মিলেমিশে ঘুষ নিয়ে চাকরি!

আপডেট: 04:35:20 25/03/2018



img

আব্দুস সামাদ, সাতক্ষীরা : নিয়োগ বোর্ডের সদস্যরা মিলেমিশে ১৫ লাখ টাকা ঘুষ নিয়ে আশাশুনির গোয়ালডাঙ্গা ফকিরবাড়ি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী পদে নিয়োগ দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ, ডিজি প্রতিনিধির অনুপস্থিতিতে যথাসময়ে পরীক্ষা শুরু না করে টাকা এবং জমি নিয়ে এ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আবার নিয়োগ বোর্ডেও রাখা হয়েছে যাকে চাকরি দেওয়া হবে, সেই প্রার্থীর চাচাতো ভাইকে। প্রার্থীদের সঙ্গে মিথ্যা বলে নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে টাকার বিনিময়েই এ নিয়োগ সম্পূর্ণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ অংশ গ্রহণ করতে না পারা প্রার্থীদের। 
প্রার্থীরা জানান, আশাশুনি উপজেলার গোয়ালডাঙ্গা ফরিরবাড়ি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী নিয়োগ দেওয়ার জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। আবেদনকারী ২৭ জন বৈধ প্রার্থী নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ গ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ পান। এরমধ্যে নিয়োগ বোর্ড গঠন করে গত ২২ মার্চ বৃহস্পতিবার দুপুর দুইটায় সাতক্ষীরা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে পরীক্ষা নেওয়ার জন্য সময় নির্ধারণ করা হয়। নির্ধারিত সময়ে প্রার্থীরা সেখানে হাজির হন। কিন্তু ‘ডিজির প্রতিনিধি উপস্থিত থাকতে পারবেন না, তাই আজ পরীক্ষা হবে না’ মর্মে জানিয়ে দেওয়া হলে অনেক প্রার্থী পরীক্ষার হল ত্যাগ করেন। এরপর বিকেলে ডিজির প্রতিনিধি তার মনোনীত একজন প্রতিনিধি নিযুক্ত করলে তখন উপস্থিত মাত্র চারজন প্রার্থীর অংশগ্রহণে পরীক্ষা শুরু করা হয়। সন্ধ্যার দিকে পরীক্ষা শেষ হয়। এই অনিয়ম অন্য প্রার্থীরা জানতে পেরে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। এসময় তারা ‘পাতানো’ নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল করে সব প্রার্থীর অংশগ্রহণে আবার পরীক্ষা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
তারা আগেই ওই এলাকার মাসুম বিল্লাহ নামে এক প্রার্থীর কাছ থেকে আড়াই বিঘা জমিসহ মোট ১৫ লাখ টাকা নিয়ে অন্য প্রার্থীদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে না দিয়ে এ নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ করেন। এছাড়াও তারা নিয়োগ বোর্ডের অনেক অনিয়মের কথা তুলে ধরেন।
নিয়োগ বোর্ডের সদস্যরা হলেন- সভাপতি বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি আব্দুর রহমান ফকির, সদস্য সচিব, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুশান্ত সরকার, সদস্য আশাশুনি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার বাকি বিল্লাহ, অভিভাবক সদস্য নিয়োগ করা প্রার্থীর চাচাতো ভাই আজহারুল ইসলাম ও ডিজির প্রতিনিধি সাতক্ষীরা সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল্লাহ আল মামুন। এর মধ্যে ডিজির প্রতিনিধি উপস্থিত থাকতে না পারায় পরে তার বিদ্যালয়ের একজন সহকারী শিক্ষককে নিযুক্ত করেন।
এ বিষয়ে ডিজির প্রতিনিধি আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘আমার উপস্থিত থাকার কথা ছিল। কিন্তু আমি ব্যস্ত থাকায় উপস্থিত থাকতে না পেরে আমার বিশ্বস্ত একজন শিক্ষককে দিয়েছিলাম। কিন্তু পরীক্ষা কেনো দেরিতে শুরু হয়েছে, সে বিষয়ে আমি উপস্থিত না থাকায় কিছু বলতে পারছি না। আপনি এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক অফিসারের সাথে কথা বলে দেখতে পারেন।’
উপজেলা মাধ্যমিক অফিসার বাকি বিল্লাহ বলেন, ‘ডিজির প্রতিনিধি আসছে আসছে করে একটু দেরি হয়েছে। পরে তিনি আসতে না পেরে তার মনোনীত প্রতিনিধি দিলে পরীক্ষা শুরু করা হয়।’
যথাসময়ে পরীক্ষা শুরু না করার অভিযোগ স্বীকার করে বলেন, ‘দেরি একটু হয়েছে। তবে এতে কোনো সমস্যা নাই।’
অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বোর্ডের কোনো সদস্য নিয়োগ প্রার্থীর আত্মীয় ছিল কিনা তা আমার জানা ছিল না। তবে যদি থাকে সেটি আমার জানার বিষয় না; যারা নিয়োগ বোর্ড গঠন করেছে তাদের জানার বিষয়।’
তবে, অনেক চেষ্টা করেও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুশান্ত সরকারের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
সার্বিক বিষয়ে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি আব্দুর রহমান ফকির বলেন, ‘কিছু দিন আগে আমরা স্কুলের নামে একটি জমি কিনেছি- এটা সত্য। কিন্তু সেটি আমার প্রার্থীর কাছ থেকে নিইনি। নিয়োগ বোর্ডে যে সদস্যের কথা বলা হয়েছে, সে আমার আপন কেউ না, চাচাতো ভাই। তাই এতে নিয়োগ বোর্ডের কোনো অনিয়ম হয় না। তাছাড়া গ্রামে সবাই সবার আত্মীয়- এটা তো বোঝেন।’
২৭ জন প্রার্থীর মধ্যে মাত্র চারজন প্রার্থী অংশ নিয়েছেন কেন?- এমন এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা সবাইকে নিয়োগপত্র দিয়েছি। তারা না এলে আমাদের কিছু করার নেই।’
তবে, তিনি দেরিতে পরীক্ষা শুরু হওয়ার তথ্য স্বীকার করেন।

আরও পড়ুন