যশোর জেনারেল হাসপাতাল গেটে জট, নিত্য দুর্ভোগ

আপডেট: 02:40:34 08/05/2018



img

শহিদুল ইসলাম দইচ : যত্রতত্র অ্যাম্বুলেন্স রাখার কারণে যশোর জেনারেল হাসপাতালের ফটকে যানজট লেগেই আছে। দ্রæত হাসপাতালে ঢুকতে না পারায় গুরুতর রোগী বা আহত ব্যক্তির জীবন হয়ে ওঠে আরো সংকটময়।
যানজটের এই দৃশ্য নৈমিত্তিক হলেও আজ মঙ্গলবার বেলা ১২টার দিকে তা ভয়াবহ আকার ধারন করে। ঘণ্টাখানেক ছিল এই যানজট। কোনো কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ ছাড়াই পরে  আস্তে আস্তে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে।
শহরের শঙ্করপুর এলাকার জনৈক জাফর হোসেনকে আজ দুপুরে গলায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে তার পার্টনার। গুরুতর অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু যানজটের কারণে হাসপাতালে গাড়ি ঢোকাতে পারছিলেন না তার স্বজনরা।
স্ত্রী সোনিয়া বেগম সুবর্ণভূমিকে বলছিলেন, ‘আমার স্বামীর অবস্থা খুব গুরুতর । তাকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়েছে। এই মুহূর্তে রক্ত, ওষুধ দরকার। কিন্তু জটের কারণে হাসপাতালের হাসপাতালের মূলগেটের বাইরে বের হতে আমার দশ মিনিটের মতো সময় লেগেছে। জানি না ভাগ্যে কী আছে।’
শহরের চাঁচড়ার বাসিন্দা মামুন হোসেন সুবর্ণভূমিকে বলেন, ‘আমার ভায়রা হাসপাতালে ভর্তি। তার জন্য ওষুধ আনতে যাচ্ছি। কিন্তু হাসপাতালের বাইরেই তো বেরুতে পারছি না!’
জানতে চাইলে যশোরের ট্রাফিক ইনসপেক্টর শুভেন্দুকুমার সুবর্ণভূমিকে বলেন, ‘যশোর জেনারেল হাসপাতালের সামনের এলাকা যানজটমুক্ত রাখতে সর্বক্ষণি দুইজন ট্রাফিক পুলিশ দায়িত্ব পালন করে। কিন্তু অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে খুবই সমস্যায় আছি। একাধিকবার লিখিতভাবে জানানো হয়েছে যত্রতত্র অ্যাম্বুলেন্স না রাখতে। দুইটি অ্যাম্বুলেন্সের বিরুদ্ধে মামলাও দেওয়া হয়েছে। কিন্তু পরিস্থিতির তেমন উন্নতি হচ্ছে না।’
এর আগে ভ্রাম্যমাণ আদালত বেশ কয়েক দফা অভিযান চালিয়েছেন যশোর জেনারেল হাসপাতাল চত্বরে। সেখানে বিক্ষিপ্তভাবে রাখা বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সগুলোর চালকদের বিরুদ্ধে আদালত শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নিয়েছেন। কিন্তু অ্যাম্বুলেন্সগুলোকে স্থানচ্যুত করা যায়নি।
অ্যাম্বুলেন্সচালকদের ভাষ্য, তারা হাসপাতালের রোগীদের নিয়ে যান দূরদুরান্তে। রোগীর স্বজনরা হাসপাতাল চত্বরেই অ্যাম্বুলেন্স খোঁজেন। দূরবর্তী স্থানে অ্যাম্বুলেন্স থাকলে দরকারের সময় লোকেরা তা পাবেন কীভাবে?
জানতে চাইলে জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক (চলতি দায়িত্ব) ডা. আবুল কালাম আজাদ সুবর্ণভূমিকে বলেন, ‘হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স চালকদের নিয়ে খুবই বিপদে আছি। তাদের হাসপাতালের ভেতর যত্রতত্র গাড়ি না রাখার জন্য আমি নিজে গিয়ে বলে এসেছি। কিন্তু তারা কথা শোনে না। এর ফলে দুর্ভোগে পড়তে হয় রোগী আর তার স্বজনদের।’

ছবি : তারিক হাসান বিপুল

আরও পড়ুন