মোস্তফা মহসীনের চারটি কবিতা

আপডেট: 02:59:25 14/09/2019



img

ফুটপাত

ফুটন্ত কেটলি থেকে
ঊর্ধ্বশ্বাসে দমটাকে সহজ বানিয়ে
মায়াময় দুপুরের গল্প ফাঁদে
ফুটপাতে চা বিক্রেতা জয়নাল ;
ঘন হওয়া লিকারে জমা পরলে অশ্রুবৃত্তান্ত
টের পায় এ শহরে যেন তাঁর
একটি বিরাট দীঘি আছে!
দিঘীটির পাড়ে লম্বা লম্বা
পা ফেলে ভূতেরা নাচে!
ভুতেদের মেগাসিটি জুড়ে হাইরাইজের বিড়ম্বনা
চা বিক্রেতা জয়নাল ঠিকমতো দেয় নির্দেশনা
গল্পের চূড়ান্ত ক্লাইমেক্সে
কার, কখন,কী হবে যথার্থ ভূমিকা ?
আমলার ঠোঁটে আজ সরকারী ফরমান
শর্ষের ভেতর ভূত না তাড়ায়ে
বলছে এবার
উচ্ছেদ হবেই ঢাকার হকার!


আট শতাংশ প্রবৃদ্ধি

আমলকি পাতাদের ফাঁক গলে
রোদসী বৃষ্টির টুপটাপ
ভর দুপুরেই গুঁড়ো হলো
বিকেলের অহংকার
সোনার চেয়েও দামী
শিশুদের ভোঁ ভোঁ… কানামাছি!
প্রবল প্রতাপে
হাইজ্যাক করে ছুটছে নগরায়ন…
শহরে ভবিষ্যমানুষের
হিজিবিজি।
হিজড়ার ঠোঁট চুষে অর্থমন্ত্রকের বাণী
ভাববিনিময়ের আগেই তোমার প্রেমে
উদ্ধত গা ঝাড়া দিয়ে দাঁড়ানো; প্রবৃদ্ধি!


বাছুর কাহন

জিজ্ঞাসুর চোখে সে তখন রীতিমতো চুপ
আস্তাবল খুঁজে হয়রান ছিলো
হারানো দিনের এক খয়েরি বাছুর।
বাছুরটার মনে পড়েছে
ঘটনার ঘনঘটা;
ক্ষেতপাকা ধান তছনছ করে
এক দুপুরে ভুলের হাঁটা।
চুপিচুপি কেন যে সে জেনে নিতে চেয়েছিলো
গৃহস্থের আগাপাশতলা!
যেথায় পৌঁছালে ছন্নছাড়া বাছুরটা
দেখলো, বসন্ত ফুলের রঙিন দোলনায় মাতোয়ারা কিছু
ক্যালরী বঞ্চিত নির্বোধ জনতা
তির্যক চাহনিতেই ব্যারিকেড দিলো পথের নিশানা!
যেন বাহিরপৃথিবী তাকে বাঁধা দিলো আজ
কেঁড়ে নিতে স্বাধীনের অবারিত সীমা;
ফসলের চেয়ে দামী
বাছুর তো শিশু এ সত্য বুঝে না, কিভাবে কিভাবে
মনিবের আলপথ ডিঙ্গিয়ে বর্ধিষ্ণু হলো দারিদ্র্যের রেখা?


অজ্ঞেয়বাদী

চাঁদের মতোই কি অবিনশ্বর; একা?
আমি চাক্ষুষ দেখেছি
রূপসী মেঘের স্কার্টে আলবৎ খোঁচা মারছিলো
ঈশ্বরের পিছল পা ;
তার্কিক তুমিই এখন বলছো;
হিমালয়ের মতোই শক্তিমান নয় ওটা
ছিলো খোলা হাওয়ার বুকে এক দাপুটে শেরপা।
ধূসর নীলের প্রশান্তিকে তুমি নির্গমন প্রশমন
বলতে পারো না,
এরচেয়ে বেশি
প্রতিটি ভোরের ক্রোধোন্মত্ত গতি
ফুটন্ত কেটলি থেকে তুলে
অধিক কাঁপন
জানিয়েছে
বুমেরাং হবে
জগতে যুক্তির দীপ্তি
চেপে রাখার কৌশল!

[বিডিনিউজ থেকে]