যশোরে অপহৃত কিশোর খুন, অভিযুক্তের আত্মহত্যার চেষ্টা

আপডেট: 01:16:01 07/09/2017



img

স্টাফ রিপোর্টার : যশোরে মুক্তেশ্বরী নদীর কচুরিপানার নিচ থেকে আনার নামে এক কিশোরের লাশ উদ্ধার হয়েছে; যাকে দুইদিন আগে অপহরণ করা হয়েছিল।
এদিকে, অপহরণ ও হত্যায় মিজান নামে এক ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করছে পুলিশ। খুন করার পর মিজান অনুশোচনায় বিষপান করেছিল। তাকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আটক করে পুলিশ।
নিহত আনারুল ইসলাম আনার (১৫) কাঠমিস্ত্রির কাজ করতো। সে শহরতলির পুলেরহাটের কাছে তফসিডাঙ্গার জনৈক আলমগীর গাজির ছেলে। তার লাশটি পাওয়া যায় পুলেরহাটের মহসিন মাস্টারের মাছের খামারের উত্তর পাশে মুক্তেশ্বরী নদীতে।
বাবা আলমগীর গাজি সুবর্ণভূমিকে বলেন, ‘একই এলাকার মিজানদের সাথে জায়গা-জমি নিয়ে আমাদের বিরোধ রয়েছে। সে কারণে আমার ছেলেকে মিজানসহ ৫-৭ জন দুর্বৃত্ত অপহরণ করে নিয়ে যায় সোমবার রাত পৌনে ৮টার দিকে।’
‘বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করে ছেলের সন্ধান না পেয়ে আমি ঘটনাটি থানা পুলিশকে জানাই। কোতয়ালী থানার এসআই সুকুমার কুণ্ডু বিষয়টি দেখছিলেন। আজ দুপুরে মুক্তেশ্বরী নদী থেকে আনারের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ,’ বলছিলেন হতভাগ্য বাবা আলমগীর।
জানতে চাইলে কোতয়ালী থানার এসআই সুকুমার কুণ্ডু সুবর্ণভূমিকে বলেন, ‘সোমবার রাতে মিজান ও তার সহযোগীরা আনারকে অপহরণ করে। ওই রাতেই তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। পরে খুনিরা মরদেহটি মুক্তেশ্বরী নদীর কচুরিপানার নিচে রেখে আসে।’
পুলিশ কর্মকর্তা কুণ্ডু আরো বলেন, ‘ওই রাতেই মিজান দুটি মোবাইল ফোন তার স্ত্রীর কাছে দেয়। ফোন দুটি সচল করতেও সে নিষেধ করে। এর কিছু সময় পর মিজান নিজে কীটনাশক পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। রাতেই তাকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে মিজানের স্ত্রী মোবাইল ফোন চালু করলে নিহত আনারের বোন তানিয়া একটিতে রিং করেন। মিজানের স্ত্রী ফোন ধরে জানতে পারেন এটা আনারের মোবাইল। এই ফোন কলের সূত্র ধরে পুলিশ স্থানীয়দের সহযোগিতায় বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করে আজ নদী থেকে আনারের লাশ উদ্ধার করে।’
এদিকে, লাশ উদ্ধারের আগেই পুলিশ মিজানকে হাসপাতাল থেকে আটক করে। পুলিশের সন্দেহ সত্যি হতে চলেছে বলে মনে করেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।

আরও পড়ুন