যশোর জেনারেল হাসপাতালে গাড়ির জট নেই, স্বস্তি

আপডেট: 03:50:17 12/05/2018



img
img

শহিদুল ইসলাম দইচ : যশোর জেনারেল হাসপাতাল কম্পাউন্ড জটমুক্ত হয়েছে। যত্রতত্র রাখা হচ্ছে না অ্যাম্বুলেন্সসহ ভাড়ার ও ব্যক্তিগত গাড়ি। চারিদিক বেশ ফাঁকা ফাঁকা। স্বস্তিতে আছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা।
কিন্তু হঠাৎ কীভাবে এই পরিবর্তন?
পাঠকপ্রিয় নিউজপোর্টাল সুবর্ণভূমিতে গত ৮ মে যশোর জেনারেল হাসপাতাল গেটে জট, নিত্য দুর্ভোগ শিরোনামে একটি রিপোর্ট প্রকাশিত হয়। এই রিপোর্ট আমলে নেয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তারা অ্যাম্বুলেন্সসহ অন্যান্য যানবাহনগুলোকে হাসপাতালছাড়া করেন। ফলে ফিরে আসে পরিবেশ।
এর আগে বিভিন্ন সময় উদ্যোগ নেওয়া হয় হাসপাতালকে যানবাহনমুক্ত করার। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে কয়েক দফা ভ্রাম্যমাণ আদালতও পরিচালিত হয়। ট্রাফিক পুলিশের পক্ষ থেকে মামলা করা হয় গাড়ি মালিকদের বিরুদ্ধে। কিন্তু তেমন কোনো কাজ হয়নি। এক-দুইদিন হাসপাতাল জটমুক্ত থাকলেও ফের পুরনো অবস্থা ফিরে আসে। কিন্তু এবার চার দিন অতিক্রান্ত হলেও এখনো নতুন করে জট দেখা যায়নি।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ডাক্তার আব্দুল্লাহ আল মামুন সুবর্ণভূমিকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, বহু দিন পরে হাসপাতালে মনোরম পরিবেশ ফিরে এসেছে। জরুরি বিভাগের সামনে যত্রতত্র অ্যাম্বুলেন্স রেখে দেওয়ায় সব সময় জট লেগেই থাকতো। এখন চারদিক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন। দূরদুরান্ত থেকে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে না। জরুরি বিভাগে সব সময় বিনা কারণে লোক সমাগম থাকতো। এখন বেশ ফাঁকা ফাঁকা লাগছে। কাজ করতেও সুবিধা হচ্ছে।
যশোরের ট্রাফিক ইনসপেক্টর শুভেন্দুকুমার সুবর্ণভূমিকে বলেন, হাসপাতাল গেটে সব সময়ের জন্য দুইজন ট্রাফিক পুলিশ দায়িত্ব পালন করেন এলাকা যানজটমুক্ত রাখতে। কয়েকদিন হলো তাদের সঙ্গে আরো দুইজন ট্রাফিক পুলিশ সদস্য নিযুক্ত করা হয়েছে। ফলে পরিস্থিতির অনেক উন্নতি হয়েছে।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক (চলতি দায়িত্ব) ডা. আবুল কালাম আজাদ লিটু বলেন, ‘হাসপাতালে সব সময় ভিড় করে থাকা গাড়িগুলো সরাতে পারছিলাম না। সুবর্ণভূমিতে রিপোর্ট হওয়ায় সুবিধা হয়েছে। ওই রিপোর্টের রেফারেন্সে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের বিষয়টি জানিয়েছি। পুলিশ উদ্যোগী হয়ে অ্যাম্বুলেন্সগুলো সরিয়ে দিয়েছে।’
‘হাসপাতালে কিন্তু অ্যাম্বুলেন্সসহ নানা ধরনের যানবাহন আসবেই। সেগুলো রোগী বা যাত্রী নামিয়ে চলে যাবে, বা নির্দিষ্ট স্থানে শৃঙ্খলার সাথে পার্ক করে রাখবে। কিন্তু এতোদিন কেউ শৃঙ্খলা মানতো না। এখন চ্যালেঞ্জ হলো, সৃষ্ট পরিবেশ ধরে রাখা,’ বলছিলেন ডা. লিটু।

আরও পড়ুন