যশোরে নারীসহ ছয় ‘ভুয়া সাংবাদিক’ আটক

আপডেট: 02:28:52 16/05/2018



img

স্টাফ রিপোর্টার : যশোরে চাঁদাবাজির অভিযোগে দুই নারীসহ ছয়জনকে আটক করেছে পুলিশ; যাদের ভ্য়ুা সাংবাদিক হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার বিকেলে সদর উপজেলার নওয়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদে চাঁদাবাজি করতে গিয়ে তারা পুলিশের হাতে আটক হন। আটক ব্যক্তিদের উপশহর পুলিশ ক্যাম্পে রাখা হয়েছে। তারা ঢাকা থেকে প্রকাশিত ‘ডিবিসি নিউজ ২৪ ডটকম’ নামে একটি নিউজপোর্টালের সাংবাদিক পরিচয় দিচ্ছেন। আটক ব্যক্তিরা হলেন দেলোয়ার হোসেন, মো. আজাদ হোসেন, গালিব হাসান মিথুন, মাসুম বিল্লাহ, বিউটি বড়ুয়া এবং জাফরিন আক্তার রিয়া।
উপশহর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই আব্দুর রহিম সুবর্ণভূমিকে জানান, আটক ব্যক্তিরা সদর উপজেলার নওয়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদে চাঁদাবাজি করতে গিয়েছিলেন। এসময় চেয়ারম্যান নাসরিন সুলতানা খুশি উপস্থিত ছিলেন না। তিনি ঢাকায় রয়েছেন। তার স্বামী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলনের অভিযোগের ভিত্তিতে ওই ছয়জনকে আটক করা হয়েছে।
শহিদুল ইসলাম মিলন সুবর্ণভূমিকে বলেন, ‘ওই ছয়জন নিজেদের সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে সরকারের উন্নয়নের সফলতার খোঁজ-খবর নেওয়ার নামে টাকা হাতিয়ে আসছিল বেশ কয়েক দিন ধরে। আজ বিকেলে আসে নওয়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সচিবের কাছে। তার কাছে চাঁদা দাবি করে। এর আগে একবার কৌশলে পরিষদের সচিবের কাছ থেকে কিছু টাকা হাতিয়ে নিয়ে গেছে তারা। আমি টের পেয়ে তাদেরকে ইউনিয়ন অফিসে বসিয়ে রেখে বিভিন্নভাবে খোঁজ-খবর নিয়ে জানতে পারি, ওরা সবাই ভুয়া সাংবাদিক। পরে খবর দিলে উপশহর পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। তখন তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয় প্রতারকদের।’
গত কয়েকদিনে এই চক্রটি জেলার বিভিন্ন স্থানে গিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে টাকা-পয়সা হাতিয়ে নিয়েছে বলে খবর মিলেছে। এমনকি জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও জেলা পরিষদেও তারা গিয়েছিলেন।
জানতে চাইলে যশোর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুজ্জামান পিকুল সুবর্ণভূমিকে বলেন, ‘দুই নারীসহ মোট ছয়জন নিজেদের ঢাকা প্রেসক্লাবের সদস্য পরিচয় দিয়ে বর্তমান সরকারের সফলতার খতিয়ান চায়। সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ায় আমি তাদের সম্বন্ধে আর কোনো খোঁজ খবর নিইনি। তাদের যথাযথ আপ্যায়নও করেছি। কিন্তু তারা ভুয়া সাংবাদিক কি না তা বলতে পারবো না। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে দেখবে।’
যশোর জেলা প্রশাসক আব্দুল আওয়াল সুবর্ণভূমিকে বলেন, ‘দুইটি মেয়েসহ ছয়জন নিজেদের সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে আমার কাছে এসেছিল। আমি তখন ব্যস্ত থাকায় বাইরে চলে যাই। তারা সাংবাদিক কি-না তা আমি বলতে পারবো না। সাংবাদিক না হলে পুলিশ ব্যবস্থা নেবে।’
তবে আটক দেলোয়ার হোসেন ও বিউটি বড়ুয়া দাবি করেন, তারা কারো কাছে চাঁদা চাননি। খুশি হয়ে কেউ কেউ কিছু টাকা দিয়েছেন।
তাদের দাবি, তারা এ পেশায় একবারে নবীন। তারা ঢাকা প্রেসক্লাবের সদস্য। তাদের প্রেসক্লাবে সাধারণ সম্পাদক কাজী ফরিদ আহম্মেদ বাংলাদেশের সব ইউনিয়নের উন্নয়নের চিত্র তুলে আনতে বলেছেন। তাই তারা যশোরে এসেছেন।
প্রসঙ্গত, রাজধানীতে সাংবাদিকদের গুরুত্বপূর্ণ সংগঠনের নাম জাতীয় প্রেসক্লাব; ঢাকা প্রেসক্লাব নয়। আর প্রেসক্লাব কর্তৃপক্ষ কোনো সংবাদকর্মীকে অ্যাসাইনমেন্ট দেন না।

আরও পড়ুন