যশোরে বিএনপির ২৭ নেতাকর্মীর নামে ফের মামলা

আপডেট: 07:59:25 11/02/2018



img

স্টাফ রিপোর্টার : নাশকতার অভিযোগে যশোর কোতয়ালী থানায় রোববার আরো একটি মামলা হয়েছে। এবার সদর উপজেলার বসুন্দিয়া ইউনিয়ন বিএনপির ২৭ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করেছেন বসুন্দিয়া পুলিশ ক্যাম্পের এএসআই ওবায়দুর রহমান। মামলা নম্বর-৩৭।
এই মামলায় ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি ফিরোজ খানসহ তিনজনকে আটক দেখানো হয়েছে। ফিরোজ খান সদুল্লাপুর গ্রামের মৃত শহিদুল ইসলাম বাবুর ছেলে। অন্য দুইজন হলেন, কেফায়েতনগর গ্রামের ওহাব বিশ্বাস এবং সদর উপজেলার রাজাপুর গ্রামের হাসান আলী।
এজাহারে বর্ণিত পলাতক আসামিরা হলেন, গাইদগাছি গ্রামের অ্যাডভোকেট নুরুজ্জামান খান, কাজী আব্দুল আজিজ ও তার দুই ছেলে সনি ও কাজী তৌফিক এলাহী টনি, রফিকুল ইসলাম, মশিয়ার রহমান, অহেদ মোড়ল, আইয়ুব হোসেন ওরফে দুলাই, বসুন্দিয়া গ্রামের নুর ইসলাম মোল্লা ওরফে নুরো মোল্লা, কেফায়েতনগর গ্রামের শফিকুল ইসলাম, জামাল বিশ্বাস, বাচ্চু গাজী ও তার ছেলে মহিদুল ইসলাম, একই গ্রামের বুলু, ইমরান, সদুল্লাপুর গ্রামের আব্দুল আলিম, মোহাম্মদ হানিফ, জগন্নাথপুর গ্রামের আলাই মোল্লা, সেলিম বিশ্বাস, জয়ন্তা গ্রামের নোকাম উদ্দিন, জহুরুল ইসলাম, রামনগরের সতীঘাটা এলাকার কুদ্দুস, মঠবাড়ি গ্রামের মুসা এবং একই গ্রামের সাইফুল ইসলাম। এছাড়া অজ্ঞাত ২০-২৫ জনকে মামলায় আসামি করা হয়েছে।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, আসামিরা ২০ দলীয় ঐক্যজোটের নেতাকর্মী। তারা রোববার সকাল পৌনে আটটার দিকে যশোর-খুলনার মহাসড়কের গাইদগাছি বেলতলায় অবরোধ করে টায়ার পুড়িয়ে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড করছিলেন। সংবাদ পেয়ে বসুন্দিয়া ক্যাম্পের পুলিশ সেখানে গিয়ে দেখতে পায় আসামিরা মারাত্মক অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে, বোমা ও লাঠি নিয়ে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ করছেন। তারা পুলিশ দেখতে পেয়ে ২-৩টি হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটান। অন্যরা পালিয়ে গেলেও তিনজনকে আটক করা হয়। তাদের কাছে থাকা প্লাস্টিকের ব্যাগ তল্লাশি করে আটটি বোমা উদ্ধার করা হয়। এছাড়া পলাতক আসামিদের ফেলে যাওয়া ছড়ানো ছিটানো অবস্থায় বিস্ফোরিত বোমার তিনটি টুকরো, ছোটবড় লাল স্কসটেপের টুকরো, ১৮টি জালের কাঠি (লোহার টুকরো), ১১টি কাচের মারবেল, একটি পোড়া টায়ারের অংশবিশেষ এবং পাঁচটি বাঁশের লাঠি জব্দ করা হয়।
এজাহারে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, আটক তিন আসামি প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পলাতক আসামিদের নাম ঠিকানা প্রকাশ করে। আসামিরা বিভিন্ন সময় আন্দোলনের নামে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর আক্রমণ, বোমাবাজি, দোকানপাট, বৈদ্যুতিক স্থাপনাসহ সরকারি বেসরকারি বহু গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় অগ্নিসংযোগসহ মানুষের জীবন ও সম্পদের ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে আসছেন বলে স্বীকার করেন।
প্রসঙ্গত, গত কয়েকদিন ধরে পুলিশ বাদী হয়ে বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীদের নামে একই ধরনের মামলা করছে। এতে কয়েকশ’ নেতাকর্মী আসামি হয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। বিএনপি নেতারা এই মামলাকে ‘গায়েবি’ উল্লেখ করে এর নিন্দা করছেন।

আরও পড়ুন