মাহমুদ নোমানের পাঁচটি কবিতা

আপডেট: 05:58:15 23/06/2017



img

বিষণ্ন সন্ধ্যা

বেড়ার ফাঁকের ফুলরোদে ঘুমিয়ে পড়া
স্বর্ণকেশির নাকফুলে-
চিতল মাছের বুক
সন্ধ্যা নামতে,
বটকিতে গেরস্থির বউ
কেটে কুটে
চুলোয় আগুন ধরায় ধানের খড়ে
ধোঁয়া ওড়ে,
কুণ্ডলী পাঁকিয়ে বাউলা বাতাসে
এ মন পুড়ে পুড়ে ছাই,
চুলোর মধ্যে...




প্রেমহীন সব পরকীয়া

এবাদত বন্দেগীর জন্য নারীটিকে
দুটো ডানা দিলে পারতো
সে স্বামীর দালান থেকে বাচ্চাকাচ্চা
ছেড়ে উড়ে গিয়ে
বিলের মাঝখানে বসে যেতো
একটা কুঠিরে,
চারটা নূরানি চোখ
পরস্পরে তওয়াব করতে করতে
জ্বালিয়ে দিতো সন্ধ্যার চেরাগ
তেল ফুরালেই নিভে যেতো,

ঘুমিয়ে যেতো ডানা রেখে
বেহেস্তের বারান্দায়।




বর্ষার তথ্য ফাঁস

আক্রান্ত বৃষ্টির পেয়ালায়
চুমুকে সন্ন্যাসী-
প্রতি শ্রাবণে মাতলামি করে,
ভিজিয়ে দেয় বর্ষার পাজামা।
উতরানি সন্ধ্যায় এ ঘর
ঐ ঘর পায়চারি শেষে,
পুকুরে স্নান করে
দাঁড়কাক খুঁটির তারে বসে
উঁকি মারে ঝলির ভেতর!




মৌমিতার জন্যে

যেদিন মৌমিতা বুক ছুঁয়েছিলো,
নখের আঘাতে লাল দাগে
একটা নদী
সেদিন থেকে বহমান
আমি নদী ভাঙন রোধে
নদীর পাড়ে কামিনী ফুলের
চারা রুয়েছিলাম-
ফুল ফুটলে থোকা থোকা
পাতা কেটে বনসাই করে
কারা যেন রাতে
সাজালো বিয়ের গাড়ি!




দীর্ঘশ্বাসের কবিতা

চোরাকারবারির হাতে চুরি হয়ে গেছে রাত
শ্লেটে আঁকা স্বপ্নগুলো মুছে ফেলে ইরেজার।
আলজিবের নিচে গায়েবি প্রতিধ্বনি-
যে কথা রাখেনি, তার জন্য ঘুম আসে না
যে পাশে শুয়ে আছে, সে এক পাথর।

[মাহমুদ নোমান : জন্ম ১৮ আগস্ট, ১৯৯০, আনোয়ারা, চট্টগ্রাম]