মৎস্য বীজ উৎপাদন খামার বেহাল

আপডেট: 03:44:43 04/12/2018



img
img

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি : প্রতিষ্ঠার পর থেকে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় প্রতিকারহীন সমস্যা নিয়েই চলছে চুয়াডাঙ্গার ডিঙ্গেদহ ও জীবননগর মৎস্য বীজ উৎপাদন খামার। লক্ষ্যমাত্রা পূরণের খড়্গ মাথায় নিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন দুজন খামার ব্যবস্থাপক।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সদর উপজেলা শহর থেকে আট কিলোমিটার দূরে ডিঙ্গেদহে অবস্থিত মৎস্য বীজ উৎপাদন খামারটি। সরকারিভাবে ১৯৬২ সালে দশ একর জমি অধিগ্রহণের পর ১৯৮২ সালে এ প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠিত হয়। সে সময় ছিল গার্ডশেড, কার্যালয়, হ্যাচারি ওভার হেড ট্যাঙ্ক, গাড়ি রাখার গ্যারেজ, আটটি পুকুর ও সীমানা প্রাচীর। প্রতিষ্ঠার পর আর কোনো সংস্কার না হওয়ায় গার্ডশেড, কার্যালয় (কিছু অংশ বাদে), গ্যারেজও পরিত্যক্ত হয়ে গেছে। হ্যাচারির ওভারহেড ট্যাঙ্ক ভেঙে গেছে। নেই কোনো শেড। ১৯৯৪ সাল থেকে অকেজো হয়ে পড়ে আছে জিপটি। এটি যে অকেজো, সেই সংক্রান্ত প্রতিবেদন ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে ওটা নিলামের ব্যবস্থা করা হবে।
আজ পর্যন্ত সংস্কার করা না হয়নি আটটি পুকুর। ফলে এগুলো ভরাট হয়ে গেছে। পানি না থাকায় মৎস্য বীজ উৎপাদনে বিঘ্ন ঘটছে।
২০১৩ সালে তৎকালীন ব্যবস্থাপকের বাসায় ডাকাতি হওয়ার পর থেকে নিরাপত্তাজনিত কারণে ভাঙাচোরা আবাসনে কেউ থাকতে চান না। এছাড়া সীমানা প্রাচীর ভেঙে যাওয়ায় খামারের মধ্যে সমাজবিরোধীদের বেপরোয়ারা আনাগোনা বেড়ে গেছে। তারা জোর করে খামারের ভেতরের গাছপালার ডাল কেটে নিয়ে যাচ্ছে।
চুয়াডাঙ্গা ডিঙ্গেদহ মৎস্য বীজ উৎপাদন খামারের ব্যবস্থাপক তালেবুল ইসলাম জানান, ২০১৮ পঞ্জিকা বর্ষে এ খামারের উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল রেণু ১০৫ কেজি ও পোনা দুই লাখ ২০ হাজার এবং চিতলের পোনা তিন হাজার। নানান প্রতিকূলতার মধ্যেও উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়েছে বলে তিনি জানান।
উৎপাদিত রেণু এক হাজার ৬০০ টাকা, ৩-৪ ইঞ্চি আকারের পোনা প্রতিটি এক টাকা ও চিতলের ৬-৮ ইঞ্চি আকারের পোনা ১২ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
তিনি বলেন, আটটি পুকুর এ যাবৎ সংস্কার না করায মৎস্য বীজ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এ খামার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সময় বছরে সর্বোচ্চ উৎপাদনের সক্ষমতা ছিল পোনা তিন লাখ ও রেণু ২০০ কেজি, বর্তমানে উৎপাদন হচ্ছে পোনা ২ দশমিক ২০ কেজি ও রেণু ১০৫ কেজি।
খামার ব্যবস্থাপক আরো জানান, গোটা চুয়াডাঙ্গা জেলায় দুই কোটি ৫০ লাখ পোনা ও ৪৫০ কেজি রেণুর চাহিদা রয়েছে।
বর্তমানে খামারে এক জন হ্যাচারি সহকারী, একজন অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর, একজন স্টোরকিপার, একজন হ্যাচারি পরিচালক, একজন অফিস সহায়কের পদ শূন্য রয়েছে। গাড়িচালক প্রেষণে জেলা মৎস্য কার্যালয়ে দায়িত্ব পালন করছেন।
খামারের ব্যবস্থাপক তালেবুল ইসলাম আরো জানান, প্রতিষ্ঠানর পর থেকে খামারের উন্নয়নের ব্যাপারে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। সে কারণে অত্যন্ত প্রতিকূলতার মধ্যেই উৎপাদন চালিয়ে যেতে হচ্ছে।
চুয়াডাঙ্গা শহর থেকে ৩৬ কিলোমিটার দূরে জীবননগরে ১৯৮২ সালে ৬ দশমিক ৯৯ একর জমির ওপর নির্মিত হয় মৎস্য বীজ উৎপাদন খামার। এখানে মৎস্য বীজ উৎপাদনের জন্য পাঁচটি পুকুর রয়েছে। ২০০৮ সালে খামারটিতে ব্রæড ব্যাংক স্থাপন প্রকল্পের (দ্বিতীয় পর্যায়) কার্যক্রম শুরু হয়ে ২০১৩ সালের জুন মাসে শেষ হয়। বর্তমানে খামারটিতে বিভিন্ন প্রজাতির কার্পের রেণু, প্রাকৃতিক উৎসের পোনা উৎপাদন ও ব্রুড উৎপাদন কার্যক্রম চলছে। তবে পুকুরগুলো দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। ব্রুড ব্যাংক স্থাপন প্রকল্প (দ্বিতীয় পর্যায়) থেকে ২০০৮ সালে কার্যালয় ভবন, খামারের হ্যাচারি অংশ, গার্ডশেড এবং ওভারহেড ট্যাঙ্ক মেরামতের কাজ করা হয়। বর্তমানে খামারের সীমানা প্রাচীর মেরামত এবং গভীর নলকূপ স্থাপন করা হচ্ছে।
খামারের ব্যবস্থাপক আব্দুল কাদের জানান, উৎপাদন কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে চালানোর জন্য খামারের পুকুরগুলোর সংস্কার, পুকুরগুলোতে পানি সরবরাহ লাইন, খামারে বিদ্যুতায়ন, রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণ এবং খামারের অফিস কাম নিরীক্ষা ঘর মেরামত করা প্রয়োজন। এই খামারটি এলাকায় মাছ চাষ সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। খামারের কার্যক্রম বাস্তবায়নের মাধ্যমে বেসরকারি-সরকারি হ্যাচারিতে প্রাকৃতিক উৎসের উন্নতমানের ব্রæড সরবরাহ এবং মাছচাষিদের মাঝে বিভিন্ন প্রজাতির উন্নতমানের রেণু ও পোনা সরবরাহের পাশাপাশি মাছ চাষ সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারবে।
তিনি বলেন, এ প্রতিষ্ঠানে সিলভার কার্প মাছের রেণু, রুই ও মৃগেলের পোনা উৎপাদন করা হয়। জীবননগর থেকে ঝিনাইদহ জেলার কোটচাঁদপুর উপজেলায় বেসরকারিভাবে হ্যাচারি গড়ে ওঠায় সেখান থেকে কমদামে মৎস্যজীবীরা রেণু ও পোনা কিনছেন। সেকারণে সরকারি হ্যাচারি তীব্র প্রতিযোগিতায় পড়েছে।

আরও পড়ুন