যশোরে বিএনপি নেতাকর্মীদের নামে ফের নাশকতা মামলা

আপডেট: 09:30:37 05/01/2017



img

স্টাফ রিপোর্টার : যশোর পৌরসভার সাবেক মেয়র ও নগর বিএনপির সভাপতি মারুফুল ইসলাম এবং সাধারণ সম্পাদক মুনীর আহমেদ সিদ্দিকী বাচ্চুসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার বিকেলে নাশকতার মামলা করেছে পুলিশ। অবশ্য মামলার সময় দেখানো হয়েছে আগের রাত।
দীর্ঘদিন পর নতুন করে নাশকতা মামলা হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিএনপি নেতারা। তারা একে ‘সরকারবিরোধী আন্দোলন রোখার অপচেষ্টা’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। বলেছেন ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ উপলক্ষে কালো পতাকা মিছিল করার কারণে নেতা-কর্মীদের হয়রানি করতে নতুন করে মামলা সাজানো হয়েছে।
গত বুধবার দিবাগত রাতে শহরের রেলগেট চোরমারা দিঘির পাড়ের নিজ বাড়ি থেকে আব্দুল কাদির আলী নামে এক ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশ। তিনি জামায়াত কর্মী বলে পুলিশের দাবি। তাকেও বৃহস্পতিবারের মামলায় আসামি করা হয়েছে। থানার এসআই অরুণ কুমার মামলাটির বাদী।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন, নগর ছাত্রদলের সভাপতি ফারুক হোসেন, শহরের বকচর এলাকার জামাল উদ্দিনের ছেলে ড্যানি, রেলগেটের খায়রুল বাশার শাহিনের ছেলে সোহান, খড়কীর মজু মিয়ার ছেলে শিমুল, একই এলাকার নাসির, বেজপাড়ার টিপু, চাঁচড়া রায়পাড়া মাদরাসা রোডের মৃত চান মিয়ার ছেলে আব্দুস সোবহান খান মিন্টু, মৃত মতিয়ার রহমানের ছেলে মশিয়ার রহমান খোকন, চাঁচড়া রায়পাড়ার মৃত নুর ইসলামের ছেলে মোস্তফা কামাল শিপা, রেলগেট চোরমারা দিঘির উত্তর পাড়ের মৃত আয়নুল হকের ছেলে রানা, খড়কীর আব্দুল হামিদের ছেলে আনোয়ার পারভেজ, ঘোপ নওয়াপাড়া রোডের আব্দুল আজিজের ছেলে প্লাবন, নওয়াব আলীর ছেলে সোহাগ, আব্দুল আজিজের ছেলে বাবু ও জব্বারের ছেলে মুন্না। এছাড়া মামলায় অজ্ঞাতনামা আরো ২০/২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে পুলিশ দাবি করেছে, ‘উল্লিখিতরা রেলগেটে আব্দুল কাদির আলীর বাড়িতে বুধবার দিবাগত রাতে নাশকতামূলক কর্মকা-ের জন্য বৈঠক করছিলেন। খবর পেয়ে রাত দেড়টার দিকে পুলিশ সেখানে অভিযান চালিয়ে আব্দুল কাদির আলীকে আটক করে। এ সময় অন্যরা পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ সেখান থেকে বিভিন্ন বই সাতটি, লিফলেট পাঁচ কপি, সিডি দুটি, ল্যাপটপ একটি, খালি জর্দার কৌটা পাঁচটি, জালের কাঠি আধা কেজি, লাল স্কচটেপ দুটি, গন্ধক ৫০ গ্রাম, বারুদ ৫০ গ্রাম এবং বিস্ফোরিত জর্দার কৌটার অংশবিশেষ উদ্ধার করা হয়।’
জানতে চাইলে মামলার অন্যতম আসামি সাবেক মেয়র মারুফুল ইসলাম সুবর্ণভূমিকে বলেন, ‘বোন অসুস্থ হয়ে পড়ায় আমি গত ১৮ তারিখ যশোর থেকে ঢাকা এসেছি। এখনো ঢাকায় বোনের হাসপাতালে অবস্থান করছি। যশোর থেকে টেলিফোন মারফত মামলার আসামি হওয়ার কথা শুনেছি।’
তিনি বলেন, ‘এ ধরনের মামলা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, বিস্ময়কর, ন্যাক্কারজনক ও আইনের পরিপন্থী। আমার ঘাড়ে তো জিন-পরী নেই যে ঢাকা থেকে যশোরে উড়ে গিয়ে বোমা তৈরি করব!’
মামলার আরেক আসামি নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মুনির আহমেদ সিদ্দিকী বাচ্চু বলেন, ‘পুলিশের বক্তব্য মিথ্যা, ষড়যন্ত্রমূলক। আন্দোলন ক্ষতিগ্রস্ত করার জন্য সরকারের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী এই ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটানো হয়েছে। এভাবে বিএনপি নেতা-কর্মীদের দমানো যাবে না।’
তবে কোতয়ালী থানার ওসি মো. ইলিয়াস হোসেন মামলার এজাহারে বর্ণিত তথ্য ঠিক বলে সুবর্ণভূমির প্রশ্নের জবাবে দাবি করেন।

আরও পড়ুন