যশোরে ১০৯ এইচআইভি পজিটিভ শনাক্ত

আপডেট: 01:39:44 01/12/2017



img

সরোয়ার হোসেন : ১ ডিসেম্বর বিশ্ব এইডস দিবস। এই মারণব্যাধি প্রতিরোধ এবং এর বিরুদ্ধে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে ১৯৮৮ সাল থেকে বিশ্বে দিবসটি উদযাপিত হয়ে আসছে। বাংলাদেশে এটি পালন শুরু ১৯৮৯ সালে। এইডস দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য ‘স্বাস্থ্য আমার অধিকার’।
ইউএন এইডসের তথ্যমতে বিশ্বে বর্তমানে ৩৬ দশমিক সাত মিলিয়ন মানুষ এইডসে আক্রান্ত। এইডস আক্রান্ত প্রায় ৩৫ মিলিয়ন মানুষ এ পর্যন্ত মৃত্যুবরণ করেছে।
যশোর জেলা এইডস কমিটির ফোকালপারসন মো. আবিদ হোসেন জানান, জেলায় ২০০৩ সাল থেকে সাতজন এইডস রোগীর সন্ধান পাওয়া গেছে; যারা সবাই মারা গেছেন। মারা যাওয়াদের মধ্যে ছিলেন চারজন পুরুষ এবং তিনজন নারী। এ পর্যন্ত দশ হাজার ৭৯৯ জনের এইচআইভি পরীক্ষা করানো হয়েছে, যাদের মধ্যে এইচআইভি পজিটিভ ১০৯। এদের মধ্যে ২৯ জন চিকিৎসাধীন আছেন।
আবিদ হোসেন আরো জানান, চলতি বছর যশোর জেলায় ২৫৩ জনের এইচআইভি পরীক্ষা করানো হয়েছে। এদের মধ্যে পজিটিভ সাতজন।
আবিদ হোসেনের মতে, এইডস প্রতিরোধের বড় প্রতিবন্ধকতা হলো সচেতনতার অভাব।
তিনি জানান, যশোরে ২০০৩ সাল থেকে কাজ শুরুর পর এইচআইভি পরীক্ষার জন্য যারা এসেছেন তাদের অধিকাংশই কোনো না কোনো সংস্থা থেকে রেফার করা। ব্যক্তিগত বা অন্য কোনো উৎস থেকে পরীক্ষার জন্য কাউকে পাওয়া যায় না। প্রচার-প্রচারণা না থাকা এর জন্য দায়ী বলে তিনি মনে করেন। আবার যারা আসছেন তাদের মধ্যেও অনেকে পজিটিভ অবস্থায় আত্মগোপনে চলে যান। এটি একটি ভয়াবহ প্রবণতা।
তিনি জানান, যশোরে এইডস আক্রান্ত বা এইচআইভি ভাইরাসে আক্রান্তদের অধিকাংশই ভারতফেরত অভিবাসী।
বাংলাদেশে প্রথম এইডস রোগী শনাক্ত হয় ১৯৮৯ সালে। বর্তমানে দেশের তিন হাজার ৬৭৪ জন এইচআইভি ভাইরাসে আক্রান্ত। ঝুঁকিতে আছে আরো ১৪ হাজার ৩০০ জন।
ইউএন এইডসের তথ্য মতে, বিশ্বের বয়স্ক মানুষের প্রায় ০ দশমিক ৮ শতাংশ এইচআইভির সঙ্গে বসবাস করে; যা বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ০ দশমিক ৬ শতাংশ। ২০১৬ সালে এইচআইভি সংক্রমিত অসুস্থতায় বিশ্বের এক মিলিয়ন মানুষ মৃত্যুবরণ করে। ২০১৫ সালে বিশ্বের প্রায় ৩০ লাখ মানুষ এইচআইভিতে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। এদের মধ্যে পাঁচ লাখ ৭০ হাজার ছিল শিশু।
২০১০ সাল পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, বাংলাদেশের প্রতিবেশী ভারতে প্রায় ২৫ লাখ এবং মিয়ানমারে দুই লাখ ৪০ হাজার মানুষ এইডসে আক্রান্ত। প্রতিবেশী চীনের তিন লাখ ৭০ হাজার মানুষ এইডস আক্রান্ত।
ইউএন এইডসের দেওয়া তথ্যের উপর ভিত্তি করে একুশে টেলিভিশন ২ নভেম্বর প্রচারিত এক প্রতিবেদনে জানায়, মিয়ানমারের রাখাইনে জাতিগত নিপীড়ন শুরুর পর সেখান থেকে বিতাড়িত বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের মধ্যে ৫৫ জন এইডস আক্রান্ত রোগীর সন্ধান পাওয়া গেছে। এর আগে আসা রোহিঙ্গাদের মধ্যে দশজন এইডস রোগী চিকিৎসাসেবা নিচ্ছেন। আর এইডস আক্রান্তদের প্রকৃত সংখ্যা প্রায় সাড়ে চার হাজার।
যশোর জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক আশিকুজ্জামান আশিক মনে করেন, যদি কোনো ব্যক্তি স্বাস্থ্য অধিকারের সঙ্গে আপস করেন তাহলে তার যে কোনো রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। কিন্তু, আমাদের সমাজের প্রতিটি মানুষের স্বাস্থ্যের অধিকার সুনিশ্চিত নয়। বিশেষ করে সমাজের প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, যৌনকর্মী, মাদকসেবী, সমকামী, কারাবাসী এবং অভিবাসীরা স্বাস্থ্য অধিকার লাভ করতে পারেন না। অথচ, এরাই এইচআইভি/এইডস-এ আক্রান্ত হওয়ার সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
ডা. আশিক বলেন, ‘এসডিজি অর্জনের সাথে মানুষের স্বাস্থ্যের অধিকার নিশ্চিত হওয়ার বিষয়টি জড়িত। সে হিসেবে ২০৩০ সালের মধ্যে জনস্বাস্থ্যের হুমকি হিসেবে এইডস মহামারীর সমাপ্তিসহ সবার স্বাস্থ্যের অধিকার নিশ্চিতকরণে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে। মনে রাখতে হবে, মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা ওষুধ গ্রহণের চেয়েও জরুরি।’
তিনি যশোরসহ সারাদেশে মানুষের মধ্যে এইচআইভি/এইডস প্রতিরোধে ব্যাপকভিত্তিক সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একইসঙ্গে যারা এই রোগে আক্রান্ত তাদের সঠিক চিকিৎসা, রক্ষণাবেক্ষণ, নিরাপত্তা সুনিশ্চিতকরণের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন ডা. আশিক।

আরও পড়ুন