মেহেরপুরের দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মামুনের কথকতা

আপডেট: 07:21:33 22/12/2016



img
img

মেহেরপুর প্রতিনিধি : প্রতিবন্ধিতা কোনো প্রতিবন্ধকতা নয়- এ কথার প্রমাণ করে অসম্ভবকে সম্ভব করেছেন মেহেরপুরের দৃষ্টি প্রতিবন্ধী যুবক মামুন।
অদম্য মেধাবী মামুন ছাত্রবয়সে দৃষ্টিশক্তি হারান। এখন কম্পিউটার ও ইন্টারনেট জগতকে জয় করেছেন; তথ্য প্রযুক্তিকে হাতের মুঠোয় নিতে সক্ষম হয়েছেন। তার এই সফলতা এলাকার যুবসমাজের অনুপ্রেরণা।
মেহেরপুর মুজিবনগর উপজেলার শিবপুর গ্রামের মৃত আব্দুর রহমনের ছেলে ওমর ফারুক মামুন। তিনি যখন মায়েরগর্ভে তখন মারা যান বাবা। তিন ভাইয়ের মধ্যে মামুন সবার ছোট। যখন ৫ম শ্রেণির ছাত্র তখন চোখের সমস্যা দেখা দেয়। বেশি পড়াশুনা করলে চোখ এবং মাথায় তীব্র যন্ত্রণা হত। এসএসসি পরীক্ষার পর চিকিৎসকরা মামুনের দু’চোখে গ্লুকোমা রোগ শনাক্ত করেন। কিন্তু অর্থাভাবে ভাল চিকিৎসা সম্ভব হয়নি। বিএসসি পরীক্ষার সময় চাপ বাড়ে পড়াশুনার। রাত জেগে পড়তে হয়।
২০০৬ সালে পরীক্ষার আগে মামুনের দু’চোখ দৃষ্টিশক্তিহীন হয়ে পড়ে। তবে, জীবনযুদ্ধে থেমে যাননি। শ্রুতিলেখক দিয়ে পরীক্ষা দিয়ে সেই পরীক্ষায় ভাল ফল অর্জন করেন। ইচ্ছা ছিল বিসিএস পরীক্ষা দিয়ে প্রশাসন ক্যাডারের চাকরি। পরে দৃষ্টিশক্তিহীন হওয়ায় বেছে নেন কম্পিউটার ও ইন্টারনেট জগতকে। বিশেষ সফটওয়ার ও অ্যাপসের মাধ্যমে শব্দ শুনে শুনে তিনি কম্পিউটার ও ইন্টারনেট জগতকে জয় করেছেন।
মামুন এই বছরে দক্ষিণ এশিয়া থেকে একমাত্র দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী কম্পিউটার প্রশিক্ষক ও সফল উদ্যোক্তা হিসাবে মালয়েশিয়াতে অনুষ্ঠিত একটি আন্তজার্তিক কম্পিউটার ইন্টারনেট বিষয়ক ১৫ দিনের সেমিনার ও প্রশিক্ষণে অংশ নেন। তিনি এখন এলাকাবাসীর গর্ব। গ্রামে মামুন কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করে ঘরে ঘরে কম্পিউটার ইন্টারনেট শিক্ষাকে ছড়িয়ে দিতে চান।
তার বড় স্বপ্ন, মায়ের মুখে হাসি ফুটানো। যুবসমাজকে কম্পিউটার ইন্টারনেটমুখি করাসহ ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে বড় ভূমিকা রাখার। তার শিক্ষার্থীরা জানান, তিনি এমনভাবে ক্লাস করান ও বুঝিয়ে দেন মনেই হয় না, উনি দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী।
ওমর ফারুক মামুন এখন মেহেরপুর সরকারি সমাজসেবা অফিসের কম্পিউটার প্রশিক্ষক হিসাবে কাজ করছেন।
মেহেরপুর সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক দেলোয়ার হোসেন জানান, মামুন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী হয়েও সাবলীলভাবে কম্পিউটার ইন্টারনেট বিষয়ক প্রশিক্ষণ দেন শিক্ষার্থীদের। তার জানার গভীরতা অনেক। তাকে পেয়ে শিক্ষার্থীরাও খুব খুশি।

আরও পড়ুন