মুক্ত হলো দেশের প্রথম জেলা শহর যশোর

আপডেট: 01:43:36 06/12/2017



img

স্টাফ রিপোর্টার : ১৯৭১ সালে বিজয়ের মাস ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহের এই দিনটি (৬ ডিসেম্বর) বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে ছিল অন্যতম তাৎপর্যপূর্ণ। এদিন দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শহর যশোরকে মুক্তি ও মিত্রবাহিনী মিলে শত্র“মুক্ত করে। একাত্তরের এই দিনে মুক্তি ও মিত্রবাহিনী একযোগে যশোর শহরে ঢুকে বাংলাদেশের মানচিত্রখচিত জাতীয় পতাকা উড়িয়ে দেয়।
যশোরই একাত্তরের ডিসেম্বরে শত্রুর কবল থেকে মুক্ত হওয়া প্রথম জেলা শহর। এবং এর মাধ্যমে খুলনা ছাড়া দেশের পুরো দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলই মুক্তি ও মিত্রবাহিনীর দখলে চলে আসে।
পাকিস্তানি হানাদারবাহিনীর শক্ত দুর্গগুলোর একটি ছিল যশোর সেনানিবাস। যশোরকে মুক্ত করার চূড়ান্ত যুদ্ধ শুরু হয়েছিল আগে থেকেই। মুক্তি ও মিত্রবাহিনীর সম্মিলিত আক্রমণে পাকিস্তানি বাহিনী পশ্চাদপসরণ করে যশোর সেনানিবাসে গিয়ে আশ্রয় নেয়। ৬ ডিসেম্বর দিনভর যুদ্ধের পর বিকেলে তারা সেনানিবাস ত্যাগ করতে বাধ্য হয়।
মুক্ত যশোরে একাত্তরের ৭ ডিসেম্বর মানুষের ঢল নামে। লাশের স্তূপ দেখে স্তম্ভিত হয়ে যায় জনতা। আনন্দ-উল্লাসের পাশাপাশি স্বজনহারানো মানুষের কান্নায় বাতাস ভারি হয়ে ওঠে। মুক্ত যশোরের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে মুজিবনগর সরকার ব্যবস্থা গ্রহণ করে। ৮ ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধা-জনতার সমন্বয়ে ‘শহর নিয়ন্ত্রণ কমিটি’ গঠন করা হয়। মুক্ত যশোরের টাউন হল ময়দানে ১১ ডিসেম্বর আয়োজিত এক সমাবেশে মুজিবনগর সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমেদসহ অন্য নেতারা উপস্থিত হন। এটি ছিল মুক্ত দেশের মাটিতে অস্থায়ী বাংলাদেশ সরকারের প্রথম রাজনৈতিক সমাবেশ।
যশোর মুক্তি দিবস উপলক্ষে জেলা প্রশাসন ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদ যশোর ইউনিটের পক্ষ থেকে দিনব্যাপী কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে আলোচনা সভা, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চিত্র প্রদর্শনী, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ইত্যাদি।

আরও পড়ুন