যন্ত্রণায় ঘুমাতে পারেন না মণিরামপুরের আহাদ

আপডেট: 08:31:42 29/08/2017



img

আনোয়ার হোসেন, মণিরামপুর (যশোর) : মণিরামপুরের কাশিমনগর ইউনিয়নের কাশিমনগর মান্দারতলা এলাকার বাসিন্দা আহাদ আলী মোড়ল (৫৫)। একসময় মাঠে কাজ করে জীবন চলতো তার। গত ৩০ বছর ধরে অদ্ভুত এক রোগে ভুগছেন তিনি। টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছেন না। এখন কাজের সামর্থ্য হারিয়ে বেঁচে থাকার জন্য ভিক্ষে করেন।
মঙ্গলবার সকালে উপজেলার টেংরামারী বাজারে ভিক্ষে করতে দেখা যায় আহাদ মোড়লকে। ওইসময় কথা হয় তার সঙ্গে।
আহাদ আলী জানান, তার বয়স যখন ১০-১২ তখন প্রথমে গায়ে ঘামাচির মতো কিছু দেখা যায়। আস্তে আস্তে তা সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। গোটাগুলো বড় হতে থাকে ক্রমে। সংসার বড় হওয়ায় ও আহাদ আলীর বাবা সৈয়দ মোড়ল গরিব চাষি হওয়ায় ছেলেকে ভালো ডাক্তার দেখাতে পারেননি।
আহাদ মোড়ল বলেন, ‘সারা শরীরের ঘামাচিগুলো ধীরে ধীরে গুঁটি গুঁটি হতে থাকে। প্রথমে ওগুলো নরম ছিল। তখন তেমন কোনো জ্বালা-যন্ত্রণা ছিল না। ফলে মাঠে কাজ করে স্ত্রী ও পাঁচ ছেলে-মেয়েকে নিয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপনই করতাম। কিন্তু এখন শরীরে ভীষণ যন্ত্রণা। বিভিন্ন সময়ে স্থানীয় হোমিওসহ অ্যালোপ্যাথিক ডাক্তারের চিকিৎসা নিয়ে কোনো উপকার পাইনি। পরে পরীক্ষা করিয়ে যশোরের ফাতিমা হাসপাতাল ও জেনারেল হাসপাতালের ডাক্তার দেখিয়েছি। তাতে যন্ত্রণা কমেনি। শরীরের গুঁটিগুলো সময়ের সাথে সাথে বড় বড় হচ্ছে।’
তবে ঢাকায় বড় ডাক্তার দেখাতে পারলে সুস্থ হতেন বলে দৃঢ় বিশ্বাস আহাদ মোড়লের।
আহাদ মোড়লের পিঠের দুটো গুটি এখন বড় শক্ত মাংসপিণ্ডে পরিণত হয়েছে। বাকিগুলো আস্তে আস্তে বড় হচ্ছে। ফলে রাতের বেলায় শুয়ে ঘুমাতে পারেন না তিনি।
তিনি বলেন, ‘রাতে বিছানায় শোয়া যায় না। শুয়ে এপাশ-ওপাশ করা যায় না। তাই বালিশের ওপর উপুড় হয়ে রাত কাটাই।’
আহাদ মোড়ল জানান, গত ১৪ বছর ধরে তিনি কাজ করতে পারেন না। রোদে গেলেই শরীরের গুঁটিগুলোতে জ্বালাপোড়া শুরু হয়। এখন ভিক্ষে করে তার সংসার চলে।
তিনি বলেন, ‘ভিক্ষে করে সংসার চালিয়ে চার মেয়েকে বিয়ে দিয়েছিলাম। ছোট মেয়ের গায়ে একই রকম গুঁটি দেখা দেওয়ায় প্রায় তিন বছর আগে স্বামী তাকে তালাক দিয়েছে। এখন সেই মেয়েও আমার সংসারে।’
আহাদ মোড়লের দাবি, এখন আর মানুষ ভিক্ষে দিতে চায় না। কোনো বাড়ি ঢুকলে মহিলারা ‘পুলিশে ধরিয়ে দেবে’ বলে হুমকি দেয়।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান জিএম আহাদ আলী বলেন, ‘আহাদ মোড়লের শরীরের অবস্থা দেখলে তার জন্য দুঃখ হয়। আমি সাধ্যমতো তার দিকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিই। সরকারের দেওয়া প্রায় সব সুযোগ-সুবিধা তাকে দেওয়া হয়।’
আহাদ মোড়লের চিকিৎসায় তিনি বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
আহাদ আলীর রোগ নিয়ে কথা হয় মণিরামপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. আমিরুজ্জামানের সঙ্গে।
তিনি বলেন, ‘এই রোগটির নাম নিউরোফাইব্রোমেটোসিস। এটি একটি দুরারোগ্য ব্যাধি। এর তেমন কোনো চিকিৎসা নেই।’
ডা. আমিরুজ্জামান জানান, অনেকের দেহে এই রোগ দেখা যায়। এটি বংশগত কারণে হতে পারে। অন্য কোনো কারণেও যে কোনো বয়সে হতে পারে। মানুষের দেহে প্রথমে এটি নরম মাংসপিণ্ড আকারে দেখা যায়। ধীরে ধীরে এগুলো বড় হয়ে শক্ত হয়। ছোট অবস্থায় এটি কোনো সমস্য মনে না হলেও বড়গুলোতে প্রচণ্ড ব্যাথা হয়।’

আরও পড়ুন