রাতে ভাঙছে সাধুসঙ্গ, ফাঁকা হচ্ছে আখড়াবাড়ি

আপডেট: 01:22:38 03/03/2018



img
img

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি : ‘সময় গেলে সাধন হবে না’। দোল পূর্ণিমা উপলক্ষে কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়ার লালন আখড়াবাড়িতে চলা তিনদিনব্যাপী লালন স্মরণোৎসব শেষ হচ্ছে আজ।
আজ শনিবার রাতে আখড়াবাড়ির মূল মঞ্চের আলোচনা সভায় খুলনা বিভাগীয় কমিশনার লোকমান হোসেন মিয়ার লালন স্মরণোৎসবের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করার কথা রয়েছে।
এদিকে, ইতিমধ্যে সাধু সঙ্গ শেষ হওয়ায় অতৃপ্ত ভারাক্রান্ত মন নিয়ে অধিকাংশরা লালনঅনুসারী আখড়াবাড়ি ছেড়ে গেছেন। বাড়িদের আজ সকাল থেকে গুরুকার্য শেষ করে অন্যদের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে লালনের তীর্থধাম ছাড়তে দেখা গেছে। তৃষ্ণার্ত মন নিয়ে যাবার সময়, পূর্ণতা সাধনের জন্য আবারো লালন স্মরণোৎসবে ফিরে আসার কথা জানিয়েছেন তারা।
শিষ্য আর অনুসারীদের খাঁটি করে গড়ে তুলতে বাউলসম্রাট ফকির লালন সাঁই জীবদ্দশায় ছেঁউড়িয়ার এই আখড়াবাড়িতে প্রতি বছর চৈত্রের দোলপূর্ণিমা রাতে বাউলদের নিয়ে সাধুসঙ্গ করতেন। অধিবাস, বাল্য, পুণ্যসেবাসহ নানা ধরনের আনুষ্ঠানিকতায় শিষ্যদের জ্ঞান দিতেন মহাগুরু লালন। ১২৯৭ বঙ্গাব্দের পয়লা কার্তিক তার তিরোধানের পরও এ উৎসব চালিয়ে আসছেন অনুসারীরা।
এবারো সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় লালন একাডেমির আয়োজনে তিনদিনব্যাপী এ স্মরণোৎসব শুরু হয় বৃহস্পতিবার। এবারও পথ প্রদর্শক লালনকে স্মরণ ও অবাধ্য মনকে শুদ্ধ করতে দেশ-বিদেশের হাজার হাজার লালন অনুসারী, ভক্ত অনুরাগী আর দর্শণার্থীরা এখন এই আখড়াবাড়িতে অবস্থান নিয়েছিলেন। লালনের রীতি অনুযায়ী বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় অধিবাস, পরদিন সকালে বাল্য ও দুপুরে পূর্ণ সেবার মধ্যদিয়ে সাধু সঙ্গ শেষ করে অনুসারীরা আখড়াবাড়ি ছাড়তে শুরু করে। যেখানে লালন অনুসারীরা খণ্ড খণ্ডভাবে বসে সাধুসঙ্গে অংশ নেন অডিটোরিয়ামের নিচে সেই জায়গা আজকে প্রায় ফাঁকা হয়ে গেছে। তবে আখড়াবাড়ির বাইরে কালিনদীর তীরে বাউল মেলা আজ রাত অবধি চলবে।