রাতব্যাপী ইবাদত বন্দেগি, কবরস্থানে ভিড়

আপডেট: 01:22:51 02/05/2018



img
img

স্টাফ রিপোর্টার : আল্লাহর নৈকট্য লাভ এবং গুনাহ থেকে ক্ষমা পেতে পবিত্র রাতে মসজিদ ও কবরস্থানগুলোতে ঢল নেমেছে মুসলিমদের। সারা দেশের বিভিন্ন স্থানে একই চিত্র- সারা রাত ইবাদত বন্দেগিতে কাটাচ্ছেন মানুষ।
যশোরে এই মর্যাদাপূর্ণ রজনীতে বিপুল সংখ্যক মানুষ হাজির হন শহরের প্রধান গোরস্থান কারবালা কবরস্থানে। সন্ধ্যার পর থেকে দলের দলে মানুষ যেতে থাকেন কারবালায়। সেখানে প্রয়াত প্রিয়জনের কবর জিয়ারত, তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া করেন মানুষ। নামাজ আদায় করেন কারবালা মসজিদে।
শহরের অন্যান্য কবরস্থানগুলোতেও একই চিত্র লক্ষ্য করা যায়। মসজিদগুলো ছিল নামাজিদের ভিড়ে কানায় কানায় পূর্ণ।
গোরস্থানে মানুষের সমাগম থাকায় বরাবরের মতো এবারো বিপুল সংখ্যক ভিখারির সমাবেশ ঘটে সেখানে। বিশেষ করে কারবালা কবরস্থানে যাওয়া-আসার পথে কয়েকশ' ভিখারিকে সারিবদ্ধভাবে বসে থাকতে দেখা যায়। কবর জিয়ারত ও নামাজ আদায়ে যাওয়া মানুষেরা এই রাতে দান-খয়রাত পছন্দ করেন।
এনটিভি জানায়, আল্লাহর নৈকট্য লাভ এবং গুনাহ থেকে ক্ষমা পেতে সারা দেশের মসজিদগুলোতে নফল এবাদত বন্দেগিতে মশগুল রয়েছেন ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা। নফল নামাজের পাশাপাশি কোরআন তেলাওয়াত, দোয়া ও মোনাজাত করে পরিবার, দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করছেন তারা।
মর্যাদাপূর্ণ শাবান মাসের মাঝামাঝি এ পবিত্র রজনীতে নফল এবাদত করার প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন আলেমরা। তবে শবেবরাতের সুনির্দিষ্ট কোনো নামাজ নেই।
বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদের পেশ ইমাম মুফতি মুহিউদ্দীন কাসেম বলেন, ‘আমরা এই রাতে অধিক এবাদত বন্দেগি করি। তবে সেই সাথে অবশ্যই লক্ষ্য রাখতে হবে, এবাদত করতে গিয়ে নিজেদের মনগড়া কোনো পদ্ধতি অবলম্বন করব না। যেইভাবে কোরআন এবং  হাদিসে এসেছে সেইভাবে আমরা এবাদত বন্দেগি করব। যেকোনো সুরা দিয়ে যেকোনোভাবে নামাজ পড়লেই হবে, কোনো সমস্যা নেই।’
এবাদত ছাড়া এ রাতে আতশবাজি কিংবা হালুয়া রুটির আয়োজনসহ যেকোনো জাকজমক আয়োজন করা সম্পূর্ণ নিষেধ করা হয়েছে ইসলামে।
মুফতি মুহিউদ্দীন কাসেম বলেন, ‘আমি এলাকার মাইক ব্যবহার করে এরকমভাবে জিকির করতে শুরু করব ওই এলাকায় যত মা-বোন আছে, ছোট বাচ্চা আছে সবার ঘুম হারাম হয়ে গেল, সকলের এবাদত বন্দেগি নষ্ট হয়ে গেল, এটা করা যাবে না। আতশবাজি ফুটিয়ে বা এই ধরনের চিল্লাচিল্লি এবাদতের বিঘ্ন ঘটানোর তো প্রশ্নই আসে না।’
মুফতি মুহিউদ্দীন কাসেম আরো বলেন, ‘মা-বোনদের দেখা যায়, এই রাতে হালুয়া-রুটি তৈরিতে তারা ব্যস্ত থাকে। ইসলামের সাথে এর একেবারেই সম্পর্ক নেই। যেটা এবাদত না, সেটাকে এবাদত মনে করলে অবশ্যই গুনাহ হবে।’
তবে এই রাতেই মানবজাতির ভাগ্য নির্ধারণ করা হয় এ বিষয়ে একমত নন আলেমরা।

আরও পড়ুন