রাস্তায় পুলিশের কিশোরী নির্যাতনের ভিডিও ভাইরাল

আপডেট: 08:08:22 07/02/2018



img

সুবর্ণভূমি ডেস্ক : ঢাকায় রাস্তায় এক কিশোরীকে ফেলে পুলিশ সদস্যদের মারধরের একটি ভিডিও ইন্টারনেটে ভাইরাল হয়েছে।
মো. আতিকুর রহমান ফয়সাল নামে এক ব্যক্তি বুধবার ৩০ সেকেন্ডের ওই ভিডিও ইউটিউবে পোস্ট করেছেন। এতে দেখা যায়, সড়ক বিভাজকের কাছে রাস্তায় পড়ে থাকা কিশোরীকে একের পর এক চড় মারছেন একজন পুলিশ সদস্য। মেয়েটি ওই পুলিশ সদস্যের প্যান্ট ধরার চেষ্টা করছে। এক পর্যায়ে তার মাথার এক পাশে ধাক্কা দিয়ে এক দিকে ফেলে দেন ওই পুলিশ সদস্য।
এ সময় মেয়েটিকে ঘিরে রাখা আরো দুই পুলিশের একজন হেঁচকা টানে তাকে একদিকে তুলে আনেন। তখন তাদের সঙ্গে থাকা তৃতীয়জন ট্রাফিক পুলিশের সদস্য পাশে পড়ে থাকা ব্যাগ মেয়েটির হাতে দিয়ে রাস্তার একপাশে চলে যেতে বলে। তখন মেয়েটি আবার সড়ক বিভাজকের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করলে সেই পুলিশ সদস্য মেয়েটিকে বলেন ‘বাইরে যা’।
একপর্যায়ে মেয়েটি তার ব্যাগ নিয়ে সড়ক বিভাজকের দিকে গেলে এদিকে নজর দিয়ে ভিডিওধারণকারীর দিকে এগিয়ে আসেন পুলিশ সদস্যরা। তাদের একজন বলেন, “এই মিয়া, এই! ব্যাপার কি ভিডিও করতেছেন কেন?” জবাবে তিনি বলেন, “আপনেরা মারতেছেন। আমি ভিডিও করতেছি।”
পরে একজন পুলিশ সদস্য বলেন, “অই মিয়া যান। বেয়াদপ কোথাকার।” আরেকজন এগিয়ে এসে বলেন, “এই মিয়া এই মিয়া আপনি পাগল নাকি!”
ভিডিওটি পোস্টকারী ঘটনাস্থল ও এর সময় সম্পর্কে কিছু বলেননি। তবে ঘটনাটি বঙ্গভবনের সামনের রাস্তায় ঘটেছে বলে ভিডিওতে দেখা গেছে।  বুধবার দুপুরের দিকে ঘটনাটি ঘটেছে বলে পুলিশের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে জানিয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার মাসুদুর রহমান বলেন, “পুলিশ যে আচরণ করছে সেটা কাম্য নয়।”
ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইলে পুলিশের মতিঝিল বিভাগের শীর্ষ পর্যায়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, “ওই সময় রাষ্ট্রপতির মুভমেন্ট ছিল। ওই মেয়েটি রাস্তা থেকে সরছিল না। তাছাড়া তার কাছে একটা ব্যাগ ছিল, তাই বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল।”
ওই তিন পুলিশের মধ্যে মেয়েটিকে মারধরকারী দুই পুলিশ সদস্য প্রোরক্ষা বিভাগে নিয়োজিত জানিয়ে তিনি বলেন, পুলিশের সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তাদের বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত করেছেন।
এ ঘটনায় কারো বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না জানতে চাইলে ট্রাফিক পুলিশের উপ-কমিশনার (পূর্ব) মো. কামরুজ্জামান বলেন, “ভিডিওটি আমরা দেখেছি। এখানে ট্রাফিক পুলিশের কোনো দোষ নেই।”
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে পুলিশের প্রোরক্ষা বিভাগের উপ-কমিশনারের মোবাইলে কয়েকবার ফোন করলেও তার সাড়া পাওয়া যায়নি।
সূত্র : বিডিনিউজ

আরও পড়ুন