যশোর এনটিসিতে উত্তেজনা বাড়ছে, পুষ্পর বিরুদ্ধে জিডি

আপডেট: 02:17:19 06/02/2018



img

স্টাফ রিপোর্টার : যশোর নার্সিং ইনস্টিটিউটের (এনটিসি) প্রধান ইনসট্রাকটর সেলিনা ইয়াসমিনের বিরুদ্ধে ‘ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ’ এবং ‘ষড়যন্ত্রের’ অভিযোগ এনেছেন তারই চার সহকর্মী। তারা ‘নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন’ জানিয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরিও জমা দিয়েছেন।
ওই চার ইনসট্রাক্টর হলেন খ্রিস্টানা সুমিত্রা বিশ্বাস, রোকেয়া খানম, আফরোজা খাতুন এবং শারমিন সুলতানা পারভীন। সোমবার তারা এই বিষয়ে কোতয়ালী থানায় একটি জিডি এনট্রির জন্য লিখিত আবেদন করেছেন।
কয়েকদিন ধরে যশোর এনটিসিতে উত্তেজনা চলছে। সোমবার সকালে সেখানে ঘটা ঘটনা ও তার প্রেক্ষিতে পুলিশের সহায়তা চাওয়ায় পরিস্থিতি আরো ঘোলাটে হলো বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অভিযোগে বলা হয়েছে, সেলিনা ইয়াসমিন ২০১১ সালে যশোর নার্সিং ইনসটিটিউটের ইনচার্জের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই প্রতিষ্ঠানের পাঠদানসহ অন্যান্য কার্যক্রম চরমভাবে বিঘিœত করে আসছেন। তিনি ছাত্রী ভর্তিতে জালজালিয়াতি, ঘুষ-দুর্নীতি, রেজাল্ট ও মার্কশিট তৈরিতে অনিয়ম, আবাসিক ছাত্রীদের মেসের টাকা আত্মসাৎ, প্রকাশ্যে মাদক সেবন, ছাত্রী ও ইনসট্রাক্টরদের নির্যাতন করেন। তার অন্যায় কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ২০১৭ সালের ১৭ ডিসেম্বর ছাত্রীরা জেনারেল হাসপাতাল তত্ত্বাবধায়ক বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন। ওই অভিযোগ আমলে নিয়ে তত্ত্বাবধায়ক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর পাঠান। এছাড়া ২০১৭ সালের ২৩ ডিসেম্বর নার্সিং ইনসটিটিউটের ইনসট্রাক্টর ইনচার্জের নির্দেশে ছাত্রী ইনসট্রাক্টর আফরোজা খাতুনের ওপর হামলা হয়।
এ বিষয়ে ইনসট্রাক্টর আফরোজা খাতুন গত ২ জানুয়ারি নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর অভিযোগ করেন। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে মহাপরিচালকের দপ্তর থেকে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত টিম গঠন করা হয়। এই কমিটির সদস্যরা ৪ জানুয়ারি সরেজমিনে এসে তদন্ত করে গেছেন। আর এতে চরম ক্ষিপ্ত হয়ে সেলিনা ইয়াসমিন পুষ্প তার পক্ষীয় কতিপয় ছাত্রীকে উস্কানি দিয়ে নার্সিং ইন্সটিটিউটে পরিবেশ উত্তপ্ত করছেন। তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরো দুই ইনসট্রাক্টর। এরা হলেন- খুকু বিশ্বাস ও বিভুরানি রায়।
বলা হয়, সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নার্সিং ইনসটাক্টর ইনচার্জ সেলিনা ইয়াসমিন এবং তার দুই সহযোগী খুকু বিশ্বাস ও বিভুরানি রায়ের উস্কানিতে তাদের পক্ষীয় কতিপয় ছাত্রী ইনসট্রাক্টর খ্রিস্টানা সুমিত্রা বিশ্বাস, রোকেয়া খানম, আফরোজা খাতুন ও শাররমিন সুলতানা পারভীনের কক্ষ ঘেরাও করে এবং মারধরের চেষ্টা চালায়। ফলে প্রাণের ভয়ে কক্ষ আটকিয়ে ওই চার ইনসট্রাক্টর নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক তন্দ্রা শিকদারকে পুরো ঘটনাটি মোবাইল ফোনে অবহিত করেন।
সোমবার সকালের ওই ঘটনার পর এবং ইনসট্রাক্টর ইনচার্জ সেলিনা ইয়াসমিন পুষ্প এবং তার সহযোগী খুকু বিশ্বাস ও বিভুরানি রায়ের হুমকির কারণে চার ইনসট্রাক্টর চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে অভিযোগ করেন। এজন্য তারা জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে সাধারণ ডায়েরির জন্য আবেদন করেছেন।

আরও পড়ুন