মানসিক ভারসাম্যহীনকে বাঁচাতে গিয়ে!

আপডেট: 05:18:55 11/02/2019



img

সুবর্ণভূমি ডেস্ক : খুলনায় মানসিক ভারসাম্যহীন এক ব্যক্তিকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাইভেটকারটি একটি ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষ ঘটিয়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ, যে দুর্ঘটনায় ওই গাড়ির পাঁচ আরোহী প্রাণ হারান।
খুলনার রূপসা সেতুর বাইপাস সড়কে খেজুরবাগান এলাকায় রোববার রাতে ওই দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে চারজন গোপালগঞ্জ জেলা যুবলীগ ও একজন ছাত্রলীগ নেতা।
নিহতরা হলেন- গোপালগঞ্জ শহরের সবুজবাগের আবদুল ওয়াদুদ মিয়ার ছেলে ও গোপালগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুব হাসান বাবু, একই এলাকার আলাউদ্দিন শিকদারের ছেলে ও গোপালগঞ্জ সদর যুবলীগের সহ-সভাপতি সাদিকুল আলম, থানাপাড়ার গাজী মিজানুর রহমানের ছেলে ও জেলা ছাত্রলীগের উপ-সম্পাদক ওয়ালিদ মাহমুদ উৎসব, গেটপাড়া এলাকার আলমগীর হোসেন মোল্লার ছেলে ও জেলা ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক সাজু আহমেদ এবং চাঁদমারী এলাকার ওয়াহিদ গাজীর ছেলে ও জেলা ছাত্রলীগের সদস্য আমিনুল ইসলাম গাজী।
সাদিকুল ছাড়া বাকি সবাই গোপালগঞ্জ সরকারি বঙ্গবন্ধু বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের শিক্ষার্থী বলে পুলিশ জানিয়েছে।
লবণচরা থানার ওসি মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, তারা পাঁচজনই বন্ধুর মতো চলাফেরা করতেন। মাদকবিরোধী সংগঠনেও সক্রিয় ছিলেন। রোববার তারা একটি প্রাইভেটকারে করে খুলনায় বেড়াতে গিয়েছিলেন। প্রাইভেটকারটি খুলনা মহানগরীর জিরো পয়েন্ট এলাকা থেকে গোপালগঞ্জ ফেরার পথে সাদিকুল চালকের আসনে ছিলেন।
“খেজুরবাগান অতিক্রম করার সময় ‘মানসিক ভারসাম্যহীন এক ভবঘুরে’ প্রাইভেট কারের সামনে এসে পড়ে। এ সময় চালক তাকে বাঁচাতে গেলে বিপরীত দিক থেকে আসা মংলা থেকে জিরো পয়েন্টগামী সিমেন্টবোঝাই ট্রাকের সঙ্গে প্রাইভেটকারটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।”
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা গিয়ে পুলিশ ও স্থানীয়দের সহায়তায় প্রাইভেটকারের ভেতর থেকে পাঁচজনের লাশ উদ্ধার করে বলে ওসি জানান।   
তিনি জানান, ট্রাকটি জব্দ করা হলেও চালক ও তার সহকারী পালিয়ে গেছেন।
এদিকে নিহত পাঁচজনের লাশ সোমবার সকালে গোপালগঞ্জে বাড়িতে এসে পৌঁছালে পরিবারের সদস্য, প্রতিবেশী ও স্বজনদের আহাজারিতে স্বজনদের আহাজারিতে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের সৃষ্টি হয়।
তাদের মৃত্যুর খবরে পুরো গোপালগঞ্জে শোকের ছায়া নেমে এসেছে; নিহতদের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। 
গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মী, স্বজন, প্রতিবেশীরা নিহতদের বাড়িতে ছুটে যান। বাদ জোহর গোপালগঞ্জে শেখ ফজলুল হক মনি স্টেডিয়ামে নামাজে জানাজা শেষে তাদের দাফন করা হয়।
গোপালগঞ্জে সদর উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক জাহেদ মাহামুদ বাপ্পী বলেন, “তাজা পাঁচটি প্রাণ ঝরেছে। এরা আমাদের স্বজন। তাই শোকে কিছু বলার ভাষা হারিয়ে ফেলেছি। তাদের মৃত্যুতে এখানে ছাত্র-যুবলীগে শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে। এ শূন্যতা পূরণ হওয়ার নয়।”
সূত্র : বিডিনিউজ

আরও পড়ুন