মেধাবী তানজিলার স্বপ্ন পূরণ হবে তো!

আপডেট: 08:36:53 07/01/2017



img

আনোয়ার হোসেন, মণিরামপুর (যশোর) : মণিরামপুরের খেদাপাড়া ইউনিয়নের মাহমুদকাটি গ্রামে নানা নূর বক্সের বাড়ি আশ্রিত তানজিলা (১৫)। এবার যশোর বোর্ডের অধীনে স্থানীয় টেংরামারী সম্মিলনী মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে জেএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে নবম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হয়েছে সে।
ছোটবেলা থেকে মেধাবী এই তানজিলা বড় হয়ে ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন দেখে বিজ্ঞান বিভাগ নিয়ে লেখাপড়া করছে। তবে দারিদ্র্যের কারণে সে ডাক্তার হতে পারবে তো, নাকি মেধাবী হয়েও অর্থের অভাবে তার স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যাবে?
ঝিকরগাছা উপজেলার পদ্মপুকুর গ্রামের জনৈক বাবুলের মেয়ে এই তানজিলা। সাত বছর আগে দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় মা কোহিনুর খাতুনকে হারায় সে। অসুস্থ হয়ে ওই সময় তার মা মারা যান। বাবা বাবলু থেকেও নেই। তিনি আবার বিয়ে করে সংসার পেতেছেন। সেই থেকে তিনি তানজিলার কোনো খবরই রাখেন না। মায়ের মৃত্যুর পর নানা নূর বক্সের বাড়ি ঠাঁই হয় তানজিলার। সেখানে থেকেই তার লেখাপড়া চলছে। নানা নূর বক্সের আর্থিক অবস্থা একেবারেই ভালো না। একমাত্র মামা আব্দুল মান্নান বেকারির রুটি বিস্কুট টেনে সংসার চালান। ফলে তানজিলার ভবিষ্যৎ নিয়ে শংকিত সবাই। সম্প্রতি এই সুবর্ণভূমির সঙ্গে আলাপকালে তারা এ আশংকার কথা জানিয়েছেন।
মাহাবুর ও আরিফুল নামে তানজিলার আরো দুটি ভাই আছে। মাহাবুর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্স চতুর্থ বর্ষের ছাত্র। সেও অন্যের বাড়ি লজিং (জায়গির) থেকে লেখাপড়া করে এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। আর আরিফুল অন্যের দোকানে কাজ করেন।
তানজিলার মামা আব্দুল মান্নান বলেন, ‘বোন মারা যাওয়ার পর থেকে ভাগনিটা আমার এখানে থাকে। গত বছর প্রতিমাসে ৬০০ টাকা করে দুই স্যারের কাছে প্রাইভেট পড়েছে সে। এখনও তিন স্যারের কাছে পড়ানো লাগবে।’
তিনি বলেন, ‘আমি খরচ দিই। আবার তানজিলার বড়ভাই মাহাবুরও কিছু দেয়। এভাবে এখন চলে যাচ্ছে।’
তবে ভবিষ্যতে খরচ চালাতে পারবেন কিনা তা নিয়ে তিনি আশংকায় রয়েছেন।
টেংরামারী সম্মিলনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রভাষচন্দ্র দাস তানজিলার প্রশংসা করে বলেন, ‘নিজের প্রচেষ্টা আর শিক্ষকদের পরিশ্রমেই আজ সে ভালো ফলাফল অর্জন করেছে।’
তানজিলা যেন সামনে আরো ভালো করতে পারে এই ব্যাপারে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাসও দিয়েছেন এই শিক্ষক।

আরও পড়ুন