যশোরে ওয়াক ফর লাইফের অনন্য উদ্যোগ

আপডেট: 02:35:54 30/04/2018



img
img

শহিদুল ইসলাম দইচ : ‘আমার অন্তরের আকুতি কবুল করেছেন আল্লাহ। আমার এক মাস দুই দিন বয়সী ছেলে মেজবাহউদ্দিনের দুটো বাঁকা পা (মুগুর পা) এখন স্বাভাবিক। ডাক্তার আব্দুর রউফের চিকিৎসায় ছেলের বাঁকা পা ভালো হয়েছে। আল্লাহ যেন তার দীর্ঘায়ু করেন। তিনি যেন এভাবেই দেশের ওইরকম শিশুদের চিকিৎসা দিয়ে স্বাভাবিক করতে পারেন।’
কথাগুলো হাসিমুখে বলছিলেন যশোর সদরের রামনগর গ্রামের মো. মামুন হোসেনের স্ত্রী লাকি বেগম।
শিশুদের জন্মগত বাঁকা পা (মুগুর পা) চিকিৎসাসেবার মাধ্যমে স্বাভাবিক করতে কাজ করছে ওয়াক ফর লাইফ নামে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান।
যশোর জেনারেল হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডের পশ্চিম পাশে প্রথম রুমে সম্পূর্ণ বিনা টাকায় এই চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়। আর এই প্রতিষ্ঠানটির কনসালটেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন যশোর জেনারেল হাসপাতালের অর্থোপেডিক ডাক্তার আব্দুর রউফ।
২০০৯ সাল থেকে চলতি বছরের মে মাস পর্যন্ত এখান থেকে এক হাজার ৭০টি শিশুর জন্মগত বাঁকা পা স্বাভাবিক হয়েছে।
যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার ওমরপুর গ্রামের জিয়ারুল ইসলামের স্ত্রী খাদিজা বেগম সুবর্ণভূমিকে জানান, তার ছেলে তামিমের বয়স ২২ দিন। জন্মগতভাবে ছেলের ডান পা বাঁকা ছিল। তিনি লোকমুখে শুনেছেন, যশোর জেনারেল হসাপাতালে চিকিৎসা দিলে তার ছেলের পা স্বাভাবিক হয়ে যাবে। এরপর ছেলেকে হাসপাতালে আনেন। ডাক্তার চিকিৎসা দিয়ে তার ছেলের পা সোজা করে দিয়েছেন। চিকিৎসায় কোনো টাকা খরচ হয়নি।
নড়াইল জেলার লোহাগড়া উপজেলার ইতনা গ্রামের বিদ্যুৎ মোল্যার স্ত্রী মনি বেগম সুবর্ণভূমিকে জানান, তার এক মাস ছয় দিনের মেয়ে তাহেরা। তার ডান পা বাঁকা ছিল। মেয়ের পা নিয়ে তিনিসহ পরিবারের লোকজন খুবই চিন্তায় ছিলেন। চিকিৎসা গ্রহণের পর মেয়ের পা এখন স্বাভাবিক।
এ বিষয়ে কথা হয় ডাক্তার আব্দুর রউফের সঙ্গে। তিনি সুবর্ণভূমিকে বলেন, ‘আমি বিদেশে চিকিৎসাসেবার ওপর প্রশিক্ষণ নিতে গিয়ে পরিচয় হয় অস্ট্রেলিয়ার বিশিষ্ট সমাজসেবক কলিং ম্যাক্স ফারলেনের সাথে। তিনিই আমাকে উদ্বুদ্ধ করেন, জন্মগতভাবে যে সব শিশুর পা বাঁকা তাদের চিকিৎসা দিতে। একপর্যায়ে আমি ইংল্যান্ডে গিয়ে এ বিষয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হই।’
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি বিনা পয়সায় স্বেচ্ছায় কেবলমাত্র মানবসেবার জন্য এই কাজটি করি। এমনিতে ডাক্তারদের নামে অনেক বদনাম আছে। যদি ভালো কাজ করে যেতে পারি, মানুষ আমাকে মনে রাখবে। আমি যে ভালো কাজ করছি- এটাই বিশাল পাওয়া।’
ওয়াক ফর লাইফের ক্লিনিক ম্যানেজার কাজী মুন ই মুল হুদা সুবর্ণভূমিকে বলেন, ‘২০০৯ সাল থেকে যশোরসহ দেশের ৩৭টি জেলায় এই চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছি। এই পর্যন্ত যশোরে এক হাজার ৭০টি শিশুর বাঁকা পা স্বাভাবিক করা সম্ভব হয়েছে। এটি একটি বেসরকারি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান। বিনা খরচে আমরা চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছি।’
জানতে চাইলে যশোর জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাক্তার আবুল কালাম আজাদ লিটু সুবর্ণভূমিকে বলেন, ‘দাযিত্ব নেওয়ার পর আমি ওয়াক ফর লাইফ কার্যালয় পরিদর্শন করেছি। আমি দেখেছি, একটি শিশুর বাঁকা ডান পা অপারেশন করে স্বাভাবিক করে দিয়েছেন ডাক্তার আব্দুর রউফ। তারা খুব ভালো কাজ করছে; আমি খুশি হয়েছি।’
তিনি এ জাতীয় রোগীর স্বজনদের দ্রুত যশোর জেনারেল হাসপাতালে যোগাযোগের অনুরোধ করেন।