মাগুরায় দলিল রেজিস্ট্রিতে পুকুর চুরির অভিযোগ

আপডেট: 11:34:27 01/06/2018



img

মাগুরা প্রতিনিধি : নির্ধারিত দামের চেয়ে কম মূল্য দেখিয়ে দলিল রেজিস্ট্রি করায় মাগুরা সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিস থেকে প্রতিমাসে কমপক্ষে পাঁচ কোটি টাকা কম রাজস্ব আদায় হচ্ছে। সে হিসেবে বছরে কমপক্ষে ৬০ কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। জমির শ্রেণি বদল করে কম দাম দেখিয়ে দলিল সম্পাদন করে এর মাধ্যমে সাব-রেজিস্ট্রারসহ দালালরা বছরে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।
মাগুরা শহরের পারনান্দুয়ালী মৌজার ধানি শ্রেণির প্রতি শতক জমির দাম এক লাখ চার হাজার ৪৪৭ টাকা। সম্প্রতি ওই মৌজার আট শতক ধানি জমি পুকুর শ্রেণি উল্লেখ করে ৪৪৮৬/১৭ নম্বর দলিলে প্রতি শতক বিক্রি লেখা হয়েছে মাত্র পাঁচ হাজার ৮১৬ টাকা দরে। সে হিসেবে একমাত্র ওই দলিলটিতেই সরকার রাজস্ব হারিয়েছে পাঁচ লাখ ৯১ হাজার ৬৮২ টাকা। সম্প্রতি মাগুরা সাব রেজিস্ট্রি অফিসের বিরুদ্ধে এ সংক্রান্ত একটি অভিযোগ তদন্ত করতে গিয়ে এ ধরনের একাধিক জমির শ্রেণি পরিবর্তন করে অবমূল্যায়নের তথ্য পেয়েছে জেলা প্রশাসন। তদন্তে কমপক্ষে চারটি দলিলে এ ধরনের জালিয়াতির তথ্য উঠে এসেছে। যা ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আইন মন্ত্রণালয়কে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে রেজিস্ট্রি অফিস সংলগ্ন একাধিক সূত্র জানায়, মাগুরা সদর সাব রেজিস্ট্রি অফিসে প্রতিমাসে প্রায় এক হাজার দলিল রেজিস্ট্রি হয়। এসব দলিলের একটি বড় অংশেরই শ্রেণি পরিবর্তন করে রেজিস্ট্রি করা হচ্ছে। সরকার-নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে কম দাম দেখিয়ে দলিল রেজিস্ট্রি করায় সদর সাব রেজিস্ট্রি অফিস থেকে প্রতিমাসে কমপক্ষে পাঁচ কোটি টাকা কম রাজস্ব আদায় হচ্ছে। সে হিসেবে বছরে কমপক্ষে ৬০ কোটি টাকার রাজস্ব হারায় সরকার। এ ধরনের দলিল তৈরিতে কোটি টাকার অবৈধ লেনদেনে সংশ্লিষ্ট সাব রেজিস্ট্রারসহ এক শ্রেণির দলিল লেখক ও সাব রেজিস্ট্রি অফিসের একটি শক্তিশালী চক্র জড়িত রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
তবে মাগুরা সদর সাব রেজিস্ট্রার আলী আকবর অনিয়মের কথা অস্বীকার করে বলেছেন, সংশ্লিষ্ট প্রতিটি কাগজের সঙ্গে মিল রেখেই দলিল সম্পাদন করা হয়। তবে অনেক ক্ষেত্রে এসএ পরচা ও আরএস পরচার ভিন্নতার কারণে শ্রেণি নিয়ে দুএকটি ব্যত্যয় দেখা দিতে পারে।
মাগুরার জেলা প্রশাসক মো. আতিকুর রহমান জানান, ‘অভিযোগ পেয়ে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে একটি তদন্ত পরিচালনা করি। ওই তদন্ত বিভিন্ন অনিয়মের রিপোর্ট আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।’

আরও পড়ুন