মাদরাসাশিক্ষককে ‘ফেনসিডিল দিয়ে’ চালান, প্রতিবাদ

আপডেট: 02:09:41 04/08/2018



img
img

স্টাফ রিপোর্টার : নিরীহ এক মাদরাসাশিক্ষককে বিজিবি সদস্যরা ফেনসিডিল দিয়ে চালান দিয়েছেন বলে অভিযোগ করছেন গ্রামবাসী। তারা ওই শিক্ষকের মুক্তি দাবিতে এলাকায় মানববন্ধনও করেছেন।
শুক্রবার দুপুরে ‘বিজিবির অত্যাচারের প্রতিবাদে’ শার্শা উপজেলা ধান্যখোলা গ্রামের নারী-পুরুষেরা মানববন্ধন করেন। শিক্ষক ইমরানকে নিঃশর্ত মুক্তি না দিলে পরবর্তীতে বৃহত্তর আন্দোলনের প্রস্তুতি নেওয়া হবে বলে গ্রামবাসী সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।
তারা বলছেন, বেনাপোল পোর্ট থানার ধান্যখোলা ক্যাম্পের বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যরা বেপরোয়া হয়ে সীমান্তের নিরীহ মানুষকে ধরে ফেনসিডিল, গাঁজা দিয়ে চালান দিচ্ছেন।
বাহাদুরপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমানের ভাষ্য, বুধবার রাতে ধান্যখোলা মাদরাসার শিক্ষক ইমরান হোসেনকে রাস্তা থেকে ধরে ক্যাম্পে নিয়ে যান বিজিবি সদস্যরা। এরপর বৃহস্পতিবার ভোরে ইমরানকে নিয়ে ধান্যখোলা গ্রামের মাঝেরপাড়া রাস্তার পাশ থেকে একটি বস্তা উদ্ধার দেখিয়ে এলাকার ইউপি সদস্য হাসান আলীকে ডেকে বলা হয়, ‘ইমরানের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়েছে’।
গ্রামবাসীরা অভিযোগ করে বলেন, রাতে যখন বিজিবি ইমরানকে ধরে নিয়ে যায়, তখন তার কাছে ফেনসিডিল ছিল না। শিক্ষক ইমরানের নামে আগে পরে কোনো অভিযোগও নেই। ওই দিন শিক্ষক ইমরান পাশের বাড়িতে কয়েকজন ছাত্রকে পড়িয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। হঠাৎ ধান্যখোলা ক্যাম্পের একটি টহলদল ইমরানকে থামিয়ে ক্যাম্পে নিয়ে যায়। গ্রামবাসী ইমরানের আটকের বিষয়ে জানার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয় বিজিবির মারমুখী আচরণের কারণে। ইমরানের আটকের ব্যাপারটি বিজিবির ‘সাজানো নাটক’ বলে মানববন্ধন কর্মসূচিতে আসা লোকজনের দাবি।
এ ব্যাপারে বিজিবির ধান্যখোলা ক্যাম্পের সুবেদার সফি বলেন, গ্রামবাসীর বক্তব্য সত্যি না। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে ক্যাম্পের একটি টহলদল ধান্যখোলা মাঝেরপাড়া গ্রামে টহল দেওয়ার সময় ভারত-বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকায় আলো দেখতে পেয়ে সেখানে যায়। বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে চোরাচালানিরা ফেনসিডিলের চালানটি নিয়ে মাঝেরপাড়া গ্রামে ঢুকে পড়ে। বিজিবির তাড়া খেয়ে তিনজন পালিয়ে গেলেও ইমরান ধরা পড়েন। ইমরানকে ক্যাম্পে নিয়ে তার স্বীকারোক্তি মোতাবেক রাস্তার পাশ থেকে ভোরে ফেনসিডিলের চালানটি উদ্ধার করা হয়। আইন অনুযায়ী ইমরানকে ফেনসিডিলসহ বেনাপোল পোর্ট থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন