মাগুরা বিএনপির চার ইউনিটে পাল্টা কমিটি

আপডেট: 07:33:40 08/01/2017



img

মাগুরা প্রতিনিধি : সদর উপজেলা, পৌর, শ্রীপুর ও দক্ষিণ মাগুরা ইউনিটের পাল্টা কমিটি গঠনের মধ্যে দিয়ে মাগুরা জেলা বিএনপি আবারো বিভক্তিতে জড়িয়ে পড়লো।
রোববার দুপুরে মাগুরা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত সভায় সম্প্রতি জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ আলী করিমের ঘোষিত ওই কমিটিকে ‘পকেট কমিটি’ আখ্যা দিয়ে তার বিরুদ্ধে পাল্টা কমিটি ঘোষণা করেছেন এক নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক সৈয়দ মোকাদ্দেস আলী।
পৌর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও বর্তমান জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আইয়ুব হোসেনের সভাপতিত্বে এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান জেলা আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আলী আহম্মদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আহম্মেদ হোসেন, শালিখা উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক মোজাফফর হোসেন টুকু, যুগ্ম-আহ্বায়ক আশরাফুল আলম জোয়ার্দার, সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিহিরকান্তি বিশ্বাস, সাবেক জেলা প্রচার সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান, খালেক সর্দার, কিজিল খান, মজনু মিয়া, আবদুর রশিদ, মাহাবুবুল আকবর টিপু, ওয়াজেদ আলী, আমিরুল ইসলাম, লুৎফর রহমানসহ বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা।
বক্তারা অভিযোগ করেন, জেলা বিএনপিকে গতিশীল করার জন্য ২০১৬ সালের নভেম্বর মাসে কেন্দ্র থেকে সৈয়দ আলী করীমকে আহ্বায়ক ও সৈয়দ মোকাদ্দেস আলীকে এক নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক করে ১৭৬ সদস্যের একটি জেলা আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন দিয়ে পাঠায়। কেন্দ্রের নির্দেশনা অনুযায়ী এই কমিটির আহ্বায়ক সৈয়দ আলী করিম কমিটির অন্যদের নিয়ে আলোচনা করে সাংগঠনিক প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন ইউনিট কমিটি গঠন করবেন। কিন্তু সৈয়দ আলী করিম কারো সঙ্গে আলোচনা না করেই বিশেষ মহলের ইশারায় মাগুরার মহম্মদপুরের বালিদিয়া গ্রামে নিজ বাড়িতে বসে গত ডিসেম্বর মাসে বিভিন্ন ইউনিটের ‘পকেট কমিটি’ করেছেন। যে কমিটিতে বিগত দিনে অন্দোলন সংগ্রামে থেকে সরকারের অত্যাচার-নির্যাতন, মামলা-মোকদ্দমায় দিশেহারা হয়েছেন তাদের নাম নেই। সুবিধাবাদী, টাউট-বাটপারদের নিয়ে গঠন করা কমিটির এই অসাংগঠনিক প্রক্রিয়ার প্রতিবাদেই জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সিংহভাগ নেতাকর্মী একত্রিত হয়ে প্রকৃত নেতাকর্মীদের সমন্বয়ে এই কমিটি ঘোষণা করছেন বলে জানানো হয়।
সভায় জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলী আহম্মদ অভিযোগ করেন, আহ্বায়কের দুর্বল নেতৃত্বের ‘নতুন ভুতুড়ে কমিটি’ দলকে শক্তিশালী করার বদলে ক্রমশ পিছিয়ে পড়ছে। যে কারণে ৫ জানুয়ারি কেন্দ্রীয় বিএনপি ঘোষিত দেশব্যাপী নেয়া কালো পতাকা মিছিলসহ বিভিন্ন সময়ের সাংগঠনিক কর্মসূচি বাস্তবায়িত হচ্ছে না। উপরন্তু দলকে বিভক্ত করতে ‘পকেট কমিটি’ গঠন করেছেন আহ্বায়ক।
এদিকে পাল্টা কমিটি ও নিজের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে জেলা বিএনপির বর্তমান আহ্বায়ক সৈয়দ আলী করিম বলেন, ‘জেলা বিএনপির প্রতিটি কমিটিই সাংগঠনিক প্রক্রিয়ায় হয়েছে। যে কারণে কেন্দ্র এগুলো অনুমোদন দিয়েছে। এগুলো নিয়ে প্রশ্ন তুলে একটি পক্ষ দলকে বিভাজনের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। দলে বিভাজন তৈরি করলে কোনো কর্মসূচিই সঠিকভাবে সম্পন্ন করা যায় না। কারণ বিভক্তি ও কর্মসূচি বাস্তবায়ন একসাথে হয় না।’
তিনি বলেন, ‘আমি আহ্বায়ক কমিটির নেতা। আমার কাজ হচ্ছে দলের তৃণমূল নেতাকর্মীদের পছন্দ মাফিক নেতা নির্বাচন করে দেওয়া। দলীয় চেয়ারপারসনের নির্দেশে সে কাজই করছি। এখানে কেউ বিভক্তি সৃষ্টি করলে দলই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’
রোববার ঘোষিত যুগ্ম আহ্বায়ক সৈয়দ মোকাদ্দেস এর কমিটিতে সভায় ইতিপূর্বে জেলা বিএনপির বর্তমান আহ্বায়ক সৈয়দ আলী করিম ঘোষিত কমিটির বিপক্ষে মিহিরকান্তি বিশ্বাসকে আহ্বায়ক করে সদর উপজেলা, আইয়ুব হোসেনকে আহ্বায়ক করে পৌর, রেজাউল আলমকে আহ্বায়ক করে দক্ষিণ মাগুরা ইউনিট এবং জোয়ার্দার আশরাফুল ইসলামকে আহ্বায়ক করে শ্রীপুর উপজেলা বিএনপির নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়।

আরও পড়ুন