মায়ার বিরিয়ানি খেয়ে এবার অসুস্থ পাঁচ শতাধিক

আপডেট: 07:29:26 17/05/2018



img
img
img

কাজী মৃদুল, কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) : এবার মায়া তালুকদারের কর্মসূচিতে দেওয়া বিরিয়ানি খেয়ে প্রায় পাঁচশ’ মানুষ ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন। এর আগে একই ঘটনা ঘটে কোটচাঁদপুরের পাশের উপজেলা মহেশপুরে
কোটচাঁদপুরে আক্রান্তরা স্থানীয় হাসপাতাল, ক্লিনিক ও বাড়িতে চিকিৎসা নিচ্ছেন। হাসপাতালে প্রায় একইসঙ্গে আড়াইশ’ রোগী ভর্তি হয়েছেন। তাদের চিকিৎসা দিতে হাসপাতলের ডাক্তার ও কর্মীদের গলদঘর্ম অবস্থা। কর্তব্যরত ডাক্তাররা জানিয়েছেন, রোগী আসা অব্যাহত রয়েছে।
কোটচাঁদপুর-মহেশপুর আসনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশী পারভীন তালুকদার মায়া। বুধবার তিনি অনুসারীসহ মহেশপুর থেকে শোডাউনের মাধ্যমে কোটচাঁদপুরে আসেন। শহরের মেইন বাসস্ট্যান্ডে জনসভাও করেন তিনি। এই জনসভা শেষে অনুসারীদের মাঝে খাবার হিসেবে বিরিয়ানির প্যাকেট বিতরণ করা হয়।
দলীয় সূত্র জানায়, সভাস্থলে খাবারের পাঁচ হাজার প্যাকেট নিয়ে আসা হয়েছিল। অনেকে ৩-৫ প্যাকেট বিরিয়ানি সংগ্রহ করে বাড়িতে পরিবার পরিজন নিয়ে খান। এ খাবার খেয়ে বুধবার রাত আটটা থেকে বমি, পায়খানা ও পেটে যন্ত্রণা নিয়ে একের পর এক রোগী আসতে থাকেন হাসপাতালে। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা পর্যন্ত কোটচাঁদপুর হাসপাতালে প্রায় আড়াইশ রোগী পেটের সমস্যা নিয়ে ভর্তি হয়েছেন বলে স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে। হাসপাতালে কর্তব্যরত ডাক্তার নাজমুজ সাকিব একে ‘ফুড পয়জনিং’ বলছেন।
কোটচাঁদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ফারহানা শারমিন জানান, বুধবার রাত আটটার পর থেকে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা পর্যন্ত ২২৭ জন রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতালে এতো রোগী পা রাখার জায়গা নেই।
তিনি বলেন, রোগীদের সঙ্গে কথা বলে মনে হচ্ছে, ফুড পয়জনিংয়ের কারনে এরকম হয়েছে।
এদিকে, সরকারি হাসপাতাল ছাড়াও কোটচাঁদপুরের বিভিন্ন ক্লিনিক ও বাড়িতে চিকিৎসা নিচ্ছেন আরো আড়াই শতাধিক রোগী। গত মঙ্গলবারও মহেশপুরে তার অপর একটি জনসভায় বিরিয়ানি খেয়ে প্রায় শতাশিক মানুষ একইভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন।
এ ব্যাপারে পারভীন তালুকদার মায়া সুবর্ণভূমিকে বলেন, ‘আমি নিজে এবং আমার স্বামী ফারুক তালুকদার এ খাবার খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছি। আমার ধারণা, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ আমাকে হেয় এবং প্রতিহত করতে কাউকে ব্যবহার করে কৌশলে খাবারের মধ্যে কিছু একটা মিশিয়ে আমার এ সর্বনাশ করেছে।’
বেলা ১২টার দিকে কোটচাঁদপুর হাসপাতাল গেটে বর্তমান এমপি নবী নেওয়াজ ও আওয়ামী লীগের আরেক মনোনয়নপ্রত্যাশী সাবেক এমপি অ্যাডভোকেট শফিকুল আজম খান চঞ্চলের সমর্থক ও দলীয় নেতাকর্মীরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবিতে কালো পতাকা হাতে নিয়ে মানববন্ধন করেন।
ঝিনাইদহ-৩ আসনের সংসদ সদস্য নবী নেওয়াজ বলেন, ‘বিষয়টি জানার পর ঢাকা থেকে রওনা হয়েছি। আমার নেতাকর্মীরা অসুস্থ রোগীদের খোঁজ-খবর নিচ্ছেন।’

আরও পড়ুন