মুক্তিপণ দাবিতে অপহৃত কলেজছাত্রের মরদেহ উদ্ধার

আপডেট: 12:37:16 17/12/2016



img
img

আব্দুস সামাদ, সাতক্ষীরা : দশ লাখ টাকা মুক্তিপণের দাবিতে অপহরণের পাঁচদিন পর কলেজছাত্র গৌতম সরকারের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শনিবার সকালে সদর উপজেলার মহাদেবনগর গ্রামে গৌতমের বাড়ির পাশে একটি পুকুর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত গৌতম ইউপি সদস্য গণেশ মণ্ডলের ছেলে ও সীমান্ত আদর্শ কলেজের তৃতীয়বর্ষের ছাত্র।
এদিকে উত্তেজিত জনতা অপহরণকারী নুর ইসলাম ও রেজাউল শেখের বাড়িতে আগুন জ্বালিয়ে দেয়।
এ ঘটনায় পুলিশ পাঁচজনকে আটক করেছে। আটককৃতরা হলেন নুর ইসলাম, রেজাউল শেখ, আলিম, শাওন ও মনিরুল ইসলাম।
সাতক্ষীরা পুলিশ সুপার আলতাফ হোসেন জানান, নিহত কলেজছাত্রের লাশ পুলিশ উদ্ধার করেছে। এ ঘটনায় যারা জড়িত থাক তাদের অবশ্যই আইনের আওতায় আনা হবে। দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হবে। এ ঘটনায় যারা জড়িত তাদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে তিনি জানান।
ভারতীয় সীমান্তবর্তী গ্রাম সদর উপজেলার মহাদেবনগরের ইউপি সদস্য গণেশ মণ্ডল জানান, তার ছেলে গৌতম সীমান্ত কলেজে বিএ ক্লাসে লেখাপড়া করে। গত ১৩ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় গৌতম ( ১৯) ও তার বন্ধুরা বাড়ির পাশে মহাদেবনগর মোড়ে আমিন মিস্ত্রির দোকানে বসে টিভিতে ফুটবল খেলা দেখছিলেন। এসময় তার কাছে একটি ফোন আসে। ফোনে তাকে ডেকে নেওয়া হয়। এরপর থেকে গৌতমের ফোন (নম্বর ১৭৪৪৬৫০৬০৬ ও ০১৫৫৬৫৫৭৫৬৭ ) বন্ধ পাওয়া যায়। তিনি জানান, রাতে তার নম্বরে (নম্বর ০১৭২৪৮৪৯৯৭৫ ) ছেলের নম্বর থেকে ফোন করে জানানো হয় ‘তোর ছেলেকে পেতে চাইলে দশ লাখ টাকা নিয়ে চলে আয়। তবে, পুলিশ কেনো কাউকে জানালেই বিপদ তোর হবে।’
তিনি জানান, বিষয়টি ঘোনা ইউপি চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান ও সাতক্ষীরা থানার ওসিকে জানিয়ে তাদের সহায়তা চাওয়া হয়েছে।
সদর থানার সাব ইন্সপেক্টর আবুল কালামসহ পুলিশের কয়েক সদস্যকে সঙ্গে নিয়ে তিনি অপহরণকারীদের কথা মতো ১৪ ডিসেম্বর গভীর রাতে নির্দিষ্ট স্থানে কয়েক লাখ টাকা নিয়ে অপেক্ষা করেন। একপর্যায়ে অন্য সব লোককে সেখান থেকে সরে যেতে বলে অপর প্রান্ত থেকে বলা হয় টাকা নিয়ে ওই স্থান থেকে চলে যেতে। পরে বলা হয় টাকা বিকাশ মারফত পাঠাও।
তিনি জানান, এর পরপরই সেখানে আসে তিনি যুবক। পুলিশ গ্রামবাসীর সহায়তায় তাদের আটক করে। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় ছয়টি মোবাইল।
গণেশ জানান, আটক তিনজনের মধ্যে ভাড়ুখালি গ্রামের করিম মোড়লের ছেলে শাহাদাত মোড়ল মোবাইলে তার সঙ্গে ছেলের অপহরণ বিষয়ক কথা বলেছিল বলে তিনি নিশ্চিত হয়েছেন। এ ঘটনায় আটক অপর দু'জন হচ্ছে দেবহাটার বহেরা গ্রামের আবদুল আলিমের ছেলে শাওন ও একই গ্রামের মনিরুল ইসলাম সানি। পুলিশ তাদের সম্পর্কে কোনো তথ্য দিতে অস্বীকার করে।
শুক্রবার দুপুরে স্থানীয় জনতা মহাদেবনগরের সন্দেহভাজন যুবক সাজুকে না পেয়ে তার মা ফজিলা খাতুনকে পাকড়াও করে। সন্দেহভাজন আরেক যুবক জামসেদ পলাতক রয়েছে। এ ঘটনায় গণেশ সাতক্ষীরা থানায় একটি জিডি করেছেন। জিডি নম্বর ৭৪১ তারিখ ১৪.১২.১৬)।
গৌতমের বাবা গণেশ জানান, কয়েকদিন আগে তার এলাকার জামসেদ নামে এক ঘরজামাইকে পুলিশ গ্রেফতার করে। তাকে ছাড়ানোর জন্য তার ওপর চাপ আসে। গণেশ তাতে সাড়া না দেওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে জামসেদ ও তার বাহিনী। স্থানীয় আরেক ব্যক্তি আবদুর রহমানের মাধ্যমে পুলিশকে ম্যানেজ করে জামসেদ থানা থেকেই মুক্ত হয়ে ফিরে আসে। এ সময় গণেশকে হুমকি দিয়ে বলা হয়, ‘আমাকে বের করতে সাহায্য করলেন না। এর পরিণতি ভালো নয়।’
গণেশ জানান, এরপরই তার ছেলে অপহৃত হয়। জামসেদ অপরাধ জগতের লোক বলে জানান এলাকাবাসী। তাদের সন্দেহ জামসেদ ও শাহাদাত গৌতমকে মুক্তিপণ আদায়ের লক্ষ্যে অপহরণ করেছে। তিনি জানান, অপহরণকারীরা গৌতমের লাশ নিতে ভারতে যাবার জন্যও ডেকেছে। কিন্তু তিনি সে ঝুঁকি নিতে রাজি হননি। এতে গৌতম অপহরণ ঘটনা আরও রহস্যজনক হয়ে উঠেছে।
এদিকে মোবাইলে হুমকি দিয়ে তাকে যা বলা হয়েছে গণেশ তা জিডিতে উল্লেখ করে বলেন, ‘তোর ছেলে আমাদের কাছে আছে। তোর অনেক টাকা পয়সা আছে। টাকা ও সোনা গয়না নিয়ে আয়। তোর ছেলেকে ইনজেকশন দিয়ে ঘুম পাড়িয়ে রাখা হয়েছে। এ কথা কাউকে জানালে তোর ছেলেকে কেটে টুকরো টুকরো করে নদীতে ভাসিয়ে দেবো।'

আরও পড়ুন