রবীন্দ্রচিন্তায় শিলাইদহ দারুণ প্রভাব ফেলে : মুহিত

আপডেট: 02:14:27 09/05/2018



img
img

শ্যামলী খন্দকার, কুষ্টিয়া : বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৫৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে কবির স্মৃতিবিজড়িত শিলাইদহ কুঠিবাড়ীতে জাতীয় পর্যায়ে শুরু হয়েছে অনুষ্ঠানমালা। চলবে তিনদিন ধরে।
সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আজ মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে তিনটায় কুঠিবাড়ীর মূল মঞ্চে এ অনুষ্ঠানমালা উদ্বোধন করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।
এসময় তিনি বলেন, ‘শিলাইদহ কুঠিবাড়ী একটি পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত হয়। রবীন্দ্রনাথ কুঠিবাড়ীতে দশ বছর ছিলেন। রবীন্দ্রনাথের চিন্তা চেতনার ওপর শিলাইদহ দারুণভাবে প্রভাব বিস্তার করেছে। কবির জীবনে পতিসর ততোটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল না। আমরাও শিলাইদহের গুরুত্ব অনুধাবন করি। শিলাইদহ সব সময় গুরুত্ব পাবেই।’
এই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি তথ্যমন্ত্রী ও জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু বলেন, ‘রবীন্দ্রনাথ, লালনের জন্য বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক রাজধানী হবে কুষ্টিয়া। আমরা সেই লক্ষে কাজ করে যাচ্ছি। শেখ হাসিনা সরকারের নেতৃত্বে কুষ্টিয়াকে সাংস্কৃতিক রাজধানী হিসেবে গড়ে তুলব।’
অনুষ্ঠানের সভাপতি সংস্কৃতিবিষয়কমন্ত্রী আসাদুজ্জান নূর বলেন, ‘পর্যটন কেন্দ্রের ধারণাটা শিলাইদহের সাথে যায় না। এটি যায় সংস্কৃতির সাথে। এখানে রবীন্দ্রনাথের টানেই মানুষ আসবে। সেটার সুযোগ নিয়ে কেউ পর্যটনের সুযোগ নিতে পারে। আমরা সংস্কৃতির দৃষ্টিকোণ থেকে কুঠিবাড়ীতে সুযোগ সুবিধা নির্মাণ করছি। ইতিমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে।’
অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন কুষ্টিয়া-৪ আসনের এমপি আব্দুর রউফ। স্মারক বক্তা হিসেবে কবিগুরুর জীবনদর্শন তুলে ধরেন কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর গবেষক ড. আবুল আহসান চৌধুরী।
এসময় এলাকার রবীন্দ্রপ্রেমীরা উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা শেষে রবীন্দ্রসঙ্গীতসহ পরিবেশন করেন শিল্পীরা।
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলা ভাষাকে পরিচিত করেছেন বিশ্বদরবারে। নিভৃত বাংলার প্রত্যন্ত অঞ্চল কুষ্টিয়ার শিলাইদহে কবির জীবনের বেশকিছু মূল্যবান সময় কেটেছে। নিরিবিলি পরিবেশ, জমিদারি দেখাশুনা আর ব্যবসার কারণে বার বার কুষ্টিয়ার এই কুঠিবাড়ীতে ফিরে আসতেন রবি ঠাকুর। এখানে বসেই তিনি রচনা করেন গীতাঞ্জলি। কুঠিবাড়ীতে সংরক্ষিত আছে সেসব দিনের নানা স্মৃতি।
কবির জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে এ অঞ্চলের রবীন্দ্রপ্রেমীরা কুঠিবাড়ীতে পরিপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন।