মিজানুর রহমান তোতার পাঁচটি কবিতা

আপডেট: 02:49:20 12/12/2016



img

আত্মবীক্ষণের সংকেত

আকাশ কুসুম রচনায় ঘরবন্দি
স্মৃতি হাতড়ে বড় বেদনায় একটু বৃষ্টি
তোমার দুই হাত ভিজিয়ে দেখো কে যেন ডাকছে
রোদের আশায়।
সারাক্ষণ ঘরের মধ্যে পায়চারি বারান্দায় পা ফেলতেই
বৃষ্টির ফোটা বিঁধলো তুমি যেন কখন ঠাণ্ডা হাওয়ায়
শরীর এলিয়ে দিয়ে রোদের প্রত্যাশায় অনেকক্ষণ
নিথর বসে আছো।
আমি দেখলাম অবশেষে তখন তোমার চেতনায়
ঘুণ ধরেছে
বিড়বিড় করে বললে না আমি এখানে নেই বহুদূরে
আসলে কি তুমি না অন্য কেউ ভাবছি আর ভাবছি
আত্মবীক্ষণের সংকেত ততক্ষণে দোরগোড়ায়
ঝাপটা হাওয়ায় দরজা বন্ধ না আমি একপক্ষীয়
ভালোবাসার মোটেও কাঙাল নই।
আমি আর ভালোবাসবো না, ভালোবাসার ঘৃণা ছুড়ে
দিলাম তুমি সযত্নে তা রেখে দিও হৃদয়পটে।




টাকার পাহাড়ে

একটু একটু করে নয়
নয় বিন্দু বিন্দু করে
রাতারাতি গড়তে হবে
টাকার পাহাড়,
সেই পাহাড়ের চূড়ায়
উঠে অট্টহাসিতে নাচবে
আমরা দেখবো,
কেউ ফেলবে দীর্ঘশ্বাস
এই তো পৃথিবীর খেলা।
চরম খেলায় কারো সর্বনাশ
কারো হবে পৌষ মাস
পিঠে পেট ঠেকে দুঃখে,
নাচবে বলবে এই তো আছি
বেশ ভালো আছি খুব ভালো।
পৃথিবীর ভেলা চলে কারো
পানিতে,
কারো বা মাটিতে, কারো শূন্যে
শ্বাস আর দীর্ঘশ্বাসের মিশেল।




লজ্জাও লজ্জা পায়

তুমি কি শুনছো, দেখছো আজব কারবার
সবাই তাকিয়ে মুখ টিপে হাসছে অথচ সে মগ্ন
তাকে খুশি করতে অপলক নয়নে দেখছেই
তবুও পরাণ তার ভরছে না, আর একটু একটু
করছে, সবাই পাচ্ছে লজ্জা
এমনকী তার লজ্জাহীনতায় লজ্জাও পাচ্ছে লজ্জা
অথচ পাচ্ছে না শুধু সে
বেহায়া বেশরম বদমাইশে ডুবে নাক উঁচিয়ে
হুশজ্ঞান হবে না কোনোদিন সমাজ তার কর্মকাণ্ডে
সবসময় পায় লজ্জা

এ কোন নির্লজ্জের পাল্লায় পড়ে হাবুডুবু
বুঝতে পারছি না, তুমি কি পারো ওগো
তোমার চোখে কি পড়ে তার আজব কারবার
ওদিক থেকে চোখ ফিরিয়ে নাও আর লজ্জা
দেখো না, হাঁটো নতুন রাস্তায়।




নিরুদ্দেশ যাত্রার অপেক্ষায়

অনাকাঙ্ক্ষিত বিতর্কের সূচনায় দগ্ধ
কল্পিত কাহিনির বেড়াজাল বিস্তার
অদৃশ্য বেসাতি তপ্ত গুঞ্জনে আহত
অন্তরালের বিষ-
একদিন ভাঙবেই, মুছে যাবে ভিন্নতা।
অপেক্ষা শুধু নিরুদ্দেশ যাত্রার।
আমি যাবো না, হবো না নিরুদ্দেশ
দেখবো কত মিথ্যার বেসাতি
কত রঙে কত ঢঙে কতভাবে
বিমর্ষ বিমনা জীর্ণ পুরাতন আসরে
থাকতে ইচ্ছে হয় না।
যেতে হবে সবাইকে আগে বা পরে
বাহাদুরি যতটাই হোক না কেন
সবার জন্য করছে অপেক্ষার পালা।
চোখের রঙিন গ্লাসটা খুলে
ফেললেই দেখা যাবে দূর বহুদূরের
সেই সাদাকালোর চমৎকার পালক।
শেষতক যেতেই হলো নিরুদ্দেশ।




আকাশপথে হেঁটে চলা

দিবাস্বপ্নে বিভোর চারপাশের কীটগুলো
কিলবিল করে মাথার ভেতরের পোকা
থামতে চায় না, থামানো গেল না
ভূত সরাতে গিয়ে নিজেই ভূত, আজব
আকাশপথে হেঁটে চলতে গিয়ে ক্লান্ত
তবু কোনোরকমে গা ঘামানো কসরত
জেগে দেখি স্বপ্ন দেখছিলাম, শুধুই স্বপ্ন।