মোহিতনাথের পুত্রবধূর মৃত্যু, আক্রান্ত কুইন্স হসপিটাল

আপডেট: 02:42:23 14/09/2018



img
img
img

স্টাফ রিপোর্টার : বৃহস্পতিবার রাতে যশোরের কুইন্স হসপিটালে ডাক্তারের তত্ত্বাবধানে থাকা পিংকি (৩০) নামে এক প্রসূতি মারা গেছেন। তিনি সদর উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মোহিতকুমার নাথের পুত্রবধূ।
ভেজাল ইনজেকশন পুশ করায় এই প্রসূতি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন বলে ডাক্তার দাবি করেছেন। গৃহবধূ পিংকি অনেক চিকিৎসার পর আট বছরের মাথায় এসে সন্তান ধারণ করেছিলেন।
পিংকির অপমৃত্যুর পর উত্তেজিত লোকজন শহরের প্রধান এই বেসরকারি হাসপাতালটিতে চড়াও হয়। এই সময় হাসপাতালে দায়িত্বরত ডাক্তার-নার্সসহ কর্মচারীরা পালিয়ে যান।
পিংকির স্বামীর নাম পার্থপ্রতীম দেবনাথ রতি। প্রায় আট বছর আগে তাদের বিয়ে হয়েছিল।
রতির ভাই রানানাথ সুবর্ণভূমিকে জানান, রতি-পিংকি দম্পতির ঘরে সন্তান জন্ম নিচ্ছিল না। অনেক চিকিৎসার পর পিংকি গর্ভধারণ করেন। তিনি গাইনি চিকিৎসক জাকির হোসেনের তত্ত্বাবধানে ছিলেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে ডাক্তার জাকিরের তত্ত্বাবধানে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে পিংকি একটি মেয়েসন্তানের জন্ম দেন। সন্ধ্যায় ডা. জাকির প্রসূতির জন্য ‘ওমেপ’ নামে একটি ইনজেকশন (ওমিপ্লাজন গ্রুপ) লেখেন। রাত নয়টার দিকে হাসপাতালের নার্স জেসমিন ওই ইনজেকশনটি প্রসূতির শরীরে পুশ করেন। এর কিছুসময়ের মধ্যে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন পিংকি।
ডাক্তার জাকির দাবি করছেন, রোগীর স্বজনরা পাশের একটি ফার্মেসি থেকে ‘ওমিজিড’ নামে ইনজেকশন কেনেন; যেটি ছিল ভেজাল। এই ‘ভেজাল’ ইনজেকশন পুশ করার কারণে প্রসূতির মৃত্যু হতে পারে।
এদিকে, মোহিতনাথের পুত্রবধূর অপমৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে বহু লোক চড়াও হয় কুইন্স হসপিটালে। তারা হাসপাতালটির সপ্তম তলায় উঠে আসবাবপত্র তছনছ করে। ভেঙে ফেলে জানালার গ্লাসগুলো। এই সময় আতঙ্কময় পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, হামলার সময় রোগী ও তাদের স্বজনরা আতঙ্কে ছোটাছুটি শুরু করে দেন। হাসপাতালে অবস্থানরত ডাক্তার, নার্স ও কর্মচারীরা যে যার মতো পালিয়ে যান।
খবর পেয়ে কোতয়ালী থানা থেকে বিপুল সংখ্যক পুলিশ হাজির হয় কুইন্স হসপিটালে। তারা উত্তেজিত লোকজনকে হাসপাতাল থেকে সরিয়ে দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।
থানার ইনসপেক্টর (তদন্ত) আবুল বাশার হাসপাতালটিতে ভাঙচুরের তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি সুবর্ণভূমিকে বলেন, এখন পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। মধ্যরাতে এ রিপোর্ট লেখার সময় হাসপাতালটির সামনে পুলিশ অবস্থান করছিল।
রানানাথ জানান, তার সদ্যোজাত ভাইজি সুস্থ আছে। তাকে বাড়িতে নেওয়া হয়েছে। প্রসূতি পিংকির মরদেহও নিয়ে গেছে পরিবার।
কুইন্স হসপিটালের ব্যবস্থাপক মিঠু সাহা দাবি করেন, লোকজন উত্তেজিত হয়ে সামান্য ভাঙচুর করেছে। এতে তেমন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।
সুবর্ণভূমির কাছে তিনি দাবি করেন, ভুক্তভোগীদের কেউ ভাঙচুরের সঙ্গে জড়িত না। ‘তৃতীয় পক্ষ’ এই ঘটনা ঘটিয়েছে।
হাসপাতালটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক হুমায়ুন কবীর কবুর বক্তব্য জানার চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি। তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

ছবি : তারিক হাসান বিপুল

আরও পড়ুন