যশোরে বহুতল ভবনগুলোর অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা দুর্বল

আপডেট: 02:48:41 05/04/2019



img
img

স্টাফ রিপোর্টার : অগ্নিনিরাপত্তার তথ্য সংগ্রহের কাজে গিয়ে যশোরের বহুতল ভবনগুলোতে মিলছে নানা অসঙ্গতি।
এসব ভবনে অগ্নিনির্বাপণের ব্যবস্থা থাকলেও কোথাও তা একেবারেই অচল, আবার কোনো কোনোটিতে স্থানে মানা হয়নি অগ্নিকাণ্ড প্রতিরোধ পরিকল্পনা। এই অবস্থায় ভবন মালিকদের দ্রুত অগ্নিনির্বাপন ব্যবস্থা সচলের তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
অপরদিকে, বড় ধরনের দুর্ঘটনায় উদ্ধার কাজে অংশ নেওয়ার মতো সক্ষমতা ফায়ার সার্ভিসের না থাকার বিষয়টিও উঠে এসেছে।
রাজধানীর বনানী এলাকায় এফআর টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডের পর যশোরে মাসব্যাপী অভিযান শুরু করেছে যশোর ফায়ার সার্ভিস।
আজ বৃহস্পতিবার প্রথম দিনে ফায়ার সার্ভিসের টিম যশোর শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কসহ পাঁচটি বহুতল ভবনে অগ্নিকাণ্ড প্রতিরোধ ব্যবস্থাপনা পরির্দশন ও তথ্য সংগ্রহ করে। শুরুতেই বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের আওতাধীন বহুতল ভবন শেখ হাসিনা সফটওয়ার পার্কে গিয়ে অগ্নিনির্বাপণের সব সরঞ্জাম দেখতে পান। কিন্তু তার সবই অচল। ফ্লোরে ফ্লোরে থাকা ফায়ার এক্সটিংগুইশারগুলোও কোনো কাজ করছে না।
এছাড়া শহরের নোভা মেডিকেল ও হোটেল হাসান ইন্টারন্যাশনালের ভবনে অগ্নিনির্বাপণের দুর্বল ব্যবস্থা দেখতে পায় টিম। এসময় তাদেরকে দ্রæত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা সচল করার তাগিদ দেওয়া হয়।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স যশোরের উপ-পরিচালক ওয়াদুদ হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘মাসব্যাপী পরিদর্শনের অংশ হিসেবে আজকে প্রথম যশোর আইটি পার্কে এসেছি। এখানে অগ্নিনির্বাপনের সকল ব্যবস্থা থাকলেও তা সম্পূর্ণর অচল ও অকার্যকর। এর বাইরে ফ্লোরে ফ্লোরে ফায়ার এক্সিটিংগুইশারগুলো মেয়াদোত্তীর্ণ ও তাতে কোনো প্রেশার নেই। এই ভবনটিতে যদি আগুন লাগে তাহলে তা প্রতিরোধ করা দুরুহ হয়ে পড়বে। তবে এই ভবনের বহিঃনির্গমন পথগুলো সচল আছে।’
তিনি আরো বলেন, নোভা মেডিকেল সেন্টার ও হাসান ইন্ট্যারন্যাশনাল হোটেলও পরিদর্শন করেছেন তারা। বহুতল এই ভবন দুটোতে ফায়ার এক্সটিংগুইশার ছাড়া অন্য কোনো প্রতিরোধ ব্যবস্থা নেই।
শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক ব্যবস্থাপনা কোম্পানির সহব্যবস্থাপক শাহরিয়ার বিশ্বাস বলেন, ‘ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা যে দুর্বলতাগুলো পেয়েছে, সে বিষয়ে ইতিপূর্বে আমরা হাইটেক পার্ক অথরিটিকে জানিয়েছি। কিন্তু সমস্যা সমাধানে কোনো সাড়া পাইনি। আমরা আবার বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আনবো।’
নোভা মেডিকেল সেন্টারের ম্যানেজার রিয়াজ আহমেদ বলেন, ‘‘ফায়ার সার্ভিস আমাদের অগ্নিনির্বাপণ ব্যাবস্থার দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে ১৫ দিনের সময় বেঁধে দিয়েছে। এই সময়ের ভেতরে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা সচল করা না হলে ভবনকে ‘অগ্নিঝুঁকিপূর্ণ’ বলে সাইনবোর্ড টানিয়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।’’
এদিকে বহুতল ভবনে অগ্নিকাণ্ড প্রতিরোধ ব্যবস্থার এমন দুর্বলতা সেখানে অবস্থানরতদের উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কের উদ্যোক্তা অংশ ইন্টারন্যাশনালের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মহিদুল ইসলাম বলেন, ‘১৫ তলা এই ভবনে মোট সাতশ’ কর্মী কাজ করে। ফায়ার সার্ভিসের কল্যাণে যে ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে তাতে আমরা চরম আতংকিত। বনানী ট্রাজেডির মতো কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে আমরা কেউ বাঁচতে পারব কিনা তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। কারণ এই ভবনে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা যথাযথ নয়। উপরন্তু যশোর ফায়ার সার্ভিসের বহুতল ভবনের অগ্নিকাণ্ডে উদ্ধার তৎপরতা চালানোর সক্ষমতা নেই।’
একই ভবন ব্যবহারকারী উদ্যোক্তা অজয় দাস বলেন, ‘কর্মীদের নিয়ে বেশ আতংকের মধ্যেই থাকতে হচ্ছে। আমরা কেউই ফায়ার এক্সিংগুইশারগুলোর ব্যবহার জানি না। ফলে ঝুঁকি থেকেই যায়।’
এ অবস্থায় ফায়ার সার্ভিসের অধীনে ভবন ব্যবহারকারীদের প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন অজয়।
যশোরে বহুতল ভবনে ফায়ার সার্ভিসের অগ্নিনির্বাপণের সক্ষমতা না থাকার বিষয়টি স্বীকার করে নিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির উপপরিচালক ওয়াদুদ হোসেন।
তিনি বলেন, ‘আমাদের যে সরঞ্জামাদি আছে তাতে আমরা যে সাপোর্ট দিতে পারবো তা বহুতল ভবনের উপযোগী নয়। ল্যাডারসহ অনেক যন্ত্রপাতি দরকার। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আশা করি এগুলো আমরা পেয়ে যাব।’
ফায়ার সার্ভিসের তথ্য মতে, যশোরে ৬৫টি বহুতল ভবন রয়েছে। যার অধিকাংশের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থাপনা খুবই দুর্বল।

আরও পড়ুন