মাদরাসাশিক্ষকের কাণ্ড : দুই শিশুকে ইস্ত্রির ছ্যাঁকা

আপডেট: 02:01:57 14/09/2018



img

স্টাফ রিপোর্টার : দুই শিশু শিক্ষার্থীর মধ্যে বাকবিতণ্ডার শাস্তি দেওয়া হলো ইলেকট্রিক আয়রন গরম করে হাতে ছ্যাঁকা। শুধু তাই নয়, তাদের একটি ঘরে বন্দি করে রাখা হয়।
ঘটনটি ঘটে গত বুধবার বিকেলে যশোরের উপশহর মার্কাস মসজিদ মাদরাসায়। এই ঘটনায় দুই শিক্ষককে আটক করা হয়েছে। আর মামলা হয়েছে তিনজনের নামে।
আটক ব্যক্তিরা হলেন, মুফতি মাজেদুর রহমান (৩৮) ও হাফেজ আজাহারুল ইসলাম (৩৭)। আর অপর পলাতক আসামি হলেন শিক্ষক তরিকুল ইসলাম (৩৮)।
যশোর শহরের ঘোপ সেন্ট্রাল রোডের জনৈক রবিউল ইসলাম অভিযোগ করছেন, তার ভাগ্নে সাকিব আল হাসান সিয়াম (৯) ওই মাদরাসায় লেখাপড়া করে। গত বুধবার বিকেল চারটার দিকে মাদরাসার মক্তব বিভাগের শিক্ষক তরিকুল ইসলাম পড়াচ্ছিলেন। সে সময় আরো ছাত্রের মধ্যে শিশু শিক্ষার্থী মাগুরা সদর উপজেলার লস্করপুর গ্রামের খলিলুর রহমানের ছেলে হুজাইফা হামজাও (৭) ছিল। এই দুইজন পড়ার সময় বাকবিতণ্ডা করে। সে সময় শিক্ষক তরিকুল ক্ষিপ্ত হন এবং তাদের মারপিট করেন। অপর দুই শিক্ষক একটি ইলেকট্রিক আয়রন গরম করে এনে তরিকুল ইসলামের হাতে দেন। তিনি দুই শিশু শিক্ষার্থীর ডান হাতের তালুতে ছ্যাঁকা দেন। চিৎকার করলে তাদের রুমে নিয়ে গিয়ে আটকে রাখা হয়। ঘটনা জানতে পেরে তিনি মাদরাসায় যান এবং দুইজনকে আহত অবস্থায় দেখতে পান। বিষয়টি শিক্ষক তরিকুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি উল্টো তাকে হুমকি দিয়ে তাড়িয়ে দেন। পরে ওই দুই শিশুকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা করান এবং পুলিশে অভিযোগ করেন। পরে পুলিশ গিয়ে শিক্ষক মাজেদুর রহমান এবং হাফেজ আজাহারুল ইসলামকে আটক করে থানায় নিয়ে আসেন। দুইজনই হেফজ বিভাগের শিক্ষক। তবে মূল অভিযুক্ত শিক্ষক তরিকুল ইসলাম পালিয়ে যান।
আটক দুই শিক্ষক মাজেদুর রহমান এবং আজাহারুল ইসলাম দাবি করেন, এই ঘটনার সঙ্গে তারা জড়িত না।ঘটনা ঘটিয়েছেন তরিকুল ইসলাম। তিনি পালিয়ে গেছেন। তাদের ষড়যন্ত্রমূলকভাবে হয়রানি করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে কোতয়ালী থানার এসআই এইচএম মাহমুদ বলেছেন, শিশুদের অভিভাবকের অভিযোগের ভিত্তিতে দুই শিক্ষককে আটক করা হয়েছে। তবে মূল আসামি পলাতক রয়েছেন।

আরও পড়ুন