মাথা গোঁজার ঠাঁই জুটেছে প্রতিবন্ধী খালেকের

আপডেট: 01:34:42 15/04/2018



img

আনোয়ার হোসেন, মণিরামপুর (যশোর) : মণিরামপুরের হরিহরনগর ইউনিয়নের মধুপুর গ্রামের প্রতিবন্ধী হতদরিদ্র আব্দুল খালেক (৬০)। স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে বহু বছর ধরে তিনি পথে পথে। জীবনের ১২টি বছর কাটিয়েছেন রেললাইনের পাশে ঝুপড়ি ঘরে। সেখান থেকে বিতাড়িত হয়ে আশ্রয় মেলে মধুপুর গ্রামের আবু হায়দারের বাগানে। সেখানে ছিলেন আট বছর।
ভূমিহীন হওয়ায় খালেক এক আশ্রয় ছেড়ে ঠাঁই নিয়েছেন আরেক আশ্রয়ে। সবশেষে যেখানে ছিলেন, সেখান থেকেও চলে আসতে বাধ্য হন। মালিকপক্ষ একাধিকবার তাকে তাড়িয়ে দিতে উদ্যত হয়। অবশেষে স্থায়ী ঠিকানা মিলল তার। মণিরামপুরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) হোসাইন মুহাম্মদ আল-মুজাহিদ তাকে সরকারি আট শতক জমি দিয়েছেন। সেখানে এখন আশ্রয় নিয়েছেন আব্দুল খালেক।
আব্দুল খালেকের জন্মস্থান যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার আমিনি গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের মৃত আব্দুল মজিদের ছেলে। জন্ম থেকেই প্রতিবন্ধী খালেক। অন্যের জমিতে কামলা খেটে সংসার চলে। বাম পা বাঁকা হওয়ায় তিনি ঠিকমতো কাজ করতে পারেন না। ফলে তাকে কাজে নিতে জমির মালিকদের বরাবরই অনীহা।
স্ত্রী খায়রুননেছা, এক ছেলে ও দুই মেয়েকে নিয়ে খালেকের সংসার। তার একমাত্র ছেলে জিন্নাত আলীও (২২) প্রতিবন্ধী। দুই মেয়েকে বিয়ে দিলেও বড় মেয়ে স্বামী পরিত্যক্তা।
মণিরামপুরের হরিহরনগর ইউনিয়নের মধুপুর গ্রামের দিদার বক্সের মেয়ে খায়রুননেছাকে বিয়ে করার সূত্রে তিনি ওই এলাকায় আসেন। শ্বশুর দিদার বক্স মৃত্যুর আগে মেয়েদের বাদ রেখে তার দুই ছেলের নামে সম্পদ লিখে দিয়েছেন। ফলে শ্বশুরবাড়ি ঠাঁই পাননি খালেক।
মধুপুরের আবু হায়দার নামের যে লোকের বাগানে আট বছর কাটিয়েছেন খালেক, সেখান থেকে তিনি বিতাড়িত হয়েছেন। কোথাও আশ্রয় নেই বলে মাসখানেক আগে হরিহরনগর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে খাস জমি বন্দোবস্ত চেয়ে আবেদন করেন তিনি। সেই সূত্রে এসিল্যান্ড হোসাইন মুহাম্মদ আল-মুজাহিদ তাকে ওই এলাকায় সরকারি আট শতক জমি দিয়েছেন।
আব্দুল খালেক বলেন, ‘বাপের কোনো সম্পত্তি পাইনি। স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে নাভারন রেললাইনের পাশে থাকতাম। ২০০৮ সালের দিকে সরকার রেললাইন প্রশস্ত করায় সেই জায়গা ছাড়তে হয়েছে। পরে এসে মধুপুর গ্রামের আবু হায়দার নামের এক ব্যক্তির বাগানে আশ্রয় নিই। সেখানে আট বছর ধরে ছিলাম। বাগানের মালিক প্রায়ই তার জায়গা ছাড়ার জন্য বলতো।’
‘কি করবো ভেবে পাচ্ছিলাম না। পরিচিতদের পরামর্শে কয়েকমাস আগে খাস জমি চেয়ে ভূমি অফিসে আবেদন করি। এখন স্যার এসে আমাকে জমি দিছে। জমি পেয়ে আমি খুব খুশি। এবার বৌ-ছেলেমেয়ে নিয়ে থাকার একটা জায়গা হলো।’
আব্দুল খালেক সরকারি সেই জমিতে ঘর করে এখন বসবাস করছেন বলে প্রতিবেশী আলতাফ হোসেন জানিয়েছেন।
মণিরামপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) হোসাইন মুহাম্মদ আল-মুজাহিদ বলেন, ‘আব্দুল খালেক খাস জমি পেতে হরিহরনগর নায়েব অফিসে আবেদন করেছিল। তার আবেদনের বিষয়টি নায়েব আব্দুর রাজ্জাক আমাকে জানান। আমার নির্দেশে নায়েব খোঁজ নিয়ে দেখেছে, খালেক প্রকৃত ভূমিহীন। সে খাস জমি পাওয়ার যোগ্য। খালেকের আবেদনের ভিত্তিতে তাকে মধুপুর এলাকায় আট শতক জমি বন্দোবস্ত দেওয়া হয়েছে।’
দ্রুত খালেককে জমির কাগজপত্র বুঝিয়ে দেওয়া হবে বলে জানান এসিল্যান্ড।