মোবাইল ফোনে স্বাস্থ্যসেবা মিলছে না

আপডেট: 02:23:43 07/01/2017



img

স্টাফ রিপোর্টার : মোবাইল ফোনের নির্দিষ্ট নাম্বারে জরুরি মুহূর্তে কল করে স্বাস্থ্যসেবা মিলছে না যশোর জেলায় সাধারণ মানুষের।
নিয়ম মাফিক মোবাইল ফোনটি হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত ডাক্তারের কাছে থাকার কথা থাকলেও তা ব্যবহার করছেন ওয়ার্ডবয় ও কমিউনিটি হেলথ প্রভাইডাররা। দুই-একটি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নাম্বরটি চিকিৎসকদের হাতে থাকলেও জরুরি বিভাগের রোগী দেখতে গিয়ে তারা ফোনে সেবা দিতে পারেন না। আর যশোর জেনারেল হাসপাতালের ০১৭৩০-৩২৪৭৯৫ নাম্বারটি বন্ধ থাকে ২৪ ঘণ্টা।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চিকিৎসক সংকটের কারণে ইচ্ছা থাকলেও তারা ফোনে সেবা দিতে পারছেন না। কারণ হিসেবে তারা বলেন, জরুরি বিভাগে একজন চিকিৎসক দায়িত্বে থাকেন। তারা জরুরি বিভাগে আসা রোগীদের সেবা দিতে গিয়ে মোবাইল ফোনে সেবা দিতে পারেন না। এ জন্য আলাদাভাবে একজন চিকিৎসক থাকলে ফোনে সেবা দেওয়া সম্ভব হতো।
হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নিজস্ব প্রচার বোর্ডে নির্দিষ্ট নাম্বারটি থাকলেও পর্যাপ্ত প্রচার না থাকায় প্রান্তিক মানুষেরা ফোনে স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া যায় বলে জানেনই না।
স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ২০০৯ সালের মে মাস থেকে সরকার মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে দেশের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের ৪১৮টি চিকিৎসা কেন্দ্রে মোবাইল ফোনে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম চালু করে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে একটি করে ফোন দেওয়া হয়। যশোর জেনারেল হাসপাতাল ও আটটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মোবাইল ফোন সরবরাহ করেছে সরকার। এই নাম্বারগুলো হলো যশোর জেনারেল হাসপাতালের ০১৭৩০-৩২৪৭৯৫, শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ০১৭৩০-৩২৪৫৮৭, মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ০১৭৩০-৩২৪৫৮৬, কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ০১৭৩০-৩২৪৫৮৫, ঝিকরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ০১৭৩০-৩২৪৫৮৪, চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ০১৭৩০-৩২৪৫৮৩, বাঘারপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ০১৭৩০-৩২৪৫৮২ এবং অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ০১৭৩০-৩২৪৫৮১।
নিয়ম অনুযায়ী একজন মেডিকেল অফিসার রাত-দিন ২৪ ঘণ্টা এই ফোনের মাধ্যমে জনগণকে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা এবং পরামর্শ দেবেন। এছাড়াও ফোন নম্বরটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে প্রদর্শন ও প্রচারের সরকারি নির্দেশনা রয়েছে। জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ইউনিয়ন পরিষদসহ বিভিন্ন মাধ্যমে জনগণকে এই নাম্বারটি জানাতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশনা রয়েছে।
কিন্তু খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, স্বাস্থ্য বিভাগ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সামনের প্রচার বোর্ডে নম্বরটি লিখে নিজেদের দায়িত্ব শেষ করেছে। ফলে বিপুল অধিকাংশ মানুষ মোবাইল ফোনে যে স্বাস্থ্য সেবা পাওয়া যায়, তা জানেনই না।
গত এক সপ্তাহজুড়ে বিভিন্ন সময় সুবর্ণভূমি প্রতিবেদক বাঘারপাড়া ও শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নির্দিষ্ট নাম্বারে ফোন করে চিকিৎসককে পাননি। মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ওয়ার্ডবয়, চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কমিউনিটি হেলথ প্রভাইডার ফোন রিসিভ করেন। আর অভয়নগর, ঝিকরগাছা ও কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ফোন করে জরুরি বিভাগের চিকিৎসককে পাওয়া যায়নি। ফোন রিসিভ করেন জরুরি বিভাগের কর্মচারী। ‘চিকিৎসকরা হাসপাতালে ভর্তি হতে আসা রোগীদের ব্যবস্থাপত্র দেওয়ার কাজে ব্যস্ত ছিলেন’ বলে জানানো হয়। আর যশোর জেনারেল হাসপাতালের ০১৭৩০-৩২৪৭৯৫ নাম্বারটি ২৪ ঘণ্টাই বন্ধ পাওয়া যায়। যদিও এটি ২৪ ঘণ্টা চালু রাখার কথা।
শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডা. মোরসালিন ও কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডা. আজিজুর রহমান জানান, চিকিৎসকরা মোবাইল ফোনে সেবা দিতে প্রস্তুত; কিন্তু একজনকে সেবা দিতে গিয়ে অন্য রোগীর ক্ষতি করে নয়। তারা বলেন, একজন ডাক্তারকে দিয়ে সব কাজ করানোর চেষ্টা হলে তা ব্যর্থ হতে বাধ্য।
এদিকে যশোর জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত একজন চিকিৎসক জানান, এই হাসপাতালের জরুরি বিভাগে রোগীর চাপ থাকে। তাই মোবাইল ফোনে জরুরি সেবা ও পরামর্শ দেওয়া সম্ভব হয় না।
আর বাঘারপাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. পারগ দাবি করেন, মোবাইল ফোনে রোগীদের কল আসে না। মাঝে মধ্যে এলে সেবা দেওয়া হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, যশোর সদরসহ আট উপজেলার বিপুল অধিকাংশ সাধারণ মানুষ স্বাস্থ্যসেবার জন্য হাসপাতালের মোবাইল ফোন নাম্বার জানেন না।
যশোর সদর উপজেলার পুলেরহাটের ইজিবাইক ব্যবসায়ী জাহাঙ্গির আলম স্বাস্থ্যসেবার জন্য হাসপাতালে যে মোবাইল ফোন নাম্বার আছে, তা-ই জানেন না। তিনি বলেন, ‘ছোট-খাটো স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিলে স্থানীয় ফার্মেসিতে গিয়ে ওষুধ কিনে খাই। আর বড় ধরনের কোনো সমস্যায় হাসপাতালে ভর্তি হই।’
জানতে চাইলে যশোর জেনারেল হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. শ্যামলকৃষ্ণ সাহা বলেন, ‘মোবাইল ফোন বন্ধ আছে কি না জানি না। খোঁজ নিয়ে দেখছি।’
ফোন বন্ধ কি-না তা না জানলেও তিনি দাবি করেন, হাসপাতালে জনবল সংকটের কারণে জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরা ভর্তি রোগীর পাশাপাশি সাধ্যমতো ফোনে সেবা দিয়ে থাকেন।
যশোরের সিভিল সার্জন ডা. গোপেন্দ্রনাথ আচার্য্য বলেন, ‘সবেমাত্র দায়িত্ব নিয়েছি। তাই সব বিষয়ে জেনে উঠতে পারিনি। খোঁজ নিয়ে পরে জানাতে পারব।’

আরও পড়ুন