মোস্তফা ফারুকের মরদেহ শুক্রবার ঝিকরগাছা আসছে

আপডেট: 06:05:48 05/01/2017



img

স্টাফ রিপোর্টার : সাবেক সংসদ সদস্য, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিমন্ত্রী, রাষ্ট্রদূত মোস্তফা ফারুক মোহাম্মদের (৭৪) মরদেহ শুক্রবার দুপুরে যশোরের ঝিকরগাছায় আনা হবে।
বাদ জুমা ঝিকরগাছা বিএম হাইস্কুল মাঠে নামাজে জানাজা শেষে মরদেহ ফের ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ঝিকরগাছা পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস হোসেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে তিনি বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, 'বেলা ১২টার দিকে মরহুমের মরদেহ হেলিকপ্টারযোগে ঝিকরগাছায় আনা হবে। সেখানে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠন এবং স্থানীয় বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে তার প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হবে। এরপর নামাজে জানাজা শেষে সমাহিত করার জন্য মরদেহ ঢাকা নিয়ে যাওয়া হবে।
মোস্তফা ফারুক মোহাম্মদ বুধবার রাতে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তিনি স্ত্রী, দুই কন্যাসন্তান, অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
সাবেক রাষ্ট্রদূত ও সাবেক মন্ত্রী মোস্তফা ফারুক মোহাম্মদ ১৯৪২ সালের ২১ মার্চ যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলা শহরের কৃষ্ণনগরে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম মরহুম সেকেন্দার মোহাম্মদ মোসলেম। মায়ের নাম আমেনা খাতুন।
মোস্তফা ফারুক মোহাম্মদ বাবা-মার আট সন্তানের মধ্যে তৃতীয় এবং ভাইদের মধ্যে দ্বিতীয়। বড়ভাই মোস্তফা আনোয়ার মোহাম্মদ সরকারের যুগ্মসচিব ছিলেন।
মোস্তফা ফারুক ১৯৬৮ সালে কুষ্টিয়ার মেয়ে মমতাজ হাবিবের সঙ্গে বৈবাহিক সূত্রে আবদ্ধ হন। মমতাজ হাবিবও একজন সুশিক্ষিত নারী এবং সমাজসেবী। তাদের বড়মেয়ের নাম হৃদি এবং ছোটমেয়ে দিশা।
১৯৭৯ সালে মোস্তফা জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে বাংলাদেশের অল্টারনেট রিপ্রেজেন্টেটিভ (বিকল্প প্রতিনিধি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ওই একই বছরে তাকে ভারতে ডেপুটি হাই কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। ১৯৮২ সালে তিনি মিশরে বাংলাদেশ হাই কমিশনে মন্ত্রীদূত হিসেবে যোগ দেন। ১৯৮৬ সালে দেশে ফিরে তিনি বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ এশীয় এবং সার্ক ডেস্কের মহাপরিচালক হিসেবে কাজ শুরু করেন। ১৯৯০ সাল পর্যন্ত সেখানে থাকার পর ওই বছরের মে মাসে মিয়ানমারে বাংলাদেশের হাই কমিশনার পদে নিয়োগ পান। ১৯৯৩ সালে ভিয়েতনামে হাই কমিশনার হিসেবে যোগ দেন। ১৯৯৬-৯৯ সাল পর্যন্ত রাশিয়াতে এবং ১৯৯৯-২০০১ সাল পর্যন্ত দিল্লিতে হাই কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
মোস্তফা ফারুক মোহাম্মদ বাংলাদেশের একমাত্র কূটনীতিক যিনি ভারত ও মিয়ানমার এই দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্রে হাই কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০০১ সালে তিনি চাকরি থেকে অবসরে যান।
অবসরের পর ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়ে নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সক্রিয় রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। নির্বাচনে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মুহাদ্দিস আবু সাঈদকে ২২ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে তিনি এমপি নির্বাচিত হন।
২০১২ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রিভার একজন সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পান।

আরও পড়ুন