মাগুরা পাসপোর্ট অফিসে জনভোগান্তি

আপডেট: 02:56:02 13/02/2018



img

মাগুরা প্রতিনিধি : গত বৃহস্পতিবার মাগুরায় শেষ হয়েছে পাসপোর্ট সেবা সপ্তাহ। কিন্তু মাগুরা পাসপোর্ট অফিসের সেবার মান একটুও বাড়েনি। বরং ১২ ফেব্রুয়ারি সোমবার পাসপোর্ট করতে আসা ব্যক্তিরা সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত অপেক্ষা করলেও তাদের কপালে জোটেনি কোনো সেবা।
এদিন দুপুরে জেলা প্রশাসক আতিকুর রহমান আকস্মিকভাবে পাসপোর্ট অফিস পরিদর্শনে গিয়ে মানুষের ভোগান্তির চিত্র দেখতে পান। অফিস চলাকালে দীর্ঘক্ষণ বাইরে অবস্থান করায় জেলা প্রশাসক পাসপোর্ট অফিসের এক কম্পিউটার অপারেটরকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।
বিপ্লব হোসেন, মামুন মিয়াসহ পাসপোর্ট করতে আসা ভুক্তভোগী একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, সকালে তারা কাগজপত্র পূরণ, ছবি তোলা, ফিঙ্গার প্রিন্ট দেওয়াসহ নানা কাজে পাসপোর্ট অফিসে এসেছেন। দুপুর গড়িয়ে গেলেও তারা লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। কেউ তাদের সঙ্গে ঠিকমতো কথাও বলছেন না। অফিসের অধিকাংশ টেবিল-চেয়ারে কর্মরতরা ঠিকমতো বসছেন না। অফিস পিয়ন বা গার্ডদের কাছে জিজ্ঞাসা করলে তারা বলছেন, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ওয়াশরুমে, কেউ নাস্তা করছেন আবার আবার কেউ খাবার খাচ্ছেন।
তারা আক্ষেপ করে বলেন, গত সপ্তাহে ঘটা করে পাসপোর্ট সেবা সপ্তাহ পালিত হয়েছে। পরের সপ্তাহে সেবার মান বাড়ার বদলে কমে গিয়েছে।
তাদের দুর্ভোগের মধ্যে হঠাৎ জেলা প্রশাসক পাসপোর্ট অফিস পরিদর্শনে আসেন। এ সময় ভুক্তভোগীরা জেলা প্রশাসককের কাছে তাদের অভিযোগ তুলে ধরেন। জেলা প্রশাসকের উপস্থিতি টের পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে অফিসকর্মীরা কর্মব্যস্ত হয়ে পড়েন। অফিস চলাকালে দীর্ঘসময় বাইরে অবস্থান করায় জেলা প্রশাসক পাসপোর্ট অফিসের এক কম্পিউটার অপারেটরকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার কার্যালয়ে নিয়ে যান।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে মাগুরা পাসপোর্ট অফিসে নানা অনিয়ম-দুর্নীতি হয়ে আসছে। এ বিষয়ে অফিসের সহকারী পরিচালক খোরশেদ আলমের কাছে অভিযোগ করতে গেলেও তাকে খুঁজে পাওয়া যায় না। কর্মচারীদের কাছে জিজ্ঞাসা করলে সবাই একই কথা বলেন, ‘স্যার অসুস্থ, রেস্টে আছেন।’
তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পাসপোর্ট অফিসের এক কর্মী বলেন, ‘এডি স্যার অফিসের একটি রুমে সংসার পেতেছেন। সেখানেই বিবিকে নিয়ে বসবাস করেন। অফিস টাইমেও তিনি অধিকাংশ সময় অন্দরেই থাকেন।’
এই অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য সোমবার দুপুরে পাসপোর্ট অফিসের ভেতরের রুমে খোঁজ নিতে এক সহকর্মীকে পাঠলে দরজার সামনে যেতেই তিনি দেখতে পান এডি ও এক নারী সেখানে অবস্থান করছেন। এ সময় এডি জানান, ভেতরে তার স্ত্রী রয়েছেন।
বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে পাসপোর্ট অফিসের এডি খোরশেদ আলমের কাছে ফোন করলে তিনি বলেন,
তবে এডি বলেন, ‘সোমবার দুপুরে খাবারের সময় অফিসে এক কর্মচারী দেরিতে আসায় ডিসি সাহেব তাকে ভালোভাবে সেবা দেওয়ার কথা বলেছেন।
তিনি অফিসের কোনো রুম বাসা হিসেবে ব্যবহার করার বিষয়টি অস্বীকার করেন।
জেলা প্রশাসক আতিকুর রহমান বলেন, ‘পাসপোর্ট অফিসের সেবার মান নিয়ে মানুষের অভিযোগ রয়েছে। আমি বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। মাগুরায় জেলায় কোনো অফিসের সেবার নিম্ন মান ও অসততার অভিযোগ উঠলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।’

আরও পড়ুন