মারা গেছেন সাংবাদিক মাহফুজউল্লাহ

আপডেট: 05:50:21 21/04/2019



img

সুবর্ণভূমি ডেস্ক : জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক-বিশ্লেষক মাহফুজউল্লাহ আর নেই। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।
থাইল্যান্ডের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার বিকেলে তিনি মারা যান। তার বয়স হয়েছিল ৬৯ বছর।
বিএনপি নেতা ও ড্যাবের সাবেক মহাসচিব এ জেড এম জাহিদ হোসেন জানান, বিকেল তিনটা দশ মিনিটে মাহফুজউল্লাহর লাইফ সাপোর্ট খুলে তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পৃথক বার্তায় সাংবাদিক মাহফুজউল্লাহর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন।
গত ২ এপ্রিল হৃদরোগে আক্রান্ত হলে মাহফুজউল্লাহকে ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করে আইসিইউতে রাখা হয় চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে। কয়েকদিন লাইফ সাপোর্টে ছিলেন তিনি।
পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য গত ১১ এপ্রিল এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে ব্যাংককে নিয়ে বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
প্রখ্যাত এই সাংবাদিক হৃদরোগ, কিডনি ও উচ্চ রক্তচাপজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন। এর আগে ব্যাংককে একবার তার বাইপাস সার্জারিও হয়েছিল।
সাংবাদিক মাহফুজউল্লাহ ১৯৫০ সালে নোয়াখালীতে জন্মগ্রহণ করেন।
তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থবিদ্যা ও সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের কর্মী হিসেবে ঊনসত্তরের ১১ দফা আন্দোলনে অংশ নেন। পরবর্তীতে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ছাত্র রাজনীতির কারণে আইয়ুব খানের সামরিক শাসনামলে তাকে ঢাকা কলেজ থেকে বহিষ্কার করা হয়।
ছাত্রাবস্থাতেই মাহফুজউল্লাহ সাংবাদিকতায় জড়িয়ে পড়েন। বাংলাদেশের একসময়ের জনপ্রিয় সাপ্তাহিক বিচিত্রার ১৯৭২ সালে জন্মলগ্ন থেকেই তিনি জড়িত ছিলেন। বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশের নেতৃস্থানীয় বাংলা ও ইংরেজি দৈনিকে কাজ করেছেন তিনি।
মাঝে চীনে বিশেষজ্ঞ হিসেবে, কলকাতায় বাংলাদেশ উপদূতাবাসে কূটনীতিক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
মাহফুজউল্লাহ সাংবাদিকতার পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে খণ্ডকালীন শিক্ষকতা করেছেন।
মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতা ও গণযোগাযোগ বিভাগে শিক্ষকতায় যুক্ত ছিলেন। এছাড়া টেলিভিশনের আলোচনা অনুষ্ঠানগুলোতে নিয়মিত দেখা যেত তাকে।
মাহফুজউল্লাহ আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত পরিবেশবিদ এবং বাংলাদেশে তিনিই প্রথম পরিবেশ সাংবাদিকতা শুরু করেন।
বিভিন্ন বিষয়ে বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় লেখা তার বইয়ের সংখ্যা পঞ্চাশের বেশি এবং এসবের অধিকাংশই পৃথিবীর বিভিন্ন নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারে রয়েছে।
মাহফুজউল্লাহ সম্পাদিত বইয়ের মধ্যে রয়েছে- প্রেসিডেন্ট জিয়া অব বাংলাদেশ: আ পলিটিক্যাল বায়োগ্রাফি, যাদুর লাউ, যে কথা বলতে চাই, অভ্যুত্থানের ঊনসত্তর, পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন: গৌরবের দিনলিপি (১৯৫২-৭১), উলফা অ্যান্ড দ্য ইনসারজেন্সি ইন আসাম, বেগম খালেদা জিয়া: হার লাইফ, হার স্টোরি, স্বাধীনতার প্রথম দশকে বাংলাদেশ।
সূত্র : বিডিনিউজ