যশোরে চিকিৎসা অবহেলায় স্কুলছাত্রীর মৃত্যুর অভিযোগ

আপডেট: 05:16:25 02/02/2018



img
img

স্টাফ রিপোর্টার : যশোরে ডাক্তার এবং সেবিকাদের অবহেলায় রুপা ওরফে মিনা (১৩) নামে এক স্কুলছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করা হচ্ছে।
মেয়েটির মৃত্যুর পর হাসপাতালে লোকজন হইচই শুরু করেন। রোগীর স্বজনদের সঙ্গে হাসপাতালের স্টাফদের বাকবিতণ্ডা হয়। খবর পেয়ে পুলিশও ঘটনাস্থলে আসে।
ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার সকালে যশোর জেনারেল হাসপাতালের মহিলা মেডিসিন ওয়ার্ডে।
রুপা শহরতলীর ঝুমঝুমপুর মান্দারতলার ইনসার আলী ওরফে আতিকুর রহমানের মেয়ে। সে সদর উপজেলার রূপদিয়া গ্রামে নানা মৃত আহম্মেদ আলীর বাড়িত থাকতো। পাশেই নরেন্দ্রপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ালেখা করতো। তার বাবা ইনসার আলী শারীরিক প্রতিবন্ধী।
তিনি সুবর্ণভূমিকে বলেন, ‘আমি অটোরিকশা চালিয়ে সংসার চালাই। আমার এক ছেলে ইমরান হোসেন (১৬) ও একমাত্র মেয়ে রুপা। আজ সকালে রুপার ডায়রিয়া হলে তাকে যশোর জেনারেল হাসপাতালের মহিলা মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তি করি। হাসপাতালে আনার পরে আমার মেয়ে দুই তিনবার পায়খানা করে। গন্ধের কারণে দীর্ঘ দুই ঘণ্টায়ও কোনো ডাক্তার বা নার্স তার কাছে আসেনি, চিকিৎসাও দেয়নি। সময়মতো চিকিৎসা পেলে মেয়েটি বেঁচে যেত।’
তিনি অভিযোগ করেন, শুধু ডাক্তার ও নার্সদের অবহেলার কারণে তার মেয়ে মারা গেছে।
মা হামিদা বেগম ও ভাই ইমরান হোসেন সুবর্ণভূমিকে জানান, রুপার চিকিৎসা দিতে ওয়ার্ডের আয়া নার্গিস ৩০০ টাকা উৎকোচ দাবি করে। টাকা না দেওয়ায় সে রোগীর কাছে আসেনি। দুই ঘণ্টার মাথায় ডাক্তার ও নার্স একই সঙ্গে রুপার কাছে আসে। কিন্তু তখনই সে মারা যায়।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ডাক্তার আব্দুল্লাহ আল মামুন সুবর্ণভূমিকে বলেন, ‘সকালে পয়জন পান করা একজন ভর্তি হয়। আমি তাকে প্রোপার চিকিৎসা দিয়ে মহিলা মেডিসিন ওয়ার্ডে পাঠিয়ে দিই। পরে কেন, কীভাবে সে মারা গেল আমার জানার কথা না।
জানতে চাইলে হাসপাতালের তত্বাবধায়ক (ভারপ্রাপ্ত) আব্দুর রহিম মোড়ল সুবর্ণভূমিকে বলেন, ‘এরকম ঘটনা আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে দেখবো।’
হাসপাতালের মহিলা মেডিসিন ওয়ার্ডে কর্তব্যরত ইন্টার্ন ডাক্তার ফয়সাল কবির সুবর্ণভূমিকে বলেন, ‘আমি শুক্রবার সকালে ওয়ার্ডের দায়িত্বে ছিলাম। রুপা নামে একজন কিশোরী মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশক পান করায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে। আমি হাসপাতালেই ছিলাম। চিকিৎসা সেবা দিতে কোনো অবহেলা করা হয়নি।’
মহিলা মেডিসিন ওয়ার্ডে দায়িত্বরত সেবিকা সুইট মল্লিক সুবর্ণভূমিকে বলেন, ‘রুপা নামে কিশোরী কীটনাশক খেয়ে সকাল দশটা পাঁচ মিনিটে হাসপাতালে ভর্তি হয়। আমি সঙ্গে সঙ্গে ডাক্তার ফয়সাল কবিরকে ডেকে আনি। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সে সকাল ১১টা ১৫ মিনিটে মারা যায়।’
অভিযুক্ত আয়া নার্গিস বেগম সুবর্ণভূমিকে বলেন, ‘আমি হাসপাতালের কোন স্টাফ নই। এখানে ফ্রি কাজ করি। রোগীদের সেবা করলে আমাকে যে বকশিস দেয়, তাই নিয়ে চলি। রুপা নামের মেয়েটি ২-৩ বার মল ত্যাগ করেছে। তার শরীর থেকে দুর্গন্ধ বের হচ্ছিল। এসময় আমাকে পরিষ্কার করতে বললে আমি ৩০০ টাকা চেয়েছি।’
কোতয়ালী থানার এসআই মো. নজরুল ইসলাম সুবর্ণভূমিকে বলেন, ‘ডাক্তার এবং নার্সের অবহেলায় রুপা নামে এক কিশোরীর মৃত্যু হয়েছে শুনে আমি ঘটনাস্থলে এসেছি। প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনের জন্য পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।’

আরও পড়ুন