মাহমুদ নোমানের পাঁচটি কবিতা

আপডেট: 02:09:59 02/12/2016



img

চিতার গান

আমি তোমার খেলার লাডুম-
ঘুরিয়ে দাও
অষ্টপ্রহর সূর্যদিঘীর মাতাল ঝাঁঝি।
কাঠের বুকে লোহার গুঁতা
নটীবালা ভেঙ্গেচুরে নাগর ডোরে
মেঘসিঁদুর আর উলুধ্বনি।

অট্টহাসির চারণ ভূমে
বেলাশেষে আমায় না হয় মুক্তি দিও-
পুড়িয়ে ফেলে।




লতা-পাতা সুন্দরী

রোদ এসে বনে ঝাপিয়ে পড়ল বিষ্টির সঙ্গে।
ছায়াছবির মজজুবি পর্দার জোরালো আলোর
ঝলকানিতে নূরানী চেহারার নর-নারীর খোদাভী
জিকির। রোদের সোনা গলায় হৃদের জলে টুব
টুব ঝমঝম বিষ্টির খৈ-ভুট্টা ফুটছে। ‘মন আর
পিছু ফিরছে না’।

এক ঝাড় শর্মিন্দা ফুল নিয়ে ডালা সাজিয়ে
ঢেঁড়স ফুল ফুটে আছে নিঃসঙ্গ, একা-একা
বিবাগী ভ্রমর মধু খুঁজছে, পুচ্ছে চকচকে-
কালোর কী বাহার! ঝিলিমিলি শাড়ির অন্দরে
পাহাড়ি গায়েবি জ্বর!

মায়াপাশ ফিরতে ব্যাকুল সুগন্ধি গামারি ফুলের
হাওয়ায় তবলার সঙ্গত টোকায় দেবরঞ্জনী রাগ।
চাঁন্দের গালে কাটা দাগ চোখে পড়ে না এই ভিখিরির
জেনে নিলাম-অরণ্য সুন্দর, অরণ্যরা সুন্দর।




বর্ষার প্রিয় সন্ধ্যায়

জিয়ল মাছের ঘোলাজলে
ডিপ ফ্রিজের বর্ষাকাতর সন্ধ্যা
ইছামতি ঘাটে পাতিকাকের শোকসভায়
বিড়বিড়ানি তন্দুরের বিস্কুটের ঘ্রাণ।
খেঁকশিয়ালের ভেঁপুতে
ইস্টিমার বৈরাগী-
ঢেউয়ের শ্বাসে নিভে যায় পিদিম,
দুলে উঠে কদম ফুল, বট
আর অমরণী পাতা’দের
কলিজা ঠুকে ঠুকে চুমার নির্যাতন।




লুই জালে

বিলের ধারের বটগাছটি আমার মা।
বাবা হয়তো লুই জাল নিয়ে
মাছ ধরতে গেছে
বোনটি প্যাঁক প্যাঁক করছে
শেওলার হাডিতে;
আমি ঝুলছি বটগাছে-
পরগাছার ইয়ড়ে।




এই রাত

আমি কাঁদছি না কিন্তু জল পড়ছে
থুতনি বেয়ে ওলের কম্বলে
হয়তো রেল ইস্টিশন পেরিয়ে বৃষ্টি হচ্ছে
খুব, গাড়ি-ঘোড়া কিছু নেই।

ছাতা নিয়ে যাচ্ছে কেউ কেউ
টর্চের আলোয় ঝলসে যাচ্ছে ধবধবে নারীর
পা-যুগল।হয়তো ভিজছে ছাতা ফেলে
বৃষ্টির জলসায়।

ভায়োলিনের সুরে হারিয়ে যাচ্ছে রাতের ট্রেন
বিষণ্নতার বৃক্ষের থোকা থোকা ফুল
ঝরছে হৃদয়ের উঠোনে
রেলওয়ে পুলিশ ঢুকছে চিপাগলির ঝলির ভেতর।

কয়েকটা মাছের আকুলি-বিকুলি
শহরজুড়ে উদোম মুদ্রার নাচন, প্রেমিকার বুকেও
এক ফোঁটা জল। হয়তো নিশির শিশির।

এই রাত আর ফুরোয় না হাজার বছরে।

আরও পড়ুন