যৌন ভাইরাস এইচপিভি নিয়ে যত লজ্জা অজ্ঞতা

আপডেট: 02:34:22 16/09/2018



img

সুবর্ণভূমি ডেস্ক : যৌন ভাইরাস এইচপিভিতে আক্রান্ত হওয়ার সঙ্গে লজ্জা ও অজ্ঞতার গভীর সম্পর্ক রয়েছে বলে সম্প্রতি উঠে এসেছে এক গবেষণায়।
যুক্তরাজ্যে এইচপিভি বা 'হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাসের' প্রকোপ এতটাই ছিল যে, এটিকে ঠেকাতে ২০০৮ সালে টিকা বা ভ্যাকসিন চালু করেছিল দেশটির সরকার।
এইচপিভি'র প্রধান লক্ষণ হলো দেহে একরকম আঁচিল, গুটি বা ফুসকুড়ি দেখা দেওয়া- যা যৌনাঙ্গ থেকে শুরু করে মুখে, হাতে-পায়ে এমনকি মুখের ভেতরেও হতে পারে। তবে এরকম গুটি থাকলেই যে কারো এইচপিভি হয়েছে বলে মনে করতে হবে তা-ও নয়।
এ ভাইরাস খুবই ছোঁয়াচে। সাধারণত নারী পুরুষ যখন প্রথম যৌন-সক্রিয় হয়ে ওঠে তখনই এ সংক্রমণের শিকার হয়।
এখনো এই রোগ নিয়ে বিশেষ করে নারীদের মধ্যে প্রচুর ভুল ধারণা রয়েছে। গবেষণার জন্য জরিপে অংশ নেওয়া এইচপিভি ভাইরাসে আক্রান্ত নারীদের অর্ধেকেই মনে করেন যে, স্বামী বা প্রেমিক তাদের সঙ্গে প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছে।

বহু ভুল ধারণা চালু আছে এইচপিভি নিয়ে
এইচপিভি ভাইরাস নিয়ে আরো যেসব ভুল ধারণা প্রচলিত আছে, তার একটি হলো - অনেকেই মনে করেন একমাত্র সেক্স বা যৌনতার মাধ্যমেই এই ভাইরাস ছড়ায়।
বাস্তবে এইচপিভি সাধারণত যৌনতা-বাহিত, কিন্তু প্রকৃত অর্থে যৌন-সঙ্গম না ঘটলেও- শুধু 'জেনিটাল' বা যৌনাঙ্গ ও 'ওরাল' বা মৌখিক যে কোনো সংস্পর্শের মাধ্যমেই এই ভাইরাস ছড়াতে পারে।
দ্বিতীয় ভুল ধারণাটি হলো, কারো এইচপিভি হলে ধরে নিতে হবে যে সে বহু নারী বা পুরুষের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক করেছে।
কিন্তু আসলে তা নয়। ব্রিটেনের লোকদের ৮০ শতাংশের জীবনের কোনো না কোনো পর্বে এইচপিভি ভাইরাসের সংস্পর্শে আসার আশঙ্কা আছে। এমনকি জীবনের প্রথম যৌন সংসর্গেও এ সংক্রমণ হয়ে যেতে পারে।
তৃতীয় ভুল ধারণা হলো, কারো এইচপিভি হওয়ার মানেই হলো তার ক্যানসার হয়েছে। আসল ব্যাপার হলো, এইচপিভি আছে প্রায় ২০০ রকমের। এর মধ্যে ৪০ রকম এইচপিভি আপনার যৌনাঙ্গ বা তার আশপাশে হবে এবং সেখানেই এ ভাইরাস বাসা গাড়বে। তবে ১৩ শতাংশ এইচপিভি ভাইরাস এমন ধরনের যা জরায়ু, গলা বা মুখের ক্যানসার তৈরি করতে পারে। তবে তা খুবই বিরল।
চতুর্থ ভুল ধারণা হলো, এইচপিভি হলে আপনি টের পাবেন। কিন্তু বাস্তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এইচপিভির কোনো লক্ষণ দেখা যায় না। অনেক সময় শরীরের নিজস্ব রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাই এ ভাইরাসকে ধ্বংস করে দেয়। তবে জরায়ুমুখের স্ক্রিনিং থেকে এটা ধরা যেতে পারে।
জো'স সার্ভিকেল ক্যানসার ট্রাস্টের উদ্যোগে গত মাসে চালানো এক জরিপে দুই হাজার নারী অংশ নিয়েছিলেন।
যুক্তরাজ্য সরকার সম্প্রতি নিয়ম করেছে, সার্ভিক্যাল ক্যানসারের রুটিন পরীক্ষা-নিরীক্ষার অংশ হিসেবে এখন থেকে সবাইকেই এইচপিভি পরীক্ষাও করতে হবে।
কিন্তু এইচপিভি নিয়ে যারা প্রচার কার্যক্রম চালায় তারা নিজেরাই আশঙ্কা করছে যে, লোকলজ্জার ভয়ে হয়তো অনেক নারী এই পরীক্ষাটাই করাতে চাইবে না।
গবেষণায় অংশ নেওয়া নারীদের মধ্যে ৩৫ শতাংশ নারীর এইচপিভি সম্পর্কে কোনো ধারণাই ছিল না।
আর বাকি প্রায় ৬০ ভাগ নারী জানিয়েছেন, এইচপিভি ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার খবর পেয়ে তারা ভেবেছিলেন যে, তাদের বুঝি ক্যানসার হয়েছে।
লরা ফ্লাহার্টিও জরিপে অংশ নেওয়া একজন নারী, ২০১৬ সালে যার ক্যানসার ধরা পড়েছিল, বলছিলেন যে, এই ভাইরাস সম্পর্কে তার কোনো ধারণাই ছিল না।
এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে মর্মে ডাক্তারি রিপোর্ট পাওয়ার পর গুগল সার্চ করে পরে এই রোগ নিয়ে তিনি বিস্তারিত জেনেছেন।
সার্ভিক্যাল ক্যানসারের রুটিন পরীক্ষা-নিরীক্ষার অংশ হিসেবে এইচপিভি পরীক্ষা করার যে নিয়ম চালু করেছে যুক্তরাজ্য সরকার, আগামী সপ্তাহ থেকেই তা ওয়েলসে কার্যকর হবে।
স্কটল্যান্ডে এই নিয়ম চালু হবে ২০২০ সালের মধ্যে । এইচপিভি সংক্রমণ ঠেকাতে যুক্তরাজ্য সরকার ২০০৮ সালে চালু করেছিল এইচপিভি ভ্যাকসিন।
এই টিকা চালু করার পর এখন দেখা যাচ্ছে যে, ১২ থেকে ১৮ বছর বয়সী মেয়েদের মধ্যে এই রোগের প্রকোপ অনেকটাই কমে এসেছে।
গত বছর থেকে সমকামী পুরুষ যাদের বয়স ১২ থেকে ১৮, তাদেরকেও এইচপিভি টিকার আওতায় আনা হয়েছে।
সূত্র : বিবিসি