মাদরাসাঅধ্যক্ষকে পেটালেন আওয়ামী লীগ নেতা

আপডেট: 10:08:33 08/08/2018



img

স্টাফ রিপোর্টার : নড়াইলের কালিয়া উপজেলার বড়নাল দাখিল মাদরাসা পরিচালনা কমিটি গঠনে অতিসম্প্রতি সকল নিয়মনীতি মেনে বিধি মোতাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) সভাপতি করে সাত সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি অনুমোদন দেয় মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক ইলিয়াছাবাদ ইউপি চেয়ারম্যান মল্লিক মানিরুল ইসলাম মাদরাসার অধ্যক্ষ মো. শফিকুল ইসলামকে মারধর এবং গায়ের জামা খুলে লাঞ্ছিত করে জোর করে রেজুলেশন ছিড়ে ফেলেছেন। তিনি ইউএনওর নাম বাদ দিয়ে প্রিসাইডিং অফিসারের স্বাক্ষর প্রতিস্থাপন করে সভাপতি হওয়ারও চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
আজ বুধবার বড়নাল দাখিল মাদরাসায় এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে গভির রাতে নড়াইল পুলিশ সুপার ঘটনাস্থলে যান। এ ব্যাপারে কালিয়া থানায় একটি মামলা হয়েছে।
অধ্যক্ষ মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘মাদরাসা পরিচালনা কমিটি বিধিমোতাবেক গঠনের কাজ শেষ করে গত ২ আগস্ট কালিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে সভাপতি করে অনুমোদনের জন্য মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডে পাঠানো হয়। এ খবর জানতে পেরে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মল্লিক মানিরুল ইসলাম হুমকি দিয়ে আমার কাছে জানতে চান, তাকে ও আওয়ামী লীগ নেতা ওসমান সরদারকে না জানিয়ে কেনো কমিটি দেওয়া হলো? তারা যেভাবে কমিটি দেবে সেটাই অনুমোদন করতে হবে। তা না হলে এলাকায় আগুন জ্বলবে। প্রতি উত্তরে আমি তাকে জানাই, কমিটির কাজ সম্পন্ন করে অনুমোদনের জন্য বোর্ডে পাঠানো হয়েছে। যা ইতিমধ্যে অনুমোদিত হয়ে অনলাইনে প্রকাশ করা হয়েছে। আইনগতভাবে আর করার কিছু নেই।’
‘মানিরুল ইসলাম আমার ওপর মারাত্মকভাবে ক্ষিপ্ত হয়ে মঙ্গলবার দুপুর দুইটার দিকে ২০ জন যুবককে সঙ্গে নিয়ে মাদরাসায় সশরীরে এসে রেজুলেশন খাতা ওসমান সরদারকে দেখাতে বলেন। কিন্তু রেজুলেশন খাতা দেখার কথা বলে তিনি নিয়ে যান। এরপর মঙ্গলবার রাত নয়টার দিকে মল্লিক মানিরুল ইসলাম সাবেক ইউপি সদস্য খাইরুল ইসলাম ও সাইজুরসহ ৫-৬ জন সন্ত্রাসী যুবক নিয়ে মাদরাসা ভবনে এসে হঠাৎ আমাকে রেজুলেশন পরিবর্তন করে তাকে (মানিরুল) সভাপতি করতে চাপ দেয়।’
তিনি আরো বলেন, ‘এরমধ্যে ইউএনও (ভারপ্রাপ্ত) এবিএম খালিদ হোসেন সিদ্দিকী আমাকে ফোন করে রেজুলেশন খাতা নিয়ে তার সঙ্গে দেখা করতে বলেন। এসময় কথা বলার জন্য কাছে থাকা মানিরুলকে ফোনটি দিলে তিনি কথা বলেন। কথা শেষ হতে না হতেই মানিরুল ইসলাম আমার গালে থাপ্পড় মারেন।’
‘এরপর তার সঙ্গে থাকা সাইজুর ও খাইরুল কিলঘুষি মারতে মারতে আমাকে টেনেহিঁচড়ে বাইরে নিয়ে যান। তারা আমার গায়ের জামা ছিড়ে খুলে নিয়ে যায় এবং প্রাণে মেরে ফেলার ভয় দেখায়। এরপর জোর করে গাড়িতে তুলে নিয়ে ওই মাদরাসার শিক্ষক সৈয়দ হোসেন আলীর বাড়িতে গিয়ে আগের রেজুলেশন ছিড়ে ইউএনও-কে সভাপতির পদ থেকে বাদ দিয়ে সেখানে মানিরুল ইসলামের নাম বসিয়ে স্ক্যান করে আমাকে পাঠাতে নির্দেশ দেয়।’
এ ঘটনা জানার পর মঙ্গলবার দিবাগত রাত আনুমানিক দেড়টার সময় নড়াইল পুলিশ সুপার মো. জসিম উদ্দিন ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জাহিদুল ইসলাম ঘটনাস্থলে যান। সব ঘটনা জানার পর অধ্যক্ষকে আইনের আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দেন এসপি। এ ঘটনায় বুধবার দুপুরে কালিয়া থানায় একটি মামলা করা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) এবিএম খালিদ হোসেন সিদ্দিকী বলেন, ‘এ ঘটনার পর থেকে মাদরাসা সুপারসহ সংশ্লিষ্ট সকলের নিরাপত্তার জন্য সর্বক্ষণিক পুলিশ প্রহরার ব্যবস্থা করা হয়েছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের এবং গ্রেফতারের জন্য জোর চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।’

আরও পড়ুন