মাগুরায় জমজমাট ঐতিহ্যবাহী কাত্যায়নী পূজা

আপডেট: 02:10:57 09/11/2016



img
img

মাগুরা প্রতিনিধি : বর্ণিল আয়োজনে মাগুরার ৮৪টি মন্দিরে চলছে ঐতিহ্যবাহী কাত্যায়নী পূজা। এই উৎসবে দেশের বিভিন্ন জেলার হাজার হাজার দর্শনার্থীর উপস্থিতিতে মাগুরা শহর এখন উৎসবমুখর।
রোববার শুরু হওয়া এ পূজা চলবে ১০ নভেম্বর বৃহস্পতিবার পর্যন্ত। তবে পূজা উপলক্ষে মেলা চলবে একমাস। নির্বিঘ্নে পূজা সম্পন্ন করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তায় ব্যবস্থা।
কাত্যায়নী পূজা উপলক্ষে প্রতিমার পাশাপাশি প্রতিটি মণ্ডপে তৈরি করা হয়েছে আর্কষণীয় সব গেট-প্যান্ডেল। বর্ণিল অলোকসজ্জায় সজ্জিত করা হয়েছে আশপাশের এলাকা। বিভিন্ন ধর্মীয় কাহিনি অবলম্বনে মণ্ডপগুলোতে দেখানো হচ্ছে নানা ডিসপ্লে। এসব আয়োজন দেখতে সন্ধ্যা থেকে শেষ রাত পর্যন্ত ভীড় করছেন সারাদেশ থেকে আসা হাজার হাজার দর্শনার্থী। মনোমুদ্ধকর বর্ণিল এসব আয়োজন উপভোগ করে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছেন দর্শনার্থীরা।
জামরুতলা পূজা কমিটির সভাপতি ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পঙ্কজ কুণ্ডু জানান, এবছর প্রতিটি মন্দিরে বাড়তি সাজ-সজ্জার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। জামরুলতলা মন্দিরে গেট-প্যান্ডেল, লাইটিং-এর পাশাপাশি মন্দিরের প্রতিমার মাধ্যমে অসূর বধ দেখানো হচ্ছে। এ বছর প্রথম দিন থেকেই দর্শনার্থীদের ব্যাপক ভীড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
নতুনবাজার বটতলা পূজা কমিটির নেতা পার্থসারথী বিশ্বাস জানান, দেব-দেবতাদের কীর্তি তুলে ধরে এ বছর তারা ম-পে আর্কষণীয় প্রতিমা স্থাপন করেছেন। পাহাড়ের আদলে প্যান্ডেল নির্মাণ করা হয়েছে। যেখানে রামচন্দ্রের ভাই লক্ষণের জীবন বাঁচাতে হনুমান গন্ধমাধদ পর্বত হাতে নিয়ে নেমে আসছেন।
জেলা পূজা কমিটির সভাপতি প্রদ্যুৎ বিশ্বাস ও সাধারণ সম্পাদক বাসুদেব কুণ্ডু জানান, এ পূজায় ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতায় শুধু অংশ নেন হিন্দু সম্প্রদায়ের লোক। কিন্তু এর উৎসব ও আয়োজনে অংশ নেন, সহযোগিতা করেন সব ধর্মের মানুষ। এটি জেলার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য দৃষ্টান্ত।
বাসুদেব কুণ্ডু জানান, বিগত ৭০ বছর ধরে ব্যাপক আয়োজনে মাগুরায় কাত্যায়নী পূজা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। শহরতলীর পারনান্দুয়ালী গ্রামের সতীশ মাঝি এ পূজার প্রথম শুরু করেন।
পুলিশ সুপার মুনিবুর রহমান জানান, পূজামণ্ডপ ও দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিটি পূজামণ্ডপে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পাশের একাধিক জেলা থেকে বাড়তি পুলিশ আনা হয়েছে। সাদা পোশাকে পুলিশের পাশাপাশি প্রতিটি মণ্ডপে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।