যশোরের শাহীনের গুলিবিদ্ধ লাশ শালিখায়

আপডেট: 01:53:58 14/09/2018



img

স্টাফ রিপোর্টারমাগুরা প্রতিনিধি : মাগুরার শালিখা উপজেলার শতখালী থেকে বৃহস্পতিবার এক অজ্ঞাত ব্যক্তির গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার হয়েছে।
মরদেহটি যশোর শহরতলীর রাজারহাট এলাকার শাহীন ওরফে পাগলা শাহীনের বলে বিভিন্ন মহল থেকে বলা হচ্ছে। ছাত্রলীগের বিদায়ী কমিটির সম্পাদকমণ্ডলীর এই সদস্য সদর উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন হত্যা মামলার অন্যতম আসামি ছিলেন। রাজনৈতিকভাবে তিনি আওয়ামী লীগ নেতা খালেদুর রহমান টিটোর অনুসারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
মাগুরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলাম জানান, এলাকাবাসীর সংবাদের ভিত্তিতে মাগুরা-যশোর সড়কের শতখালী এ আর জুটমিল এলাকায় রাস্তার পাশ থেকে শালিখা থানা পুলিশ ওই মরদেহ উদ্ধার করেছে। আনুমানিক ৪৫ বছর বয়সী ওই ব্যক্তির বাম কানের নিচে গুলির চিহ্ন রয়েছে। গুলিটি তার বাম কানের নিচ দিয়ে ঢুকে মুখ দিয়ে বের হয়ে গেছে। তবে পুলিশ এখনো মরদেহের পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেনি।
তবে যশোরের বিভিন্ন সূত্র বলছে, গুলিতে নিহত ওই ব্যক্তি যশোর শহরতলীর রাজারহাট এলাকার শাহীন ওরফে পাগলা শাহীন।
দলীয় সূত্রগুলো বলছে, শাহীন জেলা ছাত্রলীগের বিদায়ী কমিটির সম্পাদকমণ্ডলীতে ছিলেন। পরে তিনি যুবলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত হন। তবে তার যুবলীগে তার কোনো পদ-পদবি নেই।
যুবলীগের একজন নেতা সুবর্ণভূমিকে জানান, শাহীন সংগঠনের সদর উপজেলা কমিটির তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন হত্যা মামলায় প্রধান অভিযুক্ত। ২০১৪ সালের ২৫ মে আলমগীর হোসেন রাজারহাট এলাকায় আক্রান্ত হন। দুর্বৃত্তরা তাকে গুলি করে ও কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। এর প্রায় এক মাস পর ১৮ জুন আলমগীর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
যুবলীগের ওই নেতা বলেন, আলমগীরকে গুলি করেছিলেন শাহীন। সেই কারণে ওই হত্যা মামলায় তাকে এক নম্বর আসামি করা হয়। আলমগীর মৃত্যুপূর্ব জবানবন্দিতে তার ওপর হামলাকারীদের যে বর্ণনা দিয়েছিলেন, সেখানে শাহীনের নাম ছিল।
শাহীন যশোরে বহুধাবিভক্ত আওয়ামী লীগে খালেদুর রহমান টিটোর অনুসারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। টিটোর ছেলে মাশুক হাসান জয় এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সুবর্ণভূমিকে জয় বলেন, ‘শাহীন মারা গেছেন বলে শুনতে পাচ্ছি। তবে আমি নিশ্চিত নই।’
শাহীন তাদের সঙ্গে রাজনীতি করতেন বলে নিশ্চিত করে জয় বলেন, বিএনপি জোট সরকারবিরোধী আন্দোলনে তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। আলমগীর হত্যা মামলায় শাহীনকে ফাঁসিয়ে দেওয়া হয় বলে দাবি জয়ের।
জানতে চাইলে যশোর কোতয়ালী থানার ওসি অপূর্ব হাসান সুবর্ণভূমিকে বলেন, ‘মাগুরায় একটি লাশ উদ্ধার হয়েছে বলে শুনেছি। তবে লাশটি এখনো শনাক্ত হয়নি।’
পুলিশের অন্য একটি সূত্র মোটামুটি নিশ্চিত করেছে, লাশটি যশোরের শাহীনেরই।
আমাদের মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি জানান, শাহীন গত দুই বছর ধরে মণিরামপুরের কাশিমনগর ইউনিয়নের নাদড়া গ্রামে তার ভগ্নিপতি আবু তালেবের বাড়িতে আত্মগোপনে ছিলেন। গত মঙ্গলবার গভির রাতে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে সাদা পোশাকধারী একদল লোক তাকে তুলে নিয়ে যায় বলে এলাকায় প্রচার রয়েছে। এর পর থেকে তার আর খোঁজ পাওয়া যায়নি।

এদিকে, মাগুরার অ্যাডিশনাল এসপি তারিকুল ইসলাম জানান, দুই মাস আগে একই এলাকা থেকে পুলিশ কানের নিচে গুলিবিদ্ধ অরো একটি মরদেহ মরদেহ উদ্ধার করেছিল।

আরও পড়ুন