রাতেই বাক্স ভরার ষড়যন্ত্র চলছে : মঞ্জু

আপডেট: 07:45:55 14/05/2018



img
img

খুলনা অফিস : খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু অভিযোগ করেছেন, সরকার কেসিসিতে ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ করছে। পুলিশের নেতৃত্বে রাতেই ব্যালট পেপারে সিল মেরে বাক্স ভরার ষড়যন্ত্র চলছে।
তিনি বলেন, একই সঙ্গে পুলিশ বিএনপির ভোট ব্যাংক এলাকায় ব্লক রেইডের নামে হিংস্র রূপে হানা দেওয়ারও পরিকল্পনা করেছে। মন্ত্রিপরিষদ এবং এমপি-মন্ত্রীসহ সিনিয়র নেতারাও এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। তার মতো (মঞ্জু) একজন রাজপথের কর্মীকে খোদ শেখ হাসিনার বিরুদ্ধেই লড়াই করতে হচ্ছে।
সোমবার দুপুরে দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে নজরুল ইসলাম মঞ্জু এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ বহিরাগতদের এনে শহরের হোটেল, রেস্ট হাউজ ও আবাসিক কোয়ার্টারসহ বিভিন্ন এলাকায় ভাগ ভাগ করে রেখেছে। এমনকি পুলিশের নামেও বিভিন্ন হোটেল বুকিং দেওয়া হয়েছে। ভোটের দিন এসব বহিরাগতরা বিভিন্ন ভোট কেন্দ্রে ঢুকে নিজেরা নিজেরা সংঘর্ষে লিপ্ত হবে। এরপর ভয়ে ভোটাররা কেন্দ্র ত্যাগ করলে তারা ব্যালট কেটে বাক্সে ঢুকাবে। এভাবে নানা ষড়যন্ত্র ও অপতৎপরতা চালিয়ে সরকার জনতার বিজয় ছিনিয়ে নিতে চায়।
এ অপতৎপরতা রূখে দিতে তিনি জনগণকে সাহসী ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
বিএনপি প্রার্থী বলেন, সরকার এবং নির্বাচন কমিশন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন দিতে পারে কি-না- এটি দেখতেই বিএনপি কেসিসি নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। একই সঙ্গে দলীয় চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার কারামুক্তি এবং জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনার আন্দোলনের অংশ হিসেবেই বিএনপি মাঠে রয়েছে। কিন্তু বিগত সাড়ে নয় বছরে প্রমাণিত হয়েছে বর্তমান সরকারের অধীনে কোনো অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়। যার সর্বশেষ আঘাত সরকার এবং পুলিশের দানবীয় ও ড্রাকুলার হিংস্র চেহারায় প্রতিফলিত হয়েছে।
তিনি তার ভাষায় পুলিশের হিংস্র ভূমিকায় ধিক্কার জানিয়ে বলেন, ‘‘পুলিশ এ পর্যন্ত বিএনপির ১৩৭ জন এবং বিরোধী জোটের শরিক দলের দশ নেতা-কর্মীকে গ্রেফতার করেছে। তবে, দলের সদস্য বাদে সমর্থকসহ এ সংখ্যা আড়াই শতাধিক। পুলিশ গ্রেফতারবাণিজ্য করেছে। দলের একজন অসুস্থ নেতাকে হাতকড়া পরিয়ে আবার ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দিয়েছে। এমনকি আমার পরিবারও পুলিশের হিংস্রতা থেকে রেহাই পায়নি। এসআই অচিন্ত্য ও বিপ্লবের নেতৃত্বে তিন গাড়ি পুলিশ আমার বাড়িতে গিয়ে স্ত্রী, ভাই-বোন ও স্বজনদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও ভয়ভীতি দেখিয়েছে। আমার ভাই কারণ জানতে চাইলে হুংকার দিয়ে পুলিশ বলেছে, ‘কথা বললেই কল্লা ছিড়ে ফেলবো।’’
তিনি এ ধরনের আচরণের তীব্র নিন্দা ও ঘৃণা প্রকাশ করে প্রশ্ন রাখেন- আওয়ামী লীগ একটি সিটি নির্বাচন করায়ত্ত করতে কোথায় যাচ্ছে? যে কোনো মূল্যে সরকারকে বিজয়ী হতেই হবে?
আওয়ামী লীগের তার ভাষায় হিংস্র চেহারা বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরতেই বিএনপি নির্বাচনের মাঠে থাকবে বলেও জানান তিনি।
নজরুল ইসলাম মঞ্জু অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ শহরে বিপুল অংকের কালো টাকা ছড়িয়েছে। বিশেষ করে বস্তি ও চর এলাকায় তারা ভোট কেনার চেষ্টা করছে। রোববার তাকে খালিশপুরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি অভিযোগ করে তিনি বলেন, চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও অস্ত্রধারীরা সেখানে মিছিল করেছে।
মঞ্জু বলেন, এতকিছুর পরও জনতার বিজয় হয়েছে। শেষ দিনের প্রচারণায় ইশারা-ইঙ্গিতে জনতা তার পক্ষে বিপুল সমর্থন ও রায় জানিয়ে দিয়েছে। এ বিষয়টি তাকে অভিভূত করেছে, নতুন করে অনুপ্রেরণা যুগিয়েছে।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের সঙ্গে আছে পুলিশ, পেশীশক্তি আর কালো টাকা। আর বিএনপির সঙ্গে রয়েছে জনগণ।
নাগরিক শাসন, সুশাসন, ভোটের অধিকার এবং সুন্দর শহর গড়তে তিনি ভোটারদের মঙ্গলবার সকালেই ভোট কেন্দ্রে গিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে এ নির্বাচনে অংশ গ্রহণের আহ্বান জানান।
প্রেস ব্রিফিংয়ে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা সমন্বয় কমিটির আহবায়ক ও প্রার্থীর প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট অ্যাডভাকেট এস এম শফিকুল আলম মনা, পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক সাহারুজ্জামান মোর্ত্তজা, সদস্য সচিব আমীর এজাজ খান, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য শেখ মুজিবর রহমান, সাবেক এমপি সৈয়দা নার্গিস আলী, বিজেপির মহানগর সভাপতি অ্যাডভাকেট লতিফুর রহমান লাবু, সাধারণ সম্পাদক সিরাজউদ্দিন সেন্টু, জেপি (জাফর) মহানগর সভাপতি মোস্তফা কামাল, খেলাফত মজলিসের মহানগর সাধারণ সম্পাদক মাওলানা নাসিরউদ্দিন, মুসলিম লীগের মহানগর সাধারণ সম্পাদক আক্তার জাহান রুকু, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি খান গোলাম রসুল, বিএনপি নেতা জাফরউল্লাহ খান সাচ্চু, ফখরুল আলম, অধ্যক্ষ তারিকুল ইসলাম, মনিরুজ্জামান মন্টু, শফিকুল আলম তুহিন, মনিরুজ্জামান মন্টু, আজিজুল হাসান দুলু, এহতেশামুল হক শাওনসহ ২০ দলীয় জোট, বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন