মোদি বুঝিয়ে দিলেন বাংলাদেশে তার সমর্থন কোন দিকে

আপডেট: 02:18:06 24/04/2018



img
img

সুবর্ণভূমি ডেস্ক : দিল্লি সফররত আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সৌজন্য সাক্ষাতের কথা ছিল। কিন্তু সোমবার (২৩ এপ্রিল) বিকেলে সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ভারতের শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তারা। বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক বিভিন্ন ইস্যু নিয়েও স্পষ্ট মতামত জানালেন মোদি। ফলে সৌজন্য সাক্ষাতের মোড়কে এই বৈঠক এক ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে।
একইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ ও সাহসী নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করে মোদি এটাও স্পষ্ট করেই বুঝিয়ে দিয়েছেন, বাংলাদেশে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে তার সরকারের প্রচ্ছন্ন সমর্থন কার দিকে!
বিদেশের কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাতে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল কিংবা পররাষ্ট্র সচিব বিজয় গোখলের হাজির থাকার ঘটনা বিরল। এই দু’জন তো বটেই, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বাংলাদেশ বিভাগের ভারপ্রাপ্ত যুগ্ম সচিব শ্রীপ্রিয়া রঙ্গনাথন ও মুখপাত্র রবীশকুমারও ছিলেন মোদির সঙ্গে আওয়ামী লীগ নেতাদের বৈঠকে।
অন্যদিকে, আওয়ামী লীগ প্রতিনিধি দলের নেতা হিসেবে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ছাড়াও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য পীযূষকান্তি ভট্টাচার্য, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবীর নানক ও আবদুর রহমানের মতো নেতারা। উপস্থিত ছিলেন দিল্লিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাই কমিশনার সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলিও।
বৈঠকে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রসঙ্গের অবতারণা করেন মোদি নিজেই। শুরুতেই তিনি শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন। এ সময় তিনি বলেন, ‘একাত্তরে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নকে সত্যি করে পাকিস্তান ভেঙে যে রাষ্ট্রের জন্ম হয়, আজ সব সূচকে তারা সেই পাকিস্তানের চেয়ে কত এগিয়ে গেছে— ভাবাই যায় না। আজ কোথায় পাকিস্তান, আর কোথায় বাংলাদেশ!’
তিস্তা চুক্তি প্রসঙ্গেও মোদি নিজেই বলেন, ‘যত দ্রুত সম্ভব এই চুক্তি যেন সম্পাদন করা যায়, সেই লক্ষ্যে আমি চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’
রোহিঙ্গা সংকটেও বাংলাদেশের ভূমিকাকে পুরোপুরি সমর্থন জানিয়ে মোদি বলেন, ‘ভারত চায়, যত দ্রুত সম্ভব এই সংকটের নিষ্পত্তি হোক এবং রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে তাদের বাসভূমিতে ফিরতে সক্ষম হোক।’
ভারতের প্রধানমন্ত্রীর এমন খোলামেলা মতবিনিময়ে উচ্ছ্বসিত আওয়ামী লীগ নেতারাও। প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন থেকে অল্প সময়ের জন্য হোটেলে ফিরে আবার বিজেপি নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের জন্য বেরিয়ে যাওয়ার ফাঁকে ওবায়দুল কাদের শুধু বলে গেলেন, ‘অসম্ভব ভালো মিটিং হয়েছে। ভেরি ভেরি পজিটিভ আউটকাম!’
পরে সন্ধ্যায় দিল্লির দীনদয়াল উপাধ্যায় মার্গে বিজেপির নতুন কার্যালয়ে আওয়ামী লীগ প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক হয় বিজেপি নেতাদের। তাতে বিজেপির পক্ষে উপস্থিত ছিলেন সাধারণ সম্পাদক রাম মাধব, ভাইস-প্রেসিডেন্ট বিনয় সহস্রবুদ্ধেসহ দলের সিনিয়র নেতারা।
বিজেপির পক্ষ থেকে বাংলাদেশ-সম্পর্কিত বিষয়গুলো মূলত রাম মাধবই দেখাশুনো করেন। আওয়ামী লীগকে বিজেপির পক্ষ থেকে আমন্ত্রণও জানিয়েছিলেন তিনিই। আর ২০১৬ সালের নভেম্বরে ঢাকায় আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে বিজেপির যে নেতারা উপস্থিত হয়েছিলেন, সেই দলের নেতৃত্বে ছিলেন ড. সহস্রবুদ্ধে।
ভারতে যে দলই ক্ষমতায় থাকুক, আওয়ামী লীগের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক বরাবরই ভালো। তবে ভারতের শাসক দলের আমন্ত্রণে বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন দলের প্রতিনিধিরা দিল্লিতে আনুষ্ঠানিক সফরে আসছেন ও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক পর্যন্ত করছেন— এ ঘটনা একেবারেই নজিরবিহীন।
বিজেপির এক শীর্ষ নেতার কথায়, ‘আওয়ামী লীগকে এই আমন্ত্রণের মধ্যে দিয়ে আমরা এটাই বোঝাতে চাই যে, বাংলাদেশে আমাদের সমর্থন গণতন্ত্রের প্রতি, গণতান্ত্রিক ঐতিহ্যের প্রতি।’
সূত্র : বাংলা ট্রিবিউন

আরও পড়ুন