যশোর ছাত্রলীগের মূল নেতৃত্বের লড়াইয়ে চারজন

আপডেট: 02:09:40 11/07/2017



img

স্টাফ রিপোর্টার : উদ্বোধনী অধিবেশনের পর গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কাউন্সিল হওয়ার কথা। সেখানে নির্বাচিত হবে নেতৃত্ব। কিন্তু যশোর জেলা ছাত্রলীগের নেতৃত্ব কোন প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হচ্ছে?
কেন্দ্রীয় ঈদগাহে আজ সোমবার পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী যশোর জেলা ছাত্রলীগের সম্মেলনের উদ্বোধন অনুষ্ঠান হয়। এতে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, ছাত্রলীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ অতিথিরা বক্তৃতা করেন। পরের অধিবেশন হওয়ার কথা ছিল মধ্যাহ্নভোজের পর ঈদগাহ-সংলগ্ন বাদশাহ ফয়সাল ইসলামী ইনসটিটিউটের হলরুমে।
কিন্তু তা হয়নি। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কাউন্সিলররা প্রস্তুত থাকলেও কাউন্সিল অধিবেশন শুরুই হয়নি। তার বদলে কেন্দ্রীয় নেতারা জেলা ছাত্রলীগের প্রধান পদ পেতে ইচ্ছুকদের সার্কিট হাউজে ডাকেন। সেখানে প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব সাইফুজ্জামান শিখরসহ আওয়ামী লীগের কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা, যশোরের সংসদ সদস্যরা, জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদারসহ গুরুত্বপূর্ণ নেতা এবং ছাত্রলীগের বর্তমান ও সাবেক শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
ওই সভায় উপস্থিত ছাত্রলীগের একাধিক নেতা সুবর্ণভূমিকে জানান, প্রধান পদে আসতে ইচ্ছুকদের বিষয়ে যাচাই-বাছাই হয় সেখানে। এতে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে মাত্র দুইজন করে মোট চারজনের মনোনয়নপত্র চূড়ান্ত করা হয়। যদিও এই দুই পদে প্রার্থীর সংখ্যা ছিল ৪০। অন্যরা বিবাহিত, ছাত্রত্ব না থাকা, বয়স বেশি হয়ে যাওয়া প্রভৃতি কারণে বাদ পড়েন। তবে টিকে যাওয়া সভাপতি পদপ্রার্থী রওশন ইকবাল শাহী যে বিবাহিত, সভার শেষ সময়ে সে ডকুমেন্ট হাজির করেন সংগঠনের সাবেক সভাপতি সুখেন মজুমদার।
এই অবস্থায় কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি সার্কিট হাউজের সভায়। বিকেল চারটার পর নেতারা সদলবলে চলে যান পৌর কমিউনিটি সেন্টারে। সেখানে সাবজেক্ট কমিটি বসে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করতে চলেছেন।
সংগঠনের কয়েক নেতা অবশ্য বলছেন, যা হচ্ছে তা সবই লোকদেখানো। সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক পদে কোন দুইজনকে আনা হবে, তা পূর্বনির্ধারিত। এক্ষেত্রে দলীয় প্রভাব, কেন্দ্রীয় নেতাদের আশীর্বাদ ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ তুলছেন তারা। যদিও এই তথ্যের সপক্ষে কোনো প্রমাণ হাজির করতে পারেননি অভিযোগকারীরা।
ছাত্রলীগের সূত্রগুলো জানায়, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের যশোর ছাড়ার আগে সাইফুজ্জামান শিখরকে দায়িত্ব দিয়ে গেছেন নেতৃত্ব বাছাইয়ের। শিখর সেই দায়িত্ব পালন করছেন।
এক্ষেত্রে জেলা আওয়ামী লীগের প্রধান দুই পক্ষ ভিন্ন ভিন্ন অবস্থান নিয়েছে। সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদার অনুসারীদের অভিমত, কাউন্সিলের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচন করা হোক। এটিই গঠনতন্ত্রসম্মত।
কিন্তু এমপি কাজী নাবিল আহমেদের অনুসারীরা এই মতের বিরুদ্ধে। তাদের বক্তব্য, জেলা ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটি শাহীন চাকলাদারের অনুগত হওয়ায় অধস্তন কমিটিগুলো এবং সেই সূত্রে কাউন্সিলরও নির্বাচিত হয়েছেন এক পক্ষের নেতারা। ফলে কাউন্সিল হলে নেতৃত্বও একপাক্ষিক হবে।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত যশোর পৌর কমিউনিটি সেন্টারে ভোট গ্রহণ করা হচ্ছে নেতৃত্ব নির্বাচনের জন্য। প্রধান দুই পদে দুইজন করে চারজন প্রতিদ্বন্দ্বী রয়েছেন। এই চারজনের মধ্যে থেকে দুইজন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হতে চলেছেন।

আরও পড়ুন