হয়েছে। বর্তমানে যারা গ্রামে বসবাস করছে, তারা অপেক্ষায় আছে, কবে প্রতিরক্ষা কাজ শেষ হবে।’
কামরুল বিশ্বাস (৫০) নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, দীর্ঘ দশ বছর পর পানি উন্নয়ন বোর্ড কাজ শুরু করেছে। ভাঙনের কবলিত স্থানে বর্তমানে জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে। যত তাড়াতাড়ি কাজ শেষ হবে, এলাকার মানুষের উপকার হবে। ঘাঘা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ অনেক বাড়িঘর ভাঙন থেকে রক্ষা পাবে।
ঠিকাদার তারিক হাসান বলেন, ‘ভাঙনরোধে প্রতিদিন এক হাজার থেকে এক হাজার ২০০ জিও ব্যাগ ডাম্পিং করা হচ্ছে। আশা করছি মে মাসের মধ্যে জিও ব্যাগ ফেলা শেষ হবে। এছাড়া দ্রুত ব্লকও ডাম্পিং করা হবে। যথাসময়ে কাজটি শেষ করতে পারব বলে আশাবাদী।’
ঘাঘা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা বলেন, ভাঙনের মুখে জিও ব্যাগ ফেলায় প্রাইমারি স্কুলটি আপাতত রক্ষা পেয়েছে। স্থায়ী প্রতিরক্ষা বাঁধের কাজ শেষ হলে স্কুলটি পুরোপুরি ঝুঁকিমুক্ত হবে বলে আশা করছেন তারা। 
কোটাকোল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মারিয়া হোসেন বলেন, ঘাঘা এলাকায় মধুমতি নদীতে স্থায়ী প্রতিরক্ষা বাঁধের ফলে ঘাঘা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, স্লুইসগেটসহ অন্তত ১০০ বাড়িঘর, পাঁচ শতাধিক গাছপালা ও জমি রক্ষা পাবে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড নড়াইলের নির্বাহী প্রকৌশলী শাহানেওয়াজ তালুকদার বলেন, খুলনার ভূতিয়ার বিল ও বর্ণাল-সলিমপুর-কোলাবাসুখালী বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও পুনর্বাসন’ প্রকল্পের (দ্বিতীয় পর্যায়) আওতায় ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ঘাঘা এলাকার মধুমতি নদীর ডান পাড়ের ৪১০ মিটার স্থায়ী প্রতিরক্ষা বাঁধ কাজ চলমান রয়েছে। প্রকল্পের কাজ শেষ হলে এ এলাকার নদী ভাঙন রোধ হবে এবং স্থানীয় জনগণসহ কোটাকোল ইউনিয়নবাসী এ কাজের সুফল পাবেন।

আরও পড়ুন