মরণফাঁদ যশোর-কুষ্টিয়া মহাসড়ক

আপডেট: 06:00:45 11/12/2017



img
img
img

শৈলকুপা (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি : যশোর-ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া মহাসড়কের ৯০ কিলোমিটার রাস্তা মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। সংস্কারের অভাবে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে এই মহাসড়কটি।
এর ফলে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। অকালে প্রাণ হারাচ্ছে অনেক মানুষ আর পঙ্গুত্ববরণ করে দুর্বিসহ জীবনযাপন করছে অনেকে। সেই সঙ্গে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে যাত্রীদের।
রাস্তাটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দ্রুতই এ সমস্যার সমাধান করা হবে জানিয়েছে সড়ক বিভাগ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ঝিনাইদহ থেকে কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ থেকে যশোর এই মহাসড়কের প্রায় ৩০টি স্থানে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত। প্রায় দুই বছর ধরে এই সড়কটির লাউদিয়া, তেঁতুলতলা বাজার, বিষয়খালী এলাকা, কয়ারগাছি, বেজপাড়া, বাকুলিয়া, কালীগঞ্জের কলেজ মোড়, ব্র্যাক অফিসের সামনে, বৈশাখী পেট্রোল পাম্প এলাকা, মোবারকগঞ্জ চিনিকলের সামনে, ফুলবাড়ি, শৈলকুপার শেখপাড়া বাজার, মদনডাঙ্গা বাজার, চড়িয়ারবিল বাজার, গাড়াগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড, ভাইট বাজার, শহরের আরাপপুর, তাসলিমা ক্লিনিকের সামনের এলাকায় বিটুমিন আর পাথর উঠে ছোট বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে।
এসব গর্তের কারণে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। সম্প্রতি ঝিনাইদহ-যশোর মহাসড়কের লাউদিয়ায় মহাসড়কের গর্ত এড়িয়ে গাড়ি চলাচল করতে গিয়ে বাস খাদে পড়ে নিহত হন হেলপার আজাদ, আহত হন আরো তিনজন।
ওই এলাকার লোকজন জানান, লাউদিয়ায় রাস্তায় বড় গর্ত রয়েছে। সেই গর্ত এড়িয়ে চলাচল করতে গিয়েই দুর্ঘটনা ঘটছে।
ঝিনাইদহ শহরের পবহাটিতে বাস ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে ১৫ জন আহত হন।
এমনই নিত্য দুর্ঘটনা ঘটছে ঝিনাইদহের এই মহাসড়কের প্রায় সবস্থানেই। এছাড়া প্রতিনিয়ত যান বিকল হয়ে যানচলাচল বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ঝিনাইদহ সদর উপজেলার তেঁতুলতলায় গত মাসে মহাসড়কে একটি ট্রাক বিকল হয়ে যাওয়া প্রায় ছয় ঘণ্টা বন্ধ থাকে যানচলাচল। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতায় রাস্তা থেকে ট্রাকটি সরানো হলে যানচলাচল স্বাভাবিক হয়।
ঝিনাইদহ-মাগুরা মহাড়সড়কের পাঁচ মাইলে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের দুই কর্মকর্তা। এছাড়াও ঝিনাইদহ-চুয়াডাঙ্গা সড়কের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান জেলা মুখ্য পাট পরিদর্শক।
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ-যশোর মহাসড়ক। যশোরের বেনাপোল ও সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে ঝিনাইদহের ওপর দিয়ে উত্তরবঙ্গসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের যানবাহন চলাচল করে। গুরুত্বপূর্ণ এ মহাসড়ক দিয়ে ঢাকা, রাজশাহী, ফরিদপুরসহ জাতীয় ও আঞ্চলিক বিভিন্ন রুটের যাত্রীবাহী বাসসহ পণ্যবাহী যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু রাস্তাটি ভেঙেচুরে একাকার হওয়ার কারণে যাতায়াতের সময়ের পাশাপাশি বেড়েছে ভোগান্তি। মাঝে মধ্যে ইট-বালি দিয়ে গর্তগুলো ভরাট করা হলেও সেই মেরামত দীর্ঘস্থায়ী হয়নি।
ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার কাচেরকোল গ্রামের মোটরসাইকেলচালক জহির উদ্দিন বলেন, ‘শৈলকুপার শেখপাড়া বাজার থেকে ঝিনাইদহ শহর পর্যন্ত ২৫ কিলোমিটার সড়কটি সম্পূর্ণ খানাখন্দে পরিণত হয়েছে। সড়কের খারাপ অবস্থার কারণে উপজেলা থেকে মোটরসাইকেলে আসা যাত্রীদের দুর্ভোগ এখন চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। জেলা শহরে আসতে গিয়ে রাস্তার ঝাঁকুনিতে অসুস্থ হয়ে পড়ছে অধিকাংশ যাত্রী।
কালীগঞ্জের ব্যবসায়ী নন্দদুলাল সাহা বলেন, ‘ব্যবসার প্রয়োজনে কালীগঞ্জ থেকে ঝিনাইদহ শহরে আমাকে প্রতিদিন আসতে হয়। কিন্তু১৫ কিলোমিটার রাস্তার প্রায় দশ কিলোমিটার চলাচলের অনুপোযোগী হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ওই সড়কটি ভাঙাচোরা অবস্থায় পড়ে আছে।’
ভাঙাচোরা সড়কে গাড়ি চালাতে খুবই ভোগান্তিতে আছেন যানবাহন চালকরা। রাস্তার মাঝে বিকল হয়ে পড়ছে বহু গাড়ি।
বাস চালক রবিউল আলম জানান, সড়কের বেহাল দশার কারণে পাঁচ মিনিটের পথ যেতে এখন ২৫ থেকে ৩০ মিনিট সময় লাগে। মাঝে মধ্যে গাড়ির চাকা পাংচার, যান্ত্রিক সমস্যাসহ গর্তে পড়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সড়কে আটকে থাকতে হয় গাড়ি নিয়ে।’
ট্রাকচালক কালাম হোসেন জানান, মহাসড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় গাড়ির পাতি, এক্সেল, টায়ার বসে যায়। একবার নষ্ট হলে প্রায় দশ হাজার টাকা খরচ করতে হয়। রাস্তাটি যদি ভালোমতো মেরামত করা হতো তাহলে এই ভোগান্তি থেকে তারা রেহাই পেত।
এলাকাবাসীর অভিযোগ সওজ থেকে যানবাহন চলাচলের উপযোগী করতে কয়েক দফা খোয়া-বালি দিয়ে জোড়াতালির সংস্কার করা হয়। কিন্তু এসব কাজের মান খারাপ হওয়া দুই-এক দিনের মধ্যে তা উঠে যায়।
ঝিনাইদহ জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির সভাপতি রোকনুজ্জামান রানু বলেন, ‘জেলা বাস মালিক সমিতির অধীনে প্রায় তিন হাজার গাড়ি রয়েছে। মহাসড়কটির বেহাল দশার কারণে মালিকদের ডেমারেজ বেড়ে গেছে। এভাবে চলতে থাকলে পরিবহন ব্যবসা ছেড়ে দিতে হবে।’
এ ব্যাপারে ঝিনাইদহ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, ‘কুষ্টিয়া থেকে যশোর পর্যন্ত প্রায় ৯০ কিলোমিটার রাস্তার প্রায় সব স্থানে ক্রোকোডাইল ক্রাক (কুমিরের গায়ের মতো অবস্থা)। এই মহাসড়কটি দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৮০ হাজার যানবাহন চলাচল করছে। সড়কটি মাঝে মধ্যে সংস্কার করা হচ্ছে, কিন্তু অধিক ভারি যানবাহন চলাচল করায় তা স্থায়ী হচ্ছে না। এই সড়কটি ভালোভাবে সংস্কারের জন্য দ্রুত টেন্ডার আহ্বান করা হবে।

আরও পড়ুন