মৎস্যজীবীদের উদারতা

আপডেট: 08:30:28 07/09/2017



img

মাগুরা প্রতিনিধি : মাগুরার গাংনালিয়া মৎস্যজীবী সমিতি কয়েক লাখ টাকা খরচ করে সদরের বাঁশকোঠা জলমহলটি (দোহা) ইজারা নিয়েছিল মাছ চাষের জন্য। কিন্তু এলাকায় অন্য কোনো জলাশয় না থাকায় চলতি মৌসুমে পাট চাষিরা যখন তাদের উৎপাদিত কাঁচা পাট জাগ দেওয়া নিয়ে দিশেহারা, সে সময় ব্যবসায়িক মনোভাব পরিহার করে মাছ চাষের বদলে পাট চাষিদের সুবিধার্থে দোহাটি ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছেন সমিতির সদস্যরা।
যেখানে ব্যবসায়িকভাবে লাভবান হওয়ার জন্য মৎস্যজীবীরা দোহাটি লিজ নিয়েছিলেন, সেখানে পাট জাগ দেওয়ার কারণে মাছ মরে উল্টো তাদের লক্ষাধিক টাকা ক্ষতি হয়েছে। তবে মৎস্যজীবী সমিতির সদস্যরা মনে করেন, তাদের মুষ্টিমেয় কয়েকজনের স্বার্থ রক্ষা করতে গেলে এলাকা শত শত কৃষকের স্বার্থ বিঘ্নিত হতো। যে কারণে নিজেদের আর্থিক ক্ষতি মেনে নিয়ে হলেও তারা বৃহত্তর স্বার্থে এ ধরনের ছাড় দিয়েছেন।
সমিতির সভাপতি গৌতম ঠাকুর জানান, তারা মাছ চাষের জন্য বছরে এক লাখ ৬২ হাজার টাকা হারে তিন বছরের জন্য আট একর জায়গার বাঁশকোঠা জলমহল বা দোহাটি ইজারা নিয়েছিলেন। যেখানে মাছ চাষের জন্য তারা রেণু পোনা ছেড়েছিলেন। কিন্তু বাঁশ কোঠাসহ আশপাশের গ্রামে কোনো উন্মুক্ত জলাশয় না থাকায় এলাকার শত শত কৃষক চলতি মৌসুমে তাদের উৎপাদিত কাঁচা পাট জাগ দিতে না পেরে দিশেহারা হয়ে পড়েন। কৃষকরা বিষয়টি নজরে আনেন প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব অ্যাডভোকেট সাইফুজ্জামান শিখরের। সাইফুজ্জামান শিখর বৃহত্তর স্বার্থে জলাশয়টি এলাকার কৃষকদের ব্যবহারে উন্মুক্ত করে দিতে মৎস্যজীবীদের প্রতি আহ্বান জানান। মৎস্যজীবীরা এ আহ্বানে সাড়া দিয়ে জলাশয়টি উন্মুক্ত করে দেন। আর এ সুযোগে এলাকার ৪-৫ গ্রামের কৃষক তাদের শত শত বিঘা জমির পাট কেটে জাগ দেওয়া শুরু করেন দোহাটিতে।
পাট জাগ দেওয়ার কারণে লক্ষাধিক টাকার মাছ মরে লাভের পরিবর্তে অর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন মৎস্যজীবীরা। তবে এলাকার কয়েক শ’ কৃষকের স্বার্থে এই ক্ষতি মেনে নিয়েছেন মৎস্যজীবীরা; যা এলাকায় ব্যাপকভাবে প্রশংসিতও হয়েছে।

আরও পড়ুন