যুথির দৃষ্টিনন্দন ছাদকৃষি

আপডেট: 03:03:13 11/09/2017



img

তারেক মাহমুদ, কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) : ঝিনাইদহ শহরের ব্যাপারীপাড়ার দ্বিতীয় তলা ভবনের উপর মনোরম ছাদকৃষি গড়ে তুলেছেন তহমিনা ইসলাম যুথি নামে এক গৃহিণী। দৃষ্টিনন্দন ফুল আর নানারকমের ফলের সম্ভারে দারুণ প্রশান্তির সবুজের সমারোহ তার ছাদে। গত পাঁচ বছর নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে এই সাফল্য পেয়েছেন তিনি।
কুয়েত প্রবাসী সাহাজুল ইসলামের স্ত্রী যুথি। দ্বিতল ভবনের ছাদে তিনি গড়ে তুলেছেন দুই স্তরবিশিষ্ট ছাদকৃষি। পরিষ্কার ঝকঝকে। গাছপালার প্রাচুর্য যেমন হুদয় স্পর্শ করে তার চেয়েও অনেক বেশি আকৃষ্ট হতে হয় পরিপাটি পরিবেশে।
বাসভবন তৈরির গোড়াতেই ছিল তার ছাদকৃষির স্বপ্ন। বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া এক ছেলে সাজ্জাদুল ইসলাম ও মেয়ে রুকাইয়া ইসলামের সহযোগিতায় ধীরে ধীরে তিনি তৈরি করেছেন স্বপ্নের এই বাগান। ছাদে তার সংগ্রহে একন রয়েছে কামরাঙা, সরিফা, করমচা, আপেলকুল, বাউকুল, কাজুবাদামসহ প্রায় ৫০ প্রজাতির ফলদ ও বনজ গাছ।
সম্প্রতি ঝিনাইদহের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আছাদুজ্জামান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক ড. খান মুহাম্মদ মনিরুজ্জামান, অতিরিক্ত উপ-পরিচালক শংকরকুমার মজুমদারসহ কৃষি কর্মকতারা তার ছাদকৃষি পরিদর্শন করেন।
ড. খান মুহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, ‘কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রযুক্তিগত সকল প্রকার সহযোগিতা তাকে দেওয়া হচ্ছে। ছাদ কৃষি করলে পোকামাকড়ের আক্রমণ ও রোগবালাই কম হয়। ছাদে মাত্র একবার মাচা তৈরি করে কয়েক বছর পর্যন্ত সবজি চাষ করা সম্ভব। এতে তেমন কোনো সময় ও বাড়তি অর্থ খরচ করতে হয় না। এক মৌসুমে বিভিন্ন ধরনের সবজির চাষ করা যায় এবং ফলনও ভালো হয়।’
তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন ধরনের সবুজ সবজি পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে বাড়তি আয়ও এনে দেয়। সবচেয়ে বড় কথা, পরিবারের জন্য বিষমুক্ত সবজির জোগান দেওয়া সম্ভব হয়।’
তাহমিনা ইসলাম যুথির এমন উদ্যোগকে অভিনন্দনও জানান এই কৃষি কর্মকর্তা।
এ ব্যাপারে তাহমিনা ইসলাম যুথি বলেন, ‘শহুরে জীবনে সুস্থ, সুন্দর থাকতে হলে ভাবতে হবে পরিবেশের কথাও। ছাদকৃষি করলে পরিবেশ ভালো থাকবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘নিজের লাগানো শতাধিক গাছের কাছে যখন আসি, মন প্রশান্তিতে ভরে যায়। এই গাছ, গাছের ফল আমার পরম যত্নে বেড়ে ওঠা সন্তানের মতো। আমি আর আমার পরিবার এই বিষমুক্ত খাবার খেয়ে স্বস্তি পাই। এখন আমার পরিবারের জন্য অনেক ফল বাজার থেকে কিনতে হয় না।’

আরও পড়ুন