যশোর-২ আসনে বিএনপির ৫, জামায়াতের একক প্রার্থী

আপডেট: 07:52:54 23/08/2017



img

রহিদুল ইসলাম খান, চৌগাছা (যশোর) : নির্বাচনের ঢের বাকি। গত নির্বাচন বর্জনকারী প্রধান রাজনৈতিক জোট আসছে নির্বাচনে যাবে কি না তাও এখনো নিশ্চিত না। তা সত্ত্বেও যশোর-২ (ঝিকরগাছা-চৌগাছা) আসনে বিরোধী জোটের সম্ভাব্য প্রার্থীরা বসে নেই। জোরেসোরে তারা ভোটের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। কেউ কেউ ছুটছেন গ্রামাঞ্চলে মানুষের বাড়িতে-উঠোনে।
২০ দলীয় জোটের প্রধান দল বিএনপি। এই দলের অবস্থান আসনটিতে মোটামুটি ভালো। এই দলের অন্তত পাঁচ নেতা আসছে নির্বাচনে দলীয় টিকিট পেতে তৎপর।
বিরোধী জোটের অন্যতম শরিক জামায়াতে ইসলামীও আসনটিতে বেশ শক্তিশালী। গত কয়েকটি নির্বাচনে এই আসন থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন জামায়াতের নেতা। তবে আসছে নির্বাচনে জামায়াত কীভাবে নির্বাচন করবে, তার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করছে। প্রতীক না থাকায় জোটের প্রধান দল বিএনপি এই আসনটি এবার জামায়াতকে দেবে কি না তা নিয়েও রয়েছে সন্দেহ। তবে জামায়াত মনে করে, দেশের যে কয়টি সংসদীয় এলাকায় জামায়াতের প্রভাব রয়েছে, সেখানে এই দলের নেতারাই জোটের মনোনয়ন পাবেন; তা সে যে প্রতীকেই হোক না কেন।
বিএনপি জোট থেকে যশোর-২ আসনে মনোনয়ন পাওয়ার চেষ্টা করছেন চৌগাছা উপজেলা বিএনপির সভাপতি জহুরুল ইসলাম। যিনি চৌগাছা উপজেলা বিএনপির একচ্ছত্র নৃপতি। তার সিদ্ধান্তের বাইরে এখন পর্যন্ত উপজেলা বিএনপিতে কিছুই হয় না বলে কথিত; যদিও সম্প্রতি দলীয় সদস্য সংগ্রহ অভিযান উদ্বোধনের দিন কেন্দ্রীয় ও জেলার গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের সামনে তিনি নাজেহাল হন। প্রভাবশালী হলেও জহুরুল এখনো কোনো নির্বাচনে দলীয় টিকিট পাননি। গতবারও মনোনয়ন পাওয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন তিনি। এবার তিনি ও তার সমর্থকরা আশা করছেন দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার। তবে অর্থনৈতিকভাবে দায়দেনাগ্রস্ত ও চেক ডিজঅনারের একাধিক মামলার কারণে তিনি বেশ খানিকটা বিপর্যস্ত অবস্থায় আছেন বলে দলীয় নেতাকর্মীরা সুবর্ণভূমিকে জানিয়েছেন।
এদিকে, এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন নেওয়ার অন্যতম দাবিদার হয়ে উঠেছেন জেলা বিএনপির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান খান। তিনি জেলা বিএনপিতে চৌগাছা এলাকার রাজনীতি দেখাশুনার দায়িত্বপ্রাপ্ত বলে দলীয় নেতারা জানান। আগ্রহ প্রকাশ করায় অনেক নেতাকর্মী ইতিমধ্যে মিজানুর রহমান খানের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। তবে আসনটির তৃণমূলের কর্মী এবং আমজনতার কাছে মিজান প্রায় অপরিচিত মুখ। কিন্তু এই নেতা মনে করেন, নির্বাচন নিরপেক্ষ হলে প্রার্থী কে, তা বিবেচ্য হবে না। অপশাসন, জুলুম-নির্যাতন, লুটপাটের কারণে নৌকার প্রার্থী যিনিই হন না কেন, হালে পানি পাবেন না।
বিএনপি থেকে এই আসনে মনোনয়ন পাওয়ার চেষ্টায় আছেন ঝিকরগাছা উপজেলার চেয়ারম্যান সাবিরা নাজমুল মুন্নি। তিনি এলাকার বেশকিছু নেতাকর্মীকে তার অনুসারী করতে সক্ষম হয়েছেন। স্বামী নাজমুল ইসলাম অপহরণের পর খুন হওয়ায় ঝিকরগাছায় দলীয় নেতাকর্মীদের অনেকেই তার প্রতি সহানুভূতিশীল। তবে চৌগাছা এলাকায় তার গণযোগাযোগ কম।
আসনটি থেকে মনোনয়নের আশায় রয়েছেন বিএনপির আরো দুই প্রবীণ নেতা। এরা হলেন, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট কাজী মুনিরুল হুদা ও জেলা কমিটির সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট মুহম্মদ ইসহক। এই দুইজনই ওই আসনে এর আগে দলীয় প্রতীকে ভোট করেছেন।
এদিকে, ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক দল জামায়াতে ইসলামীও এ আসনে মনোনয়ন পেতে কেন্দ্রীয়ভাবে দেনদরবার চালিয়ে যাচ্ছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এক্ষেত্রে তাদের প্রার্থী চূড়ান্ত। আর তিনি হলেন সাবেক সংসদ সদস্য মুহাদ্দিস আবু সাঈদ মুহাম্মদ শাহাদৎ হুসাইন। জামায়াত নেতাদের দাবি, যেহেতু কেন্দ্রীয়ভাবে আসন ভাগাভাগি হবে, তাই এ আসন জামায়াতই পাবে বলে তারা ধরে নিচ্ছেন। যদিও সরকারি তোপের মুখে থাকা জামায়াতের অন্য নেতাদের মতো মুহাদ্দিস আবু সাঈদও প্রকাশ্যে তৎপরতা চালাতে পারেন না দীর্ঘদিন।

আরও পড়ুন